ব্যবহার
বেথানেকল ক্লোরাইড প্রস্রাব আটকে যাওয়া (ইউরিনারি রিটেনশন) এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যখন মূত্রথলি ঠিকমতো খালি হয় না, বিশেষ করে অস্ত্রোপচার বা প্রসবের পর, অথবা স্নায়ুর সমস্যার কারণে মূত্রথলির পেশি দুর্বল হলে। মূত্রনালীতে কোনো বাধা না থাকলেই এটি ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
বেথানেকল একটি কোলিনার্জিক ঔষধ: এটি প্যারাসিম্প্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের প্রাকৃতিক বার্তাবাহক অ্যাসিটাইলকোলিনের মতো কাজ করে। এটি মূত্রথলির দেয়ালের মাসকারিনিক রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে, ফলে পেশি জোরে সংকুচিত হয় এবং প্রস্রাব বের হয়। এটি পাকস্থলী ও অন্ত্রের নড়াচড়াও বাড়ায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা ১০ থেকে ৫০ mg, দিনে ৩ বা ৪ বার মুখে, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। চিকিৎসক কম মাত্রা দিয়ে শুরু করে ধাপে ধাপে বাড়াতে পারেন। বমিভাব কমাতে খালি পেটে, অর্থাৎ খাওয়ার ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে খান। শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- নিওস্টিগমিন, পাইরিডোস্টিগমিন বা ডোনেপেজিলের মতো অন্য কোলিনার্জিক ঔষধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।
- অ্যাট্রোপিন, অক্সিবাটাইনিন, টোলটেরোডিন বা কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন ও বিষণ্ণতারোধীর মতো অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- গ্যাঙ্গলিওন ব্লকিং রক্তচাপের ঔষধের সাথে খেলে রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে।
কারা খাবেন না
- মূত্রথলির মুখ বা অন্ত্রে বাধা, অথবা সম্প্রতি মূত্রথলি বা অন্ত্রের অস্ত্রোপচার
- হাঁপানি বা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের বাধাজনিত রোগ
- হৃৎস্পন্দন কম, হৃদরোগ, খুব নিম্ন রক্তচাপ
- থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা, সক্রিয় পেপটিক আলসার, মৃগী বা পারকিনসন্স রোগ
- বেথানেকলে অ্যালার্জি
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- ঘাম, মুখ লাল হওয়া, লালা ও চোখের পানি বেশি হওয়া
- পেট মোচড়ানো, বমিভাব, ঢেঁকুর, ডায়রিয়া
- ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ
- মাথাব্যথা, দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা
শ্বাসে সোঁ সোঁ শব্দ বা শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হওয়া, খুব ধীর হৃৎস্পন্দন বা তীব্র পেটব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এর নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়; চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই ব্যবহার করুন। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই, তাই দুধ খাওয়ানোর আগে চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করুন।
সতর্কতা
- শুরুর আগে চিকিৎসকের নিশ্চিত হওয়া উচিত যে মূত্রনালীতে কোনো বাধা নেই।
- দাঁড়ালে মাথা ঘুরতে পারে, তাই ধীরে উঠুন।
- বয়স্করা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন।
- ডোজের পরও প্রস্রাব না হলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে তীব্র কোলিনার্জিক প্রভাব হয়: অতিরিক্ত ঘাম, লালা পড়া, পেট মোচড়ানো, বমি, ডায়রিয়া, ধীর হৃৎস্পন্দন, নিম্ন রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্ট। জরুরি চিকিৎসা নিন; হাসপাতালে প্রতিষেধক হিসেবে অ্যাট্রোপিন দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কোলিনার্জিক এগোনিস্ট (প্যারাসিম্প্যাথোমিমেটিক), প্রস্রাব আটকে যাওয়ার ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।