ব্যবহার
বুটোকোনাজোল নাইট্রেট যোনিপথে ব্যবহারের একটি ছত্রাকনাশক ক্রিম। এটি যোনিপথের ইস্ট সংক্রমণ (ভালভোভাজাইনাল ক্যান্ডিডিয়াসিস) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যাতে চুলকানি, জ্বালা, ব্যথা ও ঘন সাদা স্রাব হয়।
কীভাবে কাজ করে
বুটোকোনাজোল একটি ইমিডাজোল জাতীয় ছত্রাকনাশক। এটি ছত্রাকের কোষপর্দার অপরিহার্য উপাদান এরগোস্টেরল তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে কোষপর্দা দুর্বল হয়ে যায় এবং ক্যান্ডিডা ইস্ট বাড়তে পারে না ও মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
২% ক্রিমের সাধারণ মাত্রা হলো এক অ্যাপ্লিকেটর ভর্তি (প্রায় ৫ g) একবার যোনিপথের গভীরে, ভালো হয় রাতে ঘুমানোর আগে, অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। ব্যবহারের আগে ও পরে হাত ধুয়ে নিন। দেওয়ার পর শুয়ে থাকলে ক্রিম ভেতরে থাকে। কয়েক দিনের মধ্যে উপসর্গ কমে; ৭ দিনের মধ্যে সেরে না গেলে চিকিৎসকের কাছে যান। মাসিকের সময়ও ব্যবহার করা যায়, তবে একই সময়ে ট্যাম্পন ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
খুব কম রক্তে শোষিত হয়, তাই মুখে খাওয়ার ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম। ক্রিমের তেলজাতীয় উপাদান ব্যবহারের পর ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ল্যাটেক্স কনডম ও ডায়াফ্রাম দুর্বল করতে পারে, ফলে গর্ভধারণ বা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা নাও দিতে পারে। চিকিৎসার সময় পরামর্শ ছাড়া অন্য যোনিপথের পণ্য (ডুশ, শুক্রাণুনাশক) এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
বুটোকোনাজোল, অন্য ইমিডাজোল ছত্রাকনাশক বা ক্রিমের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম এবং সাধারণত হালকা: যোনিপথে জ্বালা, চুলকানি, ব্যথা বা ফোলা, এবং কখনো পেটে মোচড়ানো ব্যথা।
তীব্র ফুসকুড়ি, মুখ বা গলা ফোলা বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। জ্বর, কাঁপুনি, তলপেটে ব্যথা, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব বা বারবার ফিরে আসা উপসর্গ হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান, কারণ এগুলো অন্য সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন; চিকিৎসকরা প্রায়ই অন্য যোনিপথের ছত্রাকনাশকের দীর্ঘ কোর্স পছন্দ করেন। গর্ভাবস্থায় অ্যাপ্লিকেটর সাবধানে ব্যবহার করুন। খুব কম শোষিত হয় বলে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুর ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে আগে চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
প্রথমবার ব্যবহারের আগে রোগনির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের কাছে যান। ১২ বছরের কম বয়স হলে, বছরে ৪ বারের বেশি সংক্রমণ হলে, ডায়াবেটিস, এইচআইভি বা দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলে, বা যৌনবাহিত সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে পরামর্শ নিন। ক্রিম শুধু যোনিপথে ব্যবহারের জন্য; গিলবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
যোনিপথে ব্যবহারে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ক্রিম গিলে ফেললে চিকিৎসক বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইমিডাজোল ছত্রাকনাশক (যোনিপথের সংক্রমণরোধী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো স্থানে, আলো থেকে দূরে রাখুন; জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।