ব্যবহার
ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে, বিশেষ করে ডায়ালাইসিস চলা রোগীদের রক্তে বেশি ফসফেট (হাইপারফসফেটেমিয়া) নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হয়। কিডনি অকেজো হলে রক্তে ফসফেট জমে যায়, যা সময়ের সাথে হাড় দুর্বল করে এবং রক্তনালি ও হৃদপিণ্ডে ক্যালসিয়াম জমায়। ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেট একটি ফসফেট বাইন্ডার: খাবার থেকে শরীর কতটা ফসফেট নেয়, তা কমায়।
কীভাবে কাজ করে
খাবারের সাথে খেলে এর ক্যালসিয়াম পাকস্থলী ও অন্ত্রে খাবারের ফসফেটের সাথে যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম ফসফেট তৈরি করে। এটি শোষিত হয় না, পায়খানার সাথে বের হয়ে যায়। ফলে রক্তে কম ফসফেট ঢোকে এবং ফসফেটের মাত্রা কমে। কিছু ক্যালসিয়াম শোষিত হয়, তাই রক্তের ক্যালসিয়াম পরীক্ষা করা জরুরি।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসক যেভাবে দিয়েছেন ঠিক সেভাবে খান। রক্তের ফসফেটের মাত্রা দেখে চিকিৎসক মাত্রা ঠিক করেন ও সময়ের সাথে বদলান। এটি অবশ্যই খাবারের সাথে, সাধারণত প্রতিটি প্রধান খাবারের ঠিক আগে বা খাওয়ার সময় খেতে হয়, যাতে ওই খাবারের ফসফেট আটকাতে পারে। কোনো বেলা না খেলে সেই মাত্রাও বাদ দিন। চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের দেওয়া কম ফসফেটের খাদ্যতালিকা মেনে চলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এটি অন্য ঔষধের সাথে যুক্ত হয়ে তাদের শোষণ কমাতে পারে, যেমন টেট্রাসাইক্লিন ও ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও অন্যান্য কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক, লেভোথাইরক্সিন, আয়রন ট্যাবলেট ইত্যাদি। এগুলো ক্যালসিয়াম অ্যাসিটেটের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ৩ ঘণ্টা পরে খান, অথবা চিকিৎসকের পরামর্শমতো। রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি হলে ডিগক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসক না বললে অন্য ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা ক্যালসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড খাবেন না। থায়াজাইড ডাইইউরেটিক ও ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম আরও বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে (হাইপারক্যালসেমিয়া)।
- পণ্যের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো বমিভাব, পেটে অস্বস্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং কখনো ডায়রিয়া। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়া, যাতে ক্লান্তি, বিভ্রান্তি, খাবারে অরুচি, বমিভাব, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, পিপাসা ও বেশি প্রস্রাব হতে পারে। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষায় এটি আগেভাগে ধরা পড়ে।
তীব্র বিভ্রান্তি, অনিয়মিত বা দ্রুত হৃদস্পন্দন, তীব্র বমি, পেশি দুর্বলতা, অথবা ফোলা বা শ্বাসকষ্টসহ অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ক্যালসিয়াম একটি স্বাভাবিক পুষ্টি উপাদান এবং এটি শিশুর ক্ষতি করবে বলে আশা করা হয় না, তবে গর্ভাবস্থায় শুধু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা উচিত। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা যায়।
সতর্কতা
- চিকিৎসক নিয়মিত রক্তের ক্যালসিয়াম ও ফসফেট পরীক্ষা করবেন, শুরুতে প্রায়ই সাপ্তাহিক।
- ডিগক্সিন, অন্য ক্যালসিয়াম পণ্য বা ভিটামিন ডি খেলে চিকিৎসককে জানান।
- কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- সব সাপ্লিমেন্ট ও অ্যান্টাসিডের কথা ডায়ালাইসিস টিমকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে বিভ্রান্তি, বমি, দুর্বলতা ও হৃদছন্দের সমস্যা হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ফসফেট বাইন্ডার; কিডনি রোগে ব্যবহৃত খনিজ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।