ব্যবহার
ক্যালসিয়াম ডি স্যাকারেট একটি ক্যালসিয়াম লবণ, যা মূলত ক্যালসিয়াম গ্লুকোনেট ইনজেকশনে স্থিতিশীলকারী উপাদান হিসেবে থাকে। এটি ক্যালসিয়াম গ্লুকোনেটকে দ্রবীভূত রাখে, যাতে অ্যাম্পুল বা ভায়ালে দানা না বাঁধে। তৈরি ইনজেকশনটি রক্তে ক্যালসিয়াম কমে যাওয়া (হাইপোক্যালসেমিয়া) চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, যেমন কিছু অপারেশনের পরে, তীব্র ভিটামিন D ঘাটতিতে, কিছু ক্ষেত্রে পটাশিয়াম বেশি হলে বা ম্যাগনেসিয়াম বিষক্রিয়ায়, এবং জরুরি অবস্থায় ডাক্তারের সিদ্ধান্তে।
কীভাবে কাজ করে
ক্যালসিয়াম গ্লুকোনেটের দ্রবণ সাধারণত পানিতে দীর্ঘ সময় ধরে স্থির থাকার চেয়ে বেশি ঘন হয়। সামান্য ক্যালসিয়াম ডি স্যাকারেট ক্যালসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে দ্রবণকে স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল রাখে। এটি সামান্য বাড়তি ক্যালসিয়ামও দেয়। শরীরে যাওয়ার পর এই ক্যালসিয়াম স্বাভাবিক ক্যালসিয়ামের সাথে মিশে যায়, যা স্নায়ু, পেশি, হৃৎস্পন্দন ও রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দরকার।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্যালসিয়াম ডি স্যাকারেট আলাদাভাবে খাওয়া হয় না। এটি ক্যালসিয়াম গ্লুকোনেট ইনজেকশনের অংশ, যা ডাক্তার বা নার্স ধীরে ধীরে শিরায় দেন এবং প্রয়োজনমতো হৃৎস্পন্দন ও রক্তের ক্যালসিয়াম পর্যবেক্ষণ করেন। ইনজেকশনের মাত্রা রোগ, রক্তের ক্যালসিয়াম, বয়স ও ওজনের ওপর নির্ভর করে এবং সবসময় ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ডিগক্সিন: শিরায় ক্যালসিয়াম দিলে গুরুতর হৃৎস্পন্দনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
- সেফট্রিয়াক্সোন: নবজাতকের ক্ষেত্রে একসাথে মেশানো বা দেওয়া যাবে না, কারণ ফুসফুস ও কিডনিতে কঠিন জমাট তৈরি হতে পারে।
- ফসফেট, বাইকার্বোনেট বা সালফেটযুক্ত দ্রবণের সাথে মেশানো যাবে না, তলানি পড়তে পারে।
- হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের মতো থায়াজাইড মূত্রবর্ধক রক্তের ক্যালসিয়াম আরও বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি (হাইপারক্যালসেমিয়া) বা প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে।
- ক্যালসিয়ামযুক্ত কিডনির পাথরসহ গুরুতর কিডনি বিকল হলে।
- নবজাতকের ক্ষেত্রে সেফট্রিয়াক্সোনের সাথে।
- ইনজেকশনের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনজেকশনের অংশ হিসেবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মূলত ক্যালসিয়ামের কারণে হয়: গরম লাগা, মুখ লাল হওয়া, মুখে চকের মতো স্বাদ, ঝিনঝিন ভাব, দ্রুত দিলে হৃৎস্পন্দন ধীর হওয়া বা রক্তচাপ কমে যাওয়া, এবং ইনজেকশন শিরার বাইরে চলে গেলে ব্যথা বা ত্বকের ক্ষতি। ক্যালসিয়াম বেশি হলে বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, বিভ্রান্তি ও হৃৎস্পন্দনের পরিবর্তন হতে পারে।
বুকে ব্যথা, খুব ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অজ্ঞান হওয়া, অথবা ইনজেকশনের জায়গায় জ্বালাপোড়া, লাল হওয়া বা ফোলা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে নার্সকে জানান বা দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এই স্থিতিশীলকারীযুক্ত ক্যালসিয়াম গ্লুকোনেট ইনজেকশন গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে ব্যবহার করা হয়, যেমন ক্যালসিয়াম কমে গেলে বা ম্যাগনেসিয়াম বিষক্রিয়ায়। ক্যালসিয়াম বুকের দুধের স্বাভাবিক উপাদান।
সতর্কতা
- শুধু স্বাস্থ্যকর্মীরা ধীরে ধীরে শিরায় দেন।
- বারবার দিলে রক্তের ক্যালসিয়াম ও কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়।
- কিডনি রোগ, হৃদরোগ, সারকয়েডোসিস থাকলে বা ডিগক্সিন খেলে বাড়তি সতর্কতা দরকার।
- কাচের পাত্রে থাকা কিছু ক্যালসিয়াম ইনজেকশনে সামান্য অ্যালুমিনিয়াম থাকতে পারে; এটি মূলত নবজাতক ও কিডনি বিকল রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ক্যালসিয়াম বেশি হলে দুর্বলতা, বমিভাব, বমি, বিভ্রান্তি, খুব ধীর হৃৎস্পন্দন ও অস্বাভাবিক হৃৎছন্দ হতে পারে। ইনজেকশন বন্ধ করে হাসপাতালে স্যালাইন ও হৃদযন্ত্র পর্যবেক্ষণসহ চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যালসিয়াম লবণ; ক্যালসিয়াম গ্লুকোনেট ইনজেকশনের স্থিতিশীলকারী উপাদান (এক্সিপিয়েন্ট); খনিজ পূরণকারী।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের পণ্য: প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন, সাধারণত ২৫°C-এর নিচে। ফ্রিজে রাখবেন না। দ্রবণে দানা থাকলে বা স্বচ্ছ না হলে ব্যবহার করবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।