ব্যবহার
বিসাকোডিল একটি উদ্দীপক জোলাপ, যা অল্প সময়ের জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য উপশমে ব্যবহৃত হয়। এক্স-রে, কোলনোস্কোপি (ক্যামেরা দিয়ে অন্ত্র পরীক্ষা) বা অস্ত্রোপচারের আগে হাসপাতালের নির্দেশমতো অন্ত্র খালি করতেও এটি ব্যবহৃত হয়। এটি ট্যাবলেট (সাধারণত এন্টেরিক কোটেড) ও সাপোজিটরি আকারে পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
বিসাকোডিল সরাসরি বৃহদন্ত্রের আস্তরণে কাজ করে। এটি অন্ত্রের দেয়ালের স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে পেশির নড়াচড়া বাড়ায়, যা মলকে সামনে এগিয়ে দেয়, এবং অন্ত্রে পানি টেনে এনে মল নরম করে। ট্যাবলেট সাধারণত ৬ থেকে ১২ ঘণ্টায় এবং সাপোজিটরি ১৫ থেকে ৬০ মিনিটে কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও ১০ বছরের বেশি বয়সী শিশু: ট্যাবলেট ৫ থেকে ১০ mg দিনে একবার, সাধারণত রাতে শোয়ার আগে, যাতে পরদিন সকালে মলত্যাগ হয়। ট্যাবলেট পুরো গিলে খান; গুঁড়ো করবেন না বা চিবাবেন না, এবং দুধ, অ্যান্টাসিড বা এসিড কমানোর ঔষধের ১ ঘণ্টার মধ্যে খাবেন না। সাপোজিটরি: ১০ mg মলদ্বারে দিনে একবার, সাধারণত সকালে। ১০ বছরের কম বয়সী শিশু এবং পরীক্ষার আগে অন্ত্র খালি করার ক্ষেত্রে শুধু চিকিৎসকের নির্দেশমতো ব্যবহার করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টানা ৫ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
দুধ, অ্যান্টাসিড ও ওমিপ্রাজল বা রানিটিডিনের মতো এসিড কমানোর ঔষধ ট্যাবলেটের আবরণ আগেই গলিয়ে পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া ঘটাতে পারে। ডাইইউরেটিক বা প্রেডনিসোলোনের মতো স্টেরয়েডের সাথে নিলে পটাশিয়াম কমার ঝুঁকি বাড়ে। পটাশিয়াম কমলে ডিগক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
অন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে, অজানা কারণে পেটে তীব্র ব্যথা, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, সক্রিয় ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ, তীব্র পানিশূন্যতা বা বিসাকোডিলে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না। মলদ্বারে ফাটল (এনাল ফিসার) বা ব্যথাযুক্ত ফোলা অর্শ থাকলে সাপোজিটরি ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে পেটে মোচড়, পেটে ব্যথা, বমিভাব ও ডায়রিয়া। সাপোজিটরিতে মলদ্বারে জ্বালা বা অস্বস্তি হতে পারে। দীর্ঘদিন বা বেশি ব্যবহারে শরীর থেকে পানি ও পটাশিয়ামের মতো লবণ কমে যেতে পারে এবং জোলাপের ওপর নির্ভরতা তৈরি হতে পারে।
পেটে তীব্র বা না কমা ব্যথা, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, কালো বা রক্তমিশ্রিত মল, পানিশূন্যতার লক্ষণ (মাথা ঘোরা, খুব কম প্রস্রাব, তীব্র তৃষ্ণা), পেশি দুর্বলতা বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অথবা গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্যে আগে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও আঁশযুক্ত জোলাপ চেষ্টা করা হয়। চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শে অল্প সময়ের জন্য বিসাকোডিল ব্যবহার করা যেতে পারে। খুব সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায় এবং অল্প সময়ের ব্যবহারে এটি সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানোর সাথে উপযোগী বলে মনে করা হয়।
সতর্কতা
প্রচুর পানি পান করুন এবং আঁশযুক্ত খাবার খান। দীর্ঘদিন নিয়মিত জোলাপ ব্যবহার করবেন না। কোষ্ঠকাঠিন্য ২ সপ্তাহের বেশি থাকলে, বারবার হলে বা ওজন কমা ও মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তনের সাথে হলে চিকিৎসকের কাছে যান। কোঁথ দেওয়া বা পেটের মোচড়ে কেউ কেউ অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন, তাই সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি বিসাকোডিলে ডায়রিয়া, মোচড় এবং পানি ও লবণ কমে যাওয়া হয়, যা বয়স্ক ও শিশুদের জন্য গুরুতর হতে পারে। পানি পান করুন ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে চিকিৎসা লাগতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
উদ্দীপক জোলাপ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সাপোজিটরি গলে যাওয়া ঠেকাতে ২৫°C এর নিচে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।