ব্যবহার
বেটামেথাসোন সোডিয়াম ফসফেট একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড)। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় চোখ, কান বা নাকের ড্রপ হিসেবে, কখনো নিওমাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে, যেসব ক্ষেত্রে:
- সংক্রমণ ছাড়া চোখের প্রদাহ, যেমন অ্যালার্জিক কনজাঙ্কটিভাইটিস ও চোখের অপারেশনের পর ফোলা।
- বাইরের কানের নালীর প্রদাহ ও একজিমা।
- নাকের অ্যালার্জি বা প্রদাহ, যেমন অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ও নাকের পলিপ।
গুরুতর অ্যালার্জি ও অন্যান্য গুরুতর প্রদাহজনিত রোগে এর ইনজেকশন ও ট্যাবলেটও ডাক্তারের নির্দেশমতো ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
বেটামেথাসোন শরীরের প্রদাহ ও অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া শান্ত করে। এতে আক্রান্ত জায়গার লালচে ভাব, ফোলা, চুলকানি ও ব্যথা কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- চোখ: সাধারণত শুরুতে প্রতি ২ থেকে ৪ ঘণ্টা পরপর আক্রান্ত চোখে ১ থেকে ২ ফোঁটা, উন্নতি হলে কমিয়ে আনা হয়, ডাক্তারের নির্দেশমতো।
- কান: সাধারণত দিনে ২ থেকে ৩ বার ২ থেকে ৩ ফোঁটা, ডাক্তারের নির্দেশমতো।
- নাক: মাথা পেছনে হেলিয়ে সাধারণত দিনে ২ থেকে ৩ বার প্রতি নাসারন্ধ্রে ২ থেকে ৩ ফোঁটা, ডাক্তারের নির্দেশমতো।
- ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স দেন। ট্যাবলেট শুধু ডাক্তারের নির্দেশমতো।
যত কম সময় প্রয়োজন তত কম সময় ব্যবহার করুন; ডাক্তারের পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া চোখের ড্রপ প্রায় এক সপ্তাহের বেশি ব্যবহার করবেন না। ব্যবহারের আগে ও পরে হাত ধুয়ে নিন এবং ড্রপারের মুখ কোথাও লাগাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ড্রপ: প্রতিক্রিয়া খুব কম; ভিন্ন চোখের ড্রপের মাঝে ৫ মিনিট বিরতি দিন। ট্যাবলেট ও ইনজেকশন: NSAID ব্যথানাশকে পাকস্থলীর ঘায়ের ঝুঁকি বাড়ে; স্টেরয়েড রক্তে শর্করা বাড়িয়ে ডায়াবেটিসের ঔষধের কাজ কমাতে পারে; ডাইইউরেটিকের সাথে পটাসিয়াম আরও কমে যেতে পারে; রিটোনাভির ও কিটোকোনাজল স্টেরয়েডের প্রভাব বাড়ায়; রিফামপিসিন, ফেনিটয়েন ও কার্বামাজেপিন প্রভাব কমায়; বেশি মাত্রার চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা এড়িয়ে চলতে হয়।
কারা খাবেন না
- ভাইরাস (যেমন হারপিস সিমপ্লেক্স বা জলবসন্ত), ছত্রাক বা যক্ষ্মাজনিত চোখের সংক্রমণ এবং চিকিৎসা না করা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ।
- অ্যান্টিবায়োটিকযুক্ত কানের ড্রপ: কানের পর্দা ফুটো বা ছিঁড়ে গেলে।
- ট্যাবলেট ও ইনজেকশন: চিকিৎসা না করা গুরুতর সংক্রমণ।
- বেটামেথাসোন বা অন্য কোনো উপাদানে অ্যালার্জি।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ড্রপ: ব্যবহারের পর অল্প জ্বালা বা কিছুক্ষণ ঝাপসা দেখা। চোখে দীর্ঘদিন বা বারবার ব্যবহারে চোখের চাপ বেড়ে যেতে পারে (গ্লুকোমা), ছানি পড়তে পারে, ক্ষত শুকাতে দেরি হতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। ট্যাবলেট ও ইনজেকশন, বিশেষ করে বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন: রক্তে শর্করা বাড়া, পেটের গোলমাল, মেজাজ ও ঘুমের পরিবর্তন, ওজন বাড়া, শরীরে পানি জমা, উচ্চ রক্তচাপ, হাড় পাতলা হওয়া ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়া।
চোখে ব্যথা, দৃষ্টির পরিবর্তন, লালচে ভাব বা পিঁচুটি বেড়ে গেলে, গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ, কালো পায়খানা বা রক্তবমি, মেজাজের বড় পরিবর্তন, অথবা উচ্চ জ্বরের মতো গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার পরামর্শ দিলে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় অল্প সময়ের জন্য ড্রপ সাধারণত গ্রহণযোগ্য। ট্যাবলেট ও ইনজেকশন শুধু ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে ব্যবহার করা হয়।
সতর্কতা
- রোগ নির্ণয় ছাড়া লাল চোখে এই ড্রপ দেবেন না; কিছু সংক্রমণ স্টেরয়েডে আরও খারাপ হয়।
- চোখে দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে নিয়মিত চোখের চাপ পরীক্ষা করান।
- চোখের ড্রপ দেওয়ার আগে কন্টাক্ট লেন্স খুলুন এবং অন্তত ১৫ মিনিট পর আবার পরুন।
- দীর্ঘদিন ট্যাবলেট খাওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
- ড্রপ অন্যের সাথে ভাগ করবেন না; ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, পাকস্থলীর ঘা বা গ্লুকোমা থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
কয়েক ফোঁটা বেশি দিলে ক্ষতির সম্ভাবনা কম। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় ট্যাবলেট খেলে মুখ গোল হওয়া, ওজন বাড়া ও রক্তে শর্করা বাড়ার মতো স্টেরয়েডজনিত সমস্যা হতে পারে। বেশি পরিমাণে গিলে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কর্টিকোস্টেরয়েড (প্রদাহরোধী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে রাখুন। বোতল ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং চোখ, কান বা নাকের ড্রপ খোলার ৪ সপ্তাহ পর ফেলে দিন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।