ব্যবহার
ব্রিভারাসিটাম ফোকাল (আংশিক) খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হয়, খিঁচুনি মস্তিষ্কের দুই পাশে ছড়াক বা না ছড়াক। খিঁচুনি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে সাধারণত অন্য মৃগীরোগের ঔষধের সাথে এটি যোগ করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর-কিশোরীদের এটি দেওয়া হয়, আর ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
কীভাবে কাজ করে
ব্রিভারাসিটাম মস্তিষ্কের স্নায়ুর প্রান্তে থাকা SV2A নামের একটি প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়। এতে খিঁচুনির কারণ অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ শান্ত হয়। এটি লেভেটিরাসিটামের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ঔষধ।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর-কিশোরী: সাধারণত শুরুতে ৫০ mg দিনে দুইবার (কারও ক্ষেত্রে ২৫ mg দিনে দুইবার)। ডাক্তার এটি ২৫ mg থেকে ১০০ mg দিনে দুইবারের মধ্যে ঠিক করতে পারেন।
- শিশু: মাত্রা ওজনের উপর নির্ভর করে, ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
- লিভারের রোগে: ডাক্তার কম মাত্রা দেবেন।
প্রায় ১২ ঘণ্টা ব্যবধানে খাবারের আগে বা পরে খান। ট্যাবলেট পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান। ওরাল সলিউশন সাথে দেওয়া সিরিঞ্জ বা কাপ দিয়ে মেপে খান, রান্নাঘরের চামচ দিয়ে নয়। হঠাৎ বন্ধ করবেন না, খিঁচুনি ফিরে আসতে পারে; ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রিফাম্পিসিন ব্রিভারাসিটামের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে, তাই ডাক্তারকে মাত্রা বদলাতে হতে পারে। এটি ফেনিটোইন এবং কারবামাজেপিনের একটি ভাঙা অংশের মাত্রা বাড়াতে পারে। লেভেটিরাসিটামের সাথে খেলে অতিরিক্ত কোনো উপকার নেই। মদ এবং ঘুমের ঔষধ বা কিছু অ্যান্টিহিস্টামিনের মতো ঘুম ঘুম ভাব আনা ঔষধ ঘুমভাব বাড়ায়। সেন্ট জনস ওয়োর্ট এর কাজ কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- ব্রিভারাসিটাম, লেভেটিরাসিটামের মতো সমজাতীয় ঔষধ বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, খিটখিটে মেজাজ, মন খারাপ, দুশ্চিন্তা ও ঘুমের সমস্যা। শিশুরা অস্থির বা অতিচঞ্চল হতে পারে।
নিজেকে আঘাত করা বা জীবন শেষ করার চিন্তা এলে, হঠাৎ আক্রমণাত্মক আচরণ, অন্যরা যা দেখে বা শোনে না তা দেখা বা শোনা, খিঁচুনি আরও ঘন ঘন বা দীর্ঘ হওয়া, অথবা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা ও শ্বাসকষ্টের মতো তীব্র এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত। নিজে থেকে খাওয়া বন্ধ করবেন না, কারণ অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনি মা ও শিশু দুজনের জন্যই বিপজ্জনক। গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে বা গর্ভবতী হলে আগেই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; সাধারণত ফলিক অ্যাসিড খেতে বলা হয়। এটি বুকের দুধে যায়, তাই খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে কিনা তা ডাক্তার ঠিক করবেন।
সতর্কতা
পরিবারের সদস্যদের মেজাজ বা আচরণের পরিবর্তন খেয়াল রাখা উচিত, বিশেষ করে চিকিৎসার শুরুতে। লিভারের রোগে সাবধানে ব্যবহার করুন। এটি ঘুম ঘুম ভাব ও মাথা ঘোরা আনতে পারে, তাই ঔষধটি আপনার উপর কেমন প্রভাব ফেলে তা না জানা পর্যন্ত গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না, এবং মৃগী নিয়ে গাড়ি চালানোর স্থানীয় নিয়ম মেনে চলুন। মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেয়ে ফেললে ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ঘোরা, ভারসাম্যের সমস্যা, দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি ও বমি বমি ভাব হতে পারে। এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই; দেরি না করে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মৃগীরোগের ঔষধ (SV2A লিগ্যান্ড)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ওরাল সলিউশন খোলার পর লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।