ব্যবহার
বিউটামিরেট সাইট্রেট শুকনো, খুসখুসে কাশি (যে কাশিতে কফ ওঠে না) কমাতে ব্যবহার হয়, যেমন সর্দি বা ফ্লুর পর। শ্বাসনালির অপারেশন বা পরীক্ষার আগে ও পরে কাশি শান্ত রাখতেও ডাক্তার এটি দিতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে
এটি মস্তিষ্কের কাশি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে কাজ করে কাশির তাড়না কমায়, এবং শ্বাসনালি সামান্য খুলতেও সাহায্য করে। এটি অপিওয়েড নয় এবং এতে আসক্তি হয় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা ঔষধের শক্তির ওপর নির্ভর করে, তাই সবসময় প্যাকেটের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
- প্রাপ্তবয়স্ক, প্রতি ৫ ml এ ৭.৫ mg যুক্ত সিরাপ: সাধারণত ১৫ ml দিনে তিন বা চারবার।
- প্রলম্বিত-নিঃসরণ (প্রোলংড রিলিজ) ট্যাবলেট: প্যাকেটে লেখা নিয়মে।
- শিশু: শুধু প্যাকেটে শিশুর বয়স অনুযায়ী লেখা মাত্রায়, অথবা ডাক্তারের পরামর্শে। প্যাকেটে উল্লেখিত বয়সের চেয়ে ছোট শিশুকে দেবেন না।
সাথে দেওয়া মাপার কাপ ব্যবহার করুন। খাবারের আগে খাওয়া ভালো। এক সপ্তাহের বেশি কাশি থাকলে ডাক্তার দেখান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কফ বের করা বা কফ পাতলা করার ঔষধের (যেমন গুয়াইফেনেসিন, ব্রমহেক্সিন বা অ্যামব্রক্সল) সাথে খাবেন না, কারণ কফ পাতলা হওয়ার সময় কাশি থামিয়ে দিলে শ্বাসনালি আটকে যেতে পারে। মদ ও ঘুম আনে এমন অন্য ঔষধ ঘুম ঘুম ভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- বিউটামিরেট বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম এবং সাধারণত হালকা: ঘুম ঘুম ভাব, বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা, মাথা ঘোরা বা ত্বকে ফুসকুড়ি।
জরুরি চিকিৎসা নিন যদি: মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যায়, চাকা চাকা র্যাশ ওঠে বা শ্বাসকষ্ট হয়। কাশির সাথে রক্ত গেলে, উচ্চ জ্বর, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে, অথবা এক সপ্তাহে কাশি না কমলে দ্রুত ডাক্তার দেখান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসে ব্যবহার করবেন না; পরের মাসগুলোতে শুধু ডাক্তারের পরামর্শে। এটি বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই, তাই ডাক্তার অন্য কিছু না বললে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
কফযুক্ত কাশিতে এটি ব্যবহার করবেন না। কিছু সিরাপে চিনি বা সরবিটল থাকে; ডায়াবেটিস বা চিনি সহ্য না হওয়ার সমস্যা থাকলে লেবেল দেখে নিন। এটি ঘুম ঘুম ভাব আনতে পারে, তাই গাড়ি বা যন্ত্র চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে ঘুম ঘুম ভাব, বমি বমি ভাব, বমি, পাতলা পায়খানা, মাথা ঘোরা, টলমল ভাব ও রক্তচাপ কমে যেতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন, বিশেষ করে শিশু বেশি খেয়ে ফেললে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কাশি দমনকারী ঔষধ (নন-অপিওয়েড অ্যান্টিটাসিভ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।