ব্যবহার
বুসপিরোন দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগজনিত রোগ (জেনারালাইজড অ্যাঙ্ক্সাইটি ডিসঅর্ডার) এবং দুশ্চিন্তা, টানটান ভাব, অস্থিরতা ও খিটখিটে মেজাজের মতো উদ্বেগের লক্ষণ কমাতে ব্যবহার হয়। তাৎক্ষণিক উপশম দরকার এমন প্যানিক অ্যাটাকে এটি ব্যবহার হয় না, এবং ঘুমের ঔষধ বা ট্রাঙ্কুইলাইজার ছাড়ার উপসর্গে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
বুসপিরোন মস্তিষ্কের সেরোটোনিন 5-HT1A রিসেপ্টরে এবং কিছুটা ডোপামিন রিসেপ্টরে কাজ করে উদ্বেগের সাথে জড়িত রাসায়নিকগুলোর ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। ডায়াজেপামের মতো বেনজোডায়াজেপিনের মতো এটি তেমন ঘুম আনে না, আসক্তি তৈরি করে না এবং দ্রুত কাজ করে না: পূর্ণ উপকার পেতে সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ লাগে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ডাক্তারের নির্দেশ মতো সেবন করুন। সাধারণত কম মাত্রায় দিনে দুই বা তিনবার দিয়ে শুরু করা হয় এবং ফলাফল দেখে কয়েক দিন পরপর ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়। প্রতিদিন একই নিয়মে খান, হয় সবসময় খাবারের সাথে, না হয় সবসময় খালি পেটে। ডাক্তারের সাথে কথা না বলে হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এবং বাদ পড়া ডোজ পূরণে দ্বিগুণ খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- এমএও ইনহিবিটর (যেমন সেলেজিলিন বা লিনেজোলিড) রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে বাড়াতে পারে; একসাথে নয়।
- কিটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল, ইরিথ্রোমাইসিন, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, রিটোনাভির, ডিলটিয়াজেম, ভেরাপামিল ও গ্রেপফ্রুটের রস বুসপিরোনের মাত্রা বাড়ায়।
- রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন ও ফেনিটোইন এর মাত্রা কমায়।
- বিষণ্ণতার ঔষধ, ট্রিপটান, ট্রামাডল বা সেন্ট জনস ওয়র্ট একসাথে সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- অ্যালকোহল ও অন্য ঘুমের ঔষধ ঝিমুনি ও মাথা ঘোরা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- বুসপিরোনে অ্যালার্জি থাকলে।
- লিভার বা কিডনির গুরুতর রোগ।
- মৃগীরোগ।
- অ্যালকোহল, ঘুমের ঔষধ, ব্যথানাশক বা অ্যান্টিসাইকোটিকে তীব্র বিষক্রিয়া।
- এমএও ইনহিবিটর খেলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বমিভাব, অস্থিরতা, হালকা মাথা, ঝিমুনি, ঘুমের সমস্যা, ঝাপসা দেখা ও ক্লান্তি। কম দেখা যায়: বুকে ব্যথা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, বিভ্রান্তি, পেশিব্যথা ও অস্থির ভাব। কদাচিৎ নড়াচড়ার সমস্যা বা অ্যালার্জি হতে পারে।
বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হওয়া, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, মুখ বা গলা ফোলা, অথবা জ্বর, ঘাম, কাঁপুনি ও মাংসপেশি শক্ত হওয়ার সাথে অস্থিরতা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় নিরাপত্তা ভালোভাবে প্রমাণিত নয়; ডাক্তার যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, তবেই ব্যবহার করুন। বুসপিরোন বুকের দুধে যেতে পারে, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সতর্কতা
- মাথা ঘোরা বা ঝিমুনি হতে পারে; ঔষধটি আপনার ওপর কী প্রভাব ফেলে তা না জানা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
- অ্যালকোহল ও বেশি পরিমাণে গ্রেপফ্রুটের রস এড়িয়ে চলুন।
- বেনজোডায়াজেপিন থেকে বদলালে সেটি ধীরে ধীরে কমাতে হবে; বুসপিরোন তার ছাড়ার উপসর্গ ঠেকায় না।
- লিভার বা কিডনির সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে তীব্র ঝিমুনি, মাথা ঘোরা, বমিভাব, বমি, চোখের মণি ছোট হওয়া ও পেটের গোলমাল হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন। চিকিৎসা সহায়ক ধরনের; নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
উদ্বেগনাশক (অ্যাঙ্ক্সিওলাইটিক), অ্যাজাপিরোন গোত্র, সেরোটোনিন 5-HT1A আংশিক এগোনিস্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C-এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।