ব্যবহার
ব্লাড গ্লুকোজ মনিটরিং ডিভাইস (গ্লুকোমিটার) দিয়ে আঙুলের ডগা থেকে এক ফোঁটা রক্ত নিয়ে বাড়িতে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা মাপা হয়। নিয়মিত মাপলে আপনি ও আপনার ডাক্তার খাবার, ব্যায়াম ও ঔষধ ঠিক করতে পারেন এবং শর্করা কমা বা বাড়া আগেই ধরা পড়ে। এটি পর্যবেক্ষণের যন্ত্র, ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য নয়।
কীভাবে কাজ করে
মিটারে একটি একবার ব্যবহারযোগ্য টেস্ট স্ট্রিপ ঢোকানো হয়। স্ট্রিপে রক্ত লাগলে সেখানকার এনজাইম রক্তের শর্করার সাথে বিক্রিয়া করে খুব সামান্য বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি করে। মিটার এই সংকেত মেপে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রা দেখায়, সাধারণত mmol/L বা mg/dL এককে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ব্যবহারের নিয়ম (সবসময় মিটারের সাথে দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলুন):
- সাবান ও কুসুম গরম পানিতে হাত ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
- মিটারে নতুন টেস্ট স্ট্রিপ ঢোকান।
- নতুন ল্যানসেটসহ ল্যানসিং ডিভাইস দিয়ে আঙুলের ডগার পাশে ফুটো করুন।
- স্ট্রিপ ভরা পর্যন্ত রক্তের ফোঁটা স্পর্শ করান, তারপর ফলাফল দেখুন।
- তারিখ, সময় ও খাওয়ার আগে না পরে তা সহ ফলাফল লিখে বা সংরক্ষণ করুন।
- কতবার মাপবেন তা চিকিৎসার উপর নির্ভর করে; ডাক্তারের পরামর্শ মানুন। ইনসুলিন নিলে সাধারণত বেশি বার মাপতে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কিছু কারণে ভুল ফলাফল আসতে পারে: অপরিষ্কার বা ভেজা আঙুল, মেয়াদোত্তীর্ণ বা স্যাঁতসেঁতে স্ট্রিপ, অন্য মিটারের স্ট্রিপ, কম রক্ত, খুব গরম বা ঠাণ্ডা ঘর, পানিশূন্যতা এবং লোহিত কণিকার মাত্রা খুব বেশি বা কম। কিছু স্ট্রিপের ক্ষেত্রে বেশি মাত্রার ভিটামিন সি, প্যারাসিটামল বা হাসপাতালে স্যালাইনে দেওয়া কিছু শর্করা (যেমন মাল্টোজ) ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। স্ট্রিপের লিফলেট দেখুন।
কারা খাবেন না
- ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য নয়; নির্ণয়ে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা লাগে।
- শকে থাকা, তীব্র পানিশূন্যতা বা খুব খারাপ রক্তসঞ্চালনে ফলাফল ভুল হতে পারে, তাই উপযুক্ত নয়।
- ডিভাইসে উল্লেখ না থাকলে নবজাতকের জন্য নয়।
- ল্যানসেট ও ল্যানসিং ডিভাইস কখনও অন্যের সাথে ভাগ করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
আঙুলের ডগা কিছুটা ব্যথা বা হালকা কালশিটে হতে পারে। আঙুল বদলে এবং মাঝখানে না করে পাশে ফুটো করলে কম হয়। ভাগ করা বা আবার ব্যবহার করা ল্যানসেটে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
ফলাফল খুব কম (প্রায় ৪ mmol/L বা ৭০ mg/dL এর নিচে) আসলে এবং কাঁপুনি, ঘাম, বিভ্রান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব থাকলে ও চিনি খাওয়ার পরেও ভালো না হলে, অথবা ফলাফল খুব বেশি (যেমন প্রায় ১৬.৭ mmol/L বা ৩০০ mg/dL এর বেশি, বা মিটারে HI দেখালে) হলে এবং সাথে বমি, ঘুম ঘুম ভাব, গভীর শ্বাস বা বিভ্রান্তি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। কেউ অজ্ঞান হলে জরুরি সাহায্যে ফোন করুন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস থাকলে (গর্ভকালীন ডায়াবেটিসসহ) প্রায়ই দিনে কয়েকবার মাপতে হয়; ডাক্তারের ঠিক করে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা মেনে চলুন।
সতর্কতা
শুধু আপনার মিটারের জন্য তৈরি স্ট্রিপ ব্যবহার করুন এবং মেয়াদ দেখে নিন। নতুন স্ট্রিপের প্যাক খুললে, মিটার পড়ে গেলে, বা ফলাফল আপনার অনুভূতির সাথে না মিললে কন্ট্রোল সলিউশন দিয়ে মিটার যাচাই করুন। সঠিক তারিখ, সময় ও একক ঠিক করুন। একটি অপ্রত্যাশিত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ঔষধের মাত্রা বদলাবেন না; আবার পরীক্ষা করুন এবং ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। ব্যবহৃত ল্যানসেট শক্ত কৌটায় ফেলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
এটি পরীক্ষার যন্ত্র, তাই প্রযোজ্য নয়। ফলাফলে শর্করা কম বা বেশি দেখালে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অংশের পরামর্শ ও আপনার ডায়াবেটিস চিকিৎসা পরিকল্পনা মেনে চলুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
চিকিৎসা সরঞ্জাম: ডায়াবেটিস নিজে পর্যবেক্ষণের ব্লাড গ্লুকোজ মিটার।
সংরক্ষণ
মিটার ও স্ট্রিপ ৩০°C এর নিচে ঠাণ্ডা, শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন; জমাবেন না এবং বাথরুম বা গাড়িতে রাখবেন না। স্ট্রিপ নেওয়ার পরপরই কৌটার মুখ বন্ধ করুন এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ব্যবহার করুন। ল্যানসেট শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।