ব্যবহার
বিসমাথ সাবগ্যালেট প্রধানত পাইলস (অর্শ) ও মলদ্বারের হালকা জ্বালাপোড়ার ক্রিম, মলম ও সাপোজিটরিতে ব্যবহৃত হয়। এটি জায়গাটিকে আরাম দেয়, সুরক্ষা দেয় এবং হালকা রস ঝরা ও চুলকানি কমায়। স্টোমা আছে এমন রোগীদের মল বা বায়ুর দুর্গন্ধ কমাতে কখনো কখনো এটি মুখেও খাওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
বিসমাথ সাবগ্যালেট একটি অ্যাস্ট্রিনজেন্ট, অর্থাৎ এটি জ্বালাযুক্ত টিস্যুকে সংকুচিত ও শুষ্ক করে এবং তার ওপর একটি সুরক্ষা স্তর তৈরি করে। এর হালকা জীবাণুনাশক ও দুর্গন্ধনাশক গুণও আছে। ত্বক বা মলদ্বারের আবরণ দিয়ে খুব সামান্যই শরীরে শোষিত হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী মলম লাগান বা একটি সাপোজিটরি ব্যবহার করুন, সাধারণত মলত্যাগের পর ও রাতে ঘুমানোর আগে, প্রয়োজনে দিনে আরও এক বা দুইবার। আগে জায়গাটি পরিষ্কার করে আলতোভাবে শুকিয়ে নিন এবং ব্যবহারের পর হাত ধুয়ে নিন। মুখে খাওয়ার প্রস্তুতি হলে শুধু লেবেল বা চিকিৎসকের নির্দেশমতো খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
বাহ্যিক ব্যবহারে প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একই সময়ে মলদ্বারে অন্য কোনো ঔষধ ব্যবহার করবেন না।
কারা খাবেন না
বিসমাথ লবণ বা প্রস্তুতির কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- জায়গাটিতে হালকা জ্বালা, চুলকানি বা অস্বস্তি
- ত্বকে অ্যালার্জি (বিরল)
- মুখে খেলে মল ও জিহ্বা কালচে হতে পারে, যা ক্ষতিকর নয়
মলদ্বার দিয়ে বেশি রক্তপাত, তীব্র ব্যথা, জ্বর অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অল্প সময়ের বাহ্যিক ব্যবহার সাধারণত কম ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয় কারণ খুব কম শোষিত হয়, তবে গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। গর্ভাবস্থায় দীর্ঘদিন মুখে খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
- ৭ দিনের মধ্যে উন্নতি না হলে বা রক্তপাত হলে চিকিৎসকের কাছে যান, কারণ এগুলো অন্ত্রের অন্য রোগের লক্ষণ হতে পারে।
- দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে মুখে খাবেন না; অতিরিক্ত বিসমাথ বিরল ক্ষেত্রে স্নায়ু ও মস্তিষ্কের সমস্যা করতে পারে।
- মুখে খাওয়ার জন্য লেবেল করা না থাকলে শুধু বাহ্যিক বা মলদ্বারে ব্যবহারের জন্য।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বাহ্যিক ব্যবহারে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে মুখে খেলে বিভ্রান্তি, কাঁপুনি বা টলমল হাঁটার মতো বিসমাথ বিষক্রিয়া হতে পারে; চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যাস্ট্রিনজেন্ট ও সুরক্ষাদানকারী উপাদান (অর্শরোধী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সাপোজিটরি গলে না যায় সেজন্য ঠান্ডা জায়গায় রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।