ব্যবহার
করলা (মমরডিকা ক্যারান্টিয়া, ইংরেজিতে বিটার মেলন) একটি সবজি, যার ফলের নির্যাস ভেষজ সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আয়ুর্বেদিক, ইউনানি ও লোকজ চিকিৎসায় প্রচলিতভাবে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করা কমাতে এবং ক্ষুধামন্দা, বদহজম ও কিছু ত্বকের সমস্যায় এটি ব্যবহৃত হয়। কিছু ছোট গবেষণায় রক্তে শর্করা সামান্য কমতে দেখা গেছে, তবে প্রমাণ মিশ্র এবং এটি চিকিৎসকের দেওয়া ডায়াবেটিসের ঔষধের বিকল্প নয়।
কীভাবে কাজ করে
করলায় চ্যারান্টিন, পলিপেপটাইড-পি (কখনো কখনো উদ্ভিজ্জ ইনসুলিন বলা হয়) ও ভাইসিনের মতো উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। এগুলো শরীরের কোষকে রক্ত থেকে শর্করা গ্রহণে সাহায্য করতে, লিভার থেকে শর্করা নিঃসরণ কমাতে এবং অন্ত্র থেকে শর্করা শোষণ ধীর করতে পারে, ফলে রক্তে শর্করা কমতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করুন। সাপ্লিমেন্ট সাধারণত দিনে এক বা দুইবার খাবারের সাথে খাওয়া হয়। ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন, বিশেষ করে শুরু করার সময় বা মাত্রা বদলালে। স্বাভাবিক পরিমাণে সবজি হিসেবে করলা খাওয়া বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- মেটফরমিন, গ্লিক্লাজাইড, গ্লিমেপিরাইড বা ইনসুলিনের মতো ডায়াবেটিসের ঔষধ: রক্তে শর্করা অনেক কমে যেতে পারে। চিকিৎসককে মাত্রা পরিবর্তন করতে হতে পারে।
- মেথি বা গুড়মারুর মতো রক্তে শর্করা কমানো অন্য ভেষজ: প্রভাব বেড়ে যায়।
- লিভারে ভাঙে এমন ঔষধ: করলা লিভারের কিছু এনজাইমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে; ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।
আপনি যেসব ঔষধ ও ভেষজ পণ্য খান, সবগুলোর কথা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- গর্ভবতী বা গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন এমন নারী।
- স্তন্যদানকারী মা।
- শিশু।
- জি৬পিডি ঘাটতি (লোহিত কণিকার একটি বংশগত এনজাইম সমস্যা) থাকলে, কারণ বীজে ভাইসিন থাকে, যা লোহিত কণিকা ভেঙে দিতে পারে।
- রক্তে শর্করা কম থাকলে।
- করলা বা একই পরিবারের উদ্ভিদে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা এবং রক্তে শর্করা কমে যাওয়া (কাঁপুনি, ঘাম, ক্ষুধা, বুক ধড়ফড়, বিভ্রান্তি) হতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে খেলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে।
চিনি খাওয়ার পরেও না কমা খুব কম রক্তশর্করার লক্ষণ, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হওয়া বা খিঁচুনি, তীব্র পেট ব্যথা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় রঙের প্রস্রাব, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ঔষধ হিসেবে করলা ব্যবহার করবেন না, কারণ এটি রক্তপাত, জরায়ুর সংকোচন ও গর্ভপাত ঘটাতে পারে। নিরাপত্তা জানা না থাকায় বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডায়াবেটিসের ঔষধ বন্ধ বা কমাবেন না।
- পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে সেবন বন্ধ করুন, কারণ এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে।
- করলার চা খাওয়ার পর শিশুদের মারাত্মকভাবে রক্তে শর্করা কমে খিঁচুনি হওয়ার ঘটনা আছে; পণ্যটি শিশুদের থেকে দূরে রাখুন।
- লিভারের রোগ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তে শর্করা অনেক কমে যেতে পারে, এবং বমি, ডায়রিয়া ও পেট ব্যথা হতে পারে। কারো রক্তে শর্করা কমে গেলে তিনি গিলতে পারলে চিনি, জুস বা মিষ্টি পানীয় দিন এবং সাথে সাথে চিকিৎসা নিন। হাসপাতালে প্যাকেটটি সাথে নিয়ে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভেষজ সাপ্লিমেন্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।