ব্যবহার
ব্রিনজোলামাইড চোখের ড্রপ ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা বা অকুলার হাইপারটেনশন (স্নায়ুর ক্ষতি ছাড়াই চোখের চাপ বেশি) থাকলে চোখের ভেতরের বাড়তি চাপ কমাতে ব্যবহার হয়। চাপ কমলে চোখের স্নায়ু ও দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত থাকে। এটি একা বা গ্লুকোমার অন্য ড্রপের সাথে ব্যবহার করা যায়।
কীভাবে কাজ করে
ব্রিনজোলামাইড চোখে কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ নামের একটি এনজাইমকে বাধা দেয়। এতে চোখে তরল (অ্যাকুয়াস হিউমার) কম তৈরি হয়, ফলে চোখের ভেতরের চাপ কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ১% সাসপেনশনের ১ ফোঁটা আক্রান্ত চোখে দিনে দুইবার; কারও কারও দিনে তিনবার লাগে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। প্রতিবার ব্যবহারের আগে বোতল ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। হাত ধুয়ে মাথা পেছনে হেলিয়ে নিচের পাতা টেনে এক ফোঁটা দিন, ড্রপারের মাথা যেন চোখে না লাগে। এরপর চোখ বন্ধ করে ভেতরের কোণে ১ থেকে ২ মিনিট আলতো চেপে রাখুন। অন্য চোখের ড্রপ ব্যবহার করলে মাঝে অন্তত ৫ মিনিট ব্যবধান রাখুন। প্রতিদিন ব্যবহার করুন; গ্লুকোমায় সাধারণত কোনো উপসর্গ থাকে না, তাই ডাক্তারকে না জিজ্ঞেস করে বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যাসিটাজোলামাইডের মতো কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ ইনহিবিটর ট্যাবলেটের সাথে ব্যবহার করবেন না, কারণ প্রভাব যোগ হয়ে যায়। বেশি মাত্রার অ্যাসপিরিন (স্যালিসাইলেট) পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে। অন্য চোখের ড্রপসহ সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- ব্রিনজোলামাইড বা ড্রপের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- সালফোনামাইড (সালফা) জাতীয় ঔষধে এলার্জি থাকলে।
- কিডনির গুরুতর রোগ থাকলে।
- হাইপারক্লোরেমিক অ্যাসিডোসিস (রক্তে এক ধরনের অ্যাসিড জমা) থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ড্রপ দেওয়ার পর অল্প সময় ঝাপসা দেখা, মুখে তেতো বা অস্বাভাবিক স্বাদ, চোখে অস্বস্তি, লাল হওয়া, শুষ্কতা বা চুলকানি এবং মাথাব্যথা।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি: চামড়ায় গুরুতর প্রতিক্রিয়া (ছড়িয়ে পড়া ফুসকুড়ি, ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়া), এলার্জির লক্ষণ (মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট), চোখে তীব্র ব্যথা, ফোলা, পুঁজ বা হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন দেখা দেয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় সাধারণত সুপারিশ করা হয় না, যদি না ডাক্তার মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি। বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
ড্রপে বেনজালকোনিয়াম ক্লোরাইড নামের প্রিজারভেটিভ থাকতে পারে যা নরম কন্টাক্ট লেন্সে জমে; ড্রপ দেওয়ার আগে লেন্স খুলে নিন এবং অন্তত ১৫ মিনিট পর আবার পরুন। ব্যবহারের পর কিছুক্ষণ ঝাপসা দেখতে পারেন, পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না। লিভারের সমস্যা, চোখ শুষ্ক থাকা বা কর্নিয়ায় ক্ষত থাকলে ডাক্তারকে জানান। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করিয়ে চাপ মাপান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একটি বাড়তি ফোঁটা পড়ে গেলে সাধারণত ক্ষতি হয় না; জ্বালা করলে পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নিন। কেউ, বিশেষ করে শিশু, ড্রপ গিলে ফেললে ডাক্তারের পরামর্শ নিন, কারণ এতে শরীরের লবণ ও অ্যাসিডের ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ ইনহিবিটর (গ্লুকোমার চোখের ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না। বোতলের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং প্রথম খোলার ৪ সপ্তাহ পর ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।