ব্যবহার
বেক্সাগ্লিফ্লোজিন একটি ট্যাবলেট, যা প্রাপ্তবয়স্কদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পাশাপাশি রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। টাইপ ১ ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে এটি ব্যবহার করা হয় না।
কীভাবে কাজ করে
কিডনিতে এসজিএলটি২ নামের একটি বাহক প্রোটিন প্রস্রাব থেকে সুগার আবার রক্তে ফিরিয়ে নেয়। বেক্সাগ্লিফ্লোজিন এই বাহককে বাধা দেয়, ফলে বাড়তি সুগার প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায় এবং রক্তের সুগার কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা দিনে একবার সকালে ২০ mg, খাবারের আগে বা পরে। ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান। ভালো বোধ করলেও প্রতিদিন খেয়ে যান এবং খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম চালিয়ে যান। কিডনির কার্যক্ষমতা খুব কম হলে (eGFR ৩০ এর নিচে) এটি সুপারিশ করা হয় না, তাই চিকিৎসক আগে ও চিকিৎসা চলাকালে কিডনি পরীক্ষা করবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ইনসুলিন ও সালফোনাইলইউরিয়া যেমন গ্লিক্লাজাইড বা গ্লিমেপিরাইড: সুগার অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে; এদের মাত্রা কমাতে হতে পারে।
- ডাইইউরেটিক যেমন ফ্রুসেমাইড: শরীর থেকে পানি বেশি বেরিয়ে মাথা ঘোরা বাড়তে পারে।
- রিফাম্পিসিন ও অনুরূপ ঔষধ: বেক্সাগ্লিফ্লোজিনের কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- লিথিয়াম: রক্তে লিথিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে।
কারা খাবেন না
বেক্সাগ্লিফ্লোজিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে, অথবা ডায়ালাইসিস চললে এটি খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে যৌনাঙ্গে ছত্রাক সংক্রমণ, প্রস্রাবের সংক্রমণ, বেশি প্রস্রাব হওয়া, পিপাসা বাড়া এবং রক্তচাপ কমে মাথা ঘোরা, বিশেষ করে বয়স্কদের।
বমিভাব, বমি, পেটব্যথা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট (সম্ভাব্য কিটোঅ্যাসিডোসিস, যা সুগার স্বাভাবিক থাকলেও হতে পারে), যৌনাঙ্গ বা মলদ্বারের আশেপাশে জ্বরসহ তীব্র ব্যথা বা ফোলা, কিডনি সংক্রমণের লক্ষণ, অজ্ঞান হওয়া বা গুরুতর অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এটি সুপারিশ করা হয় না, কারণ শিশুর কিডনির ক্ষতি হতে পারে; বিকল্প চিকিৎসা নিয়ে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
পর্যাপ্ত পানি পান করুন; বয়স্ক হলে, ডাইইউরেটিক খেলে বা রক্তচাপ কম থাকলে বাড়তি সতর্ক থাকুন। অপারেশনের আগে, গুরুতর অসুস্থতায় বা খেতে না পারলে চিকিৎসক এটি বন্ধ রাখতে পারেন। যৌনাঙ্গ পরিষ্কার রাখুন। প্রতিদিন পা পরীক্ষা করুন এবং ঘা বা সংক্রমণ দেখলে জানান। অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে প্রচুর প্রস্রাব, পানিশূন্যতা ও রক্তচাপ কমে যেতে পারে। চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডায়াবেটিস প্রতিরোধী ঔষধ: এসজিএলটি২ ইনহিবিটর।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।