ব্যবহার
ব্রমহেক্সিন একটি মিউকোলাইটিক, অর্থাৎ কফ পাতলা করার ঔষধ। ঘন ও আঠালো কফ সহজে বের না হলে, যেমন তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিস এবং শ্বাসনালিতে অতিরিক্ত কফ জমার অন্যান্য সমস্যায় এটি ব্যবহার হয়। হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর শ্বাসতন্ত্রের রোগের জন্য কিছু ভেটেরিনারি মিশ্র পণ্যেও এটি থাকে; সেগুলো শুধুমাত্র প্রাণীর জন্য এবং পশু চিকিৎসকের নির্দেশমতো ব্যবহার করতে হবে।
কীভাবে কাজ করে
ব্রমহেক্সিন কফকে ঘন করে এমন তন্তু ভেঙে দেয় এবং শ্বাসনালিতে পাতলা নিঃসরণ বাড়ায়। এতে কফ পানির মতো পাতলা হয় এবং শ্বাসনালির সূক্ষ্ম লোম সহজে তা ওপরে সরিয়ে আনতে পারে, ফলে কাশির মাধ্যমে বের হয়ে যায়। শরীরে এর একটি অংশ অ্যামব্রক্সলে পরিণত হয়, যার কাজও একই রকম।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের সাধারণ মাত্রা দিনে তিনবার ৮ থেকে ১৬ mg। ছোট শিশুদের মাত্রা কম এবং বয়সের ওপর নির্ভর করে; লেবেল বা চিকিৎসকের পরামর্শ মানুন। কফ পাতলা করতে প্রচুর পানি পান করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ৪ থেকে ৫ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না। ভেটেরিনারি পণ্যের ক্ষেত্রে লেবেল বা পশু চিকিৎসকের নির্দেশ মানুন এবং মাংস বা ডিম খাওয়ার আগে নির্ধারিত প্রত্যাহারকাল (উইথড্রয়াল পিরিয়ড) পার হতে দিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কোডেইন বা ডেক্সট্রোমেথরফানের মতো কাশি দমনকারী ঔষধের সাথে একসাথে খাবেন না, কারণ এগুলো পাতলা কফ বের করার জন্য প্রয়োজনীয় কাশি থামিয়ে দেয়। ব্রমহেক্সিন অ্যামোক্সিসিলিন, ইরিথ্রোমাইসিন ও ডক্সিসাইক্লিনের মতো কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের ফুসফুসে পৌঁছানোর পরিমাণ বাড়াতে পারে, যা সাধারণত ক্ষতিকর নয়।
কারা খাবেন না
ব্রমহেক্সিন বা অ্যামব্রক্সলে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের দেবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম এবং সাধারণত হালকা: বমিভাব, পেটের অস্বস্তি, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও ঘাম। হালকা র্যাশ হতে পারে।
ত্বকে গুরুতর প্রতিক্রিয়া (ফোসকা, চামড়া উঠে যাওয়া বা মুখে ঘা, প্রায়ই জ্বরসহ), মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, অথবা শ্বাসকষ্ট হলে ঔষধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস এড়িয়ে চলুন এবং পরবর্তী সময়ে কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন। ব্রমহেক্সিন বুকের দুধে যায়, তাই চিকিৎসকের অনুমোদন ছাড়া বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা উচিত নয়।
সতর্কতা
পাকস্থলীর আলসার, গুরুতর লিভার বা কিডনির রোগ, অথবা অ্যাজমা থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন, কারণ এটি শ্বাসনালিতে জ্বালা করতে পারে। যারা ভালোভাবে কাশতে পারেন না, তাদের পাতলা কফ বের করতে অসুবিধা হতে পারে। কাশি এক সপ্তাহের বেশি থাকলে, অথবা উচ্চ জ্বর, কফে রক্ত বা শ্বাসকষ্ট হলে চিকিৎসকের কাছে যান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবন সাধারণত বিপজ্জনক নয়, তবে পেটের অস্বস্তি ও মাথা ঘোরা হতে পারে। বেশি খেয়ে ফেললে, বিশেষ করে শিশু হলে, চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মিউকোলাইটিক (কফ নিঃসারক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।