ব্যবহার
ক্যাবাজিটাক্সেল একটি ক্যান্সারবিরোধী ঔষধ, যা প্রেডনিসোলোন বা প্রেডনিসোনের সাথে এমন প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় যা ছড়িয়ে পড়েছে এবং হরমোন (টেস্টোস্টেরন কমানো) চিকিৎসায় আর সাড়া দিচ্ছে না, সাধারণত আগে ডসিটাক্সেল চিকিৎসার পর।
কীভাবে কাজ করে
ক্যাবাজিটাক্সেল ট্যাক্সেন শ্রেণির ঔষধ। কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম আলাদা করে এমন কোষের ভেতরের ক্ষুদ্র তন্তু (মাইক্রোটিউবিউল) এর সাথে এটি যুক্ত হয়ে সেগুলোকে আটকে দেয়। ফলে ক্যান্সার কোষ বিভাজন শেষ করতে পারে না এবং মারা যায়। ডসিটাক্সেলে প্রতিরোধী হয়ে গেছে এমন কিছু টিউমারেও এটি কাজ করতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের নির্দেশ অনুযায়ী হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স এটি শিরায় স্যালাইনের মতো (ইনফিউশন) দেন, সাধারণত প্রতি ৩ সপ্তাহে একবার। শরীরের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল অনুযায়ী মাত্রা ঠিক করা হয় এবং রক্তের কণিকা, লিভারের কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয়। প্রতিটি ইনফিউশনের আগে অ্যালার্জির ঝুঁকি কমাতে ঔষধ দেওয়া হয়, এবং নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিদিন একটি স্টেরয়েড ট্যাবলেট খেতে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিটোকোনাজোল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন ও রিটোনাভিরের মতো শক্তিশালী সিওয়াইপি৩এ বাধাদানকারী ঔষধ এবং গ্রেপফ্রুটের রস ক্যাবাজিটাক্সেলের মাত্রা বাড়াতে পারে; এগুলো এড়িয়ে চলুন।
- রিফাম্পিসিন, কারবামাজেপিন, ফেনিটোয়িন ও সেন্ট জনস ওয়র্টের মতো শক্তিশালী সিওয়াইপি৩এ ইনডিউসার এর মাত্রা কমাতে পারে।
- চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা, বিশেষ করে ইয়েলো ফিভার টিকা, দেওয়া যাবে না।
কারা খাবেন না
- ক্যাবাজিটাক্সেল বা ইনফিউশনের উপাদান পলিসরবেট ৮০ এ মারাত্মক অ্যালার্জি থাকলে।
- চিকিৎসার আগে নিউট্রোফিল (এক ধরনের শ্বেত কণিকা) কম থাকলে।
- লিভারের গুরুতর সমস্যা থাকলে।
- সাম্প্রতিক বা পরিকল্পিত ইয়েলো ফিভার টিকা থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
খুব সাধারণ: শ্বেত কণিকা, লোহিত কণিকা ও প্লেটলেট কমে যাওয়া, ক্লান্তি, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্ষুধামন্দা, স্বাদের পরিবর্তন, পিঠ ও গিঁটে ব্যথা এবং প্রস্রাবে রক্ত। অন্যান্য: শ্বেত কণিকা কম অবস্থায় জ্বর (ফেব্রাইল নিউট্রোপেনিয়া), পানিশূন্যতাসহ তীব্র ডায়রিয়া, হাত পায়ে অবশ ভাব বা ঝিনঝিনি, চুল পড়া, কিডনির সমস্যা এবং ইনফিউশনের সময় অ্যালার্জি।
৩৮°C বা তার বেশি জ্বর, কাঁপুনি, তীব্র বা না থামা ডায়রিয়া বা বমি, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়া, রক্তপাত, কালো পায়খানা, শ্বাসকষ্ট, ইনফিউশনের সময় বা পরে মুখ ফুলে যাওয়া বা র্যাশ, অথবা তীব্র পেটব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ক্যাবাজিটাক্সেল শুধু পুরুষদের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে, তাই চিকিৎসার সময় ও পরে ডাক্তারের বলা কয়েক মাস পুরুষদের সঙ্গিনীর সাথে কন্ডম ও কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। এটি পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমাতে পারে।
সতর্কতা
কেবল ক্যান্সার চিকিৎসার বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি চক্রের আগে ও চিকিৎসার সময় বারবার রক্তের কণিকা পরীক্ষা করা হয়; শ্বেত কণিকা বাড়ানোর ঔষধ দেওয়া হতে পারে। প্রচুর পানি পান করুন, এবং ডায়রিয়া হলে দ্রুত ডায়রিয়ার চিকিৎসা শুরু করে চিকিৎসা টিমের সাথে যোগাযোগ করুন। বয়স্ক এবং কিডনি, লিভার বা ফুসফুসের সমস্যা থাকলে আরও ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে অস্থিমজ্জা মারাত্মকভাবে দমিত হতে পারে এবং পাকস্থলী ও অন্ত্রে গুরুতর প্রভাব হতে পারে। হাসপাতালে ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ ও শ্বেত কণিকা বাড়ানোর ঔষধ, স্যালাইন ও অ্যান্টিবায়োটিকের মতো সহায়ক চিকিৎসা দিয়ে এটি সামলানো হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সারবিরোধী, ট্যাক্সেন
সংরক্ষণ
হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞ ব্যবহারের ঔষধ: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সাইটোটক্সিক বর্জ্য নিরাপদে নাড়াচাড়া ও নষ্ট করতে হবে।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।