ব্যবহার
বিসমাথ সাবসাইট্রেট (কলয়েডাল বিসমাথ সাবসাইট্রেট বা ট্রাইপটাসিয়াম ডাইসাইট্রেটোবিসমাথেট নামেও পরিচিত) পাকস্থলী ও ডিওডেনামের ঘা (আলসার) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অ্যান্টিবায়োটিক ও এসিড কমানোর ঔষধের সাথে মিলিয়ে এটি হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নির্মূলেও ব্যবহৃত হয়; এই ব্যাকটেরিয়া অনেক আলসার ও দীর্ঘমেয়াদি পাকস্থলীর প্রদাহের কারণ।
কীভাবে কাজ করে
পাকস্থলীর এসিডে বিসমাথ সাবসাইট্রেট একটি সুরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করে, যা ঘায়ের গোড়ায় লেগে থাকে এবং সেরে ওঠার সময় এসিড ও হজমি এনজাইম থেকে রক্ষা করে। এটি পাকস্থলীর আস্তরণের নিজস্ব সুরক্ষা (মিউকাস ও বাইকার্বনেট) বাড়ায় এবং হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরিকে সরাসরি ধ্বংস করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সেবন করুন। আলসারের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা দিনে ৪ বার ১২০ mg (তিন বেলা মূল খাবারের ৩০ মিনিট আগে ও শোয়ার সময়) অথবা দিনে ২ বার ২৪০ mg (সকালের ও রাতের খাবারের ৩০ মিনিট আগে), সাধারণত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ। একটনা ৮ সপ্তাহের বেশি খাবেন না। হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরির জন্য অন্য ঔষধের সাথে ১০ থেকে ১৪ দিন চিকিৎসকের নির্দেশ মতো খেতে হয়। পানি দিয়ে ট্যাবলেট গিলে খান। সেবনের ৩০ মিনিট আগে বা পরে দুধ, অ্যান্টাসিড বা খাবার খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যান্টাসিড, দুধ ও খাবার এর কার্যকারিতা কমায়; অন্তত ৩০ মিনিট ব্যবধান রাখুন।
- একই সময়ে খাওয়া টেট্রাসাইক্লিন অ্যান্টিবায়োটিক, আয়রন ও কিছু অন্য ঔষধের শোষণ কমাতে পারে; বিশেষ করে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরির চিকিৎসায় চিকিৎসকের দেওয়া সময়সূচি মেনে চলুন।
- শরীরে বেশি বিসমাথ জমা এড়াতে একই সময়ে অন্য বিসমাথযুক্ত পণ্য খাবেন না।
কারা খাবেন না
- বিসমাথ বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- কিডনির গুরুতর সমস্যা থাকলে।
- গর্ভাবস্থায়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত পায়খানা কালো হয়ে যায় এবং জিহ্বা কালচে হতে পারে; এটি ক্ষতিকর নয় এবং ঔষধ বন্ধ করলে চলে যায়। অন্যান্য প্রভাবের মধ্যে বমিভাব, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও হালকা মাথাব্যথা হতে পারে। দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত ব্যবহারে শরীরে বিসমাথ জমে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলতে পারে (বিভ্রান্তি, টলমলে ভাব, পেশি কাঁপা)।
রক্তবমি বা কফির গুঁড়ার মতো বমি, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার সাথে কালো আঠালো পায়খানা (যা ক্ষতিহীন রঙের পরিবর্তন না হয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে), বিভ্রান্তি, হাঁটতে বা কথা বলতে সমস্যা, অথবা ফোলা বা শ্বাসকষ্টসহ তীব্র অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় বিসমাথ সাবসাইট্রেট ব্যবহার করা উচিত নয়। বুকের দুধে কতটা যায় তা জানা নেই, তাই চিকিৎসক অন্যভাবে না বললে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত এটি এড়িয়ে চলা হয়।
সতর্কতা
- ৮ সপ্তাহের বেশি বা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি খাবেন না।
- কিডনির কার্যক্ষমতা কম থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- ওজন কমে যাওয়া, গিলতে কষ্ট বা বারবার বমির মতো সতর্ক লক্ষণ থাকলে শুরুর আগে চিকিৎসককে জানান, কারণ এগুলোর পরীক্ষা দরকার।
- সাধারণত শিশুদের জন্য সুপারিশ করা হয় না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন মাত্রাতিরিক্ত সেবনে কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। বেশি খেয়ে ফেললে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আলসার সারানোর ঔষধ, পাকস্থলীর আস্তরণ সুরক্ষাকারী (বিসমাথ যৌগ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।