ব্যবহার
বুকে ঘন ও আঠালো কফ জমে যে কাশি হয়, সেই কফ পাতলা করতে ব্রমহেক্সিন ব্যবহার হয়, যেমন তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিস, সিওপিডি (দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ) এবং শ্বাসনালীর অন্য রোগ যেখানে কফ সহজে বের হয় না।
কীভাবে কাজ করে
ব্রমহেক্সিন একটি মিউকোলাইটিক, অর্থাৎ কফ পাতলা করার ঔষধ। কফকে ঘন করে এমন তন্তুগুলো ভেঙে দেয়, ফলে কফ পাতলা হয় এবং কাশির সাথে সহজে বের হয়ে আসে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশু: দিনে ৩ বার ৮ থেকে ১৬ mg।
- ৬ থেকে ১২ বছরের শিশু: দিনে ৩ বার ৪ mg।
- ২ থেকে ৬ বছরের শিশু: দিনে ২ বার ৪ mg।
- ২ বছরের কম বয়সী শিশু: শুধু ডাক্তার দিলে।
৪ mg/৫ ml সিরাপের ৫ ml এ ৪ mg থাকে। সবসময় সাথে দেওয়া মাপার কাপ বা চামচ ব্যবহার করুন। খাবারের পরে খান এবং চিকিৎসার সময় বেশি করে পানি পান করুন। কাশি ৭ দিনের বেশি থাকলে বা বারবার ফিরে এলে ডাক্তার দেখান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ডেক্সট্রোমেথরফান বা কোডেইনের মতো কাশি দমনের ঔষধের সাথে একসাথে খাবেন না, কারণ এগুলো কাশি থামিয়ে দেয় এবং পাতলা হওয়া কফ বের হতে পারে না। ব্রমহেক্সিন ফুসফুসের কফে কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের (যেমন অ্যামোক্সিসিলিন, ইরিথ্রোমাইসিন ও ডক্সিসাইক্লিন) পরিমাণ বাড়াতে পারে; এটি ক্ষতিকর নয়।
কারা খাবেন না
- ব্রমহেক্সিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে
- ২ বছরের কম বয়সী শিশু, ডাক্তার না দিলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত হালকা: বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি, পাতলা পায়খানা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঘাম বা হালকা র্যাশ। কদাচিৎ লিভারের এনজাইম বাড়তে পারে।
মারাত্মক এলার্জির লক্ষণ (মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট) অথবা ত্বকের গুরুতর প্রতিক্রিয়া, যেমন ছড়িয়ে পড়া র্যাশ ও ফোসকা, চামড়া উঠে যাওয়া, মুখে ঘা বা জ্বর দেখা দিলে সাথে সাথে ঔষধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে প্রথম ৩ মাসে, ডাক্তার না বললে খাওয়া উচিত নয়। ব্রমহেক্সিন বুকের দুধে যায়, তাই দুধ খাওয়ানোর সময় ডাক্তার প্রয়োজন মনে না করলে এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
- পেটে আলসার থাকলে বা আগে হয়ে থাকলে, অথবা লিভার বা কিডনির গুরুতর রোগ বা হাঁপানি থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- যারা ভালোভাবে কাশতে পারেন না (যেমন খুব দুর্বল বা শয্যাশায়ী রোগী), তারা শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খাবেন, কারণ পাতলা কফ জমে যেতে পারে।
- ত্বকে র্যাশ দেখা দিলে ঔষধ বন্ধ করে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পেটের অস্বস্তি, বমি বমি ভাব ও পাতলা পায়খানা হতে পারে। গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে শিশু বেশি পরিমাণ খেয়ে ফেললে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মিউকোলাইটিক (কফ পাতলা করার ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।