ব্যবহার
ক্যালসিয়াম ল্যাকটেট একটি ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট। খাবারে ক্যালসিয়াম কম থাকলে, গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, বেড়ে ওঠার সময় এবং বয়স্কদের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয়। অস্টিওপোরোসিস (হাড় দুর্বল হওয়া) এবং রিকেটস বা অস্টিওম্যালেশিয়ায় (হাড় নরম হওয়া) অন্য চিকিৎসার সাথে, সাধারণত ভিটামিন ডি এর সাথে, এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি শরীরকে ক্যালসিয়াম দেয়। হাড় ও দাঁত গঠন ও মজবুত রাখা, স্নায়ুর সংকেত, মাংসপেশির সংকোচন, হৃৎস্পন্দনের ছন্দ ও রক্ত জমাট বাঁধার জন্য ক্যালসিয়াম দরকার। ভিটামিন ডি অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্যালসিয়াম ল্যাকটেটে প্রায় ১৩% ক্যালসিয়াম থাকে, অর্থাৎ ৩০০ mg এর একটি ট্যাবলেটে প্রায় ৩৯ mg ক্যালসিয়াম। মাত্রা নির্ভর করে পণ্য ও প্রয়োজনের ওপর; প্যাকেটের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ মানুন। মাত্রা দিনের বিভিন্ন সময়ে ভাগ করে খাবারের সাথে বা পরে খান, এতে শোষণ ভালো হয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের খাবার ও সাপ্লিমেন্ট মিলিয়ে মোট ক্যালসিয়াম সাধারণত দিনে প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৫০০ mg এর বেশি হওয়া উচিত নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ক্যালসিয়াম কিছু ঔষধের শোষণ কমায়। টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন ডক্সিসাইক্লিন), কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন), আয়রন ও জিংক সাপ্লিমেন্ট থেকে অন্তত ২ ঘণ্টা এবং লেভোথাইরক্সিন থেকে ৪ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন, আর অ্যালেন্ড্রোনেটের মতো বাইসফসফোনেটের নির্দেশনা মেনে চলুন। হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের মতো থায়াজাইড ডাইউরেটিক রক্তে ক্যালসিয়াম বাড়াতে পারে। ক্যালসিয়াম ডিজক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বেশি ভুসি বা পালং শাক ক্যালসিয়াম শোষণ কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি (হাইপারক্যালসেমিয়া) বা প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে।
- ক্যালসিয়ামযুক্ত কিডনি পাথর থাকলে।
- গুরুতর কিডনি বিকলতা থাকলে।
- ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত হালকা: কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও পেটের অস্বস্তি।
রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ, যেমন খুব পিপাসা, বারবার প্রস্রাব, ক্ষুধা না থাকা, বমি বমি ভাব ও বমি, বিভ্রান্তি, মাংসপেশির দুর্বলতা বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন; কোমর বা পিঠের পাশে তীব্র ব্যথার সাথে প্রস্রাবে রক্ত (কিডনি পাথর হতে পারে); অথবা এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ক্যালসিয়ামের চাহিদা বাড়ে, এবং পরামর্শকৃত মাত্রায় ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট প্রায়ই দেওয়া হয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশি মাত্রা এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
কিডনির রোগ, কিডনি পাথরের ইতিহাস, সারকোয়েডোসিস থাকলে বা বেশি মাত্রায় ভিটামিন ডি খেলে আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন, কারণ এতে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি। পরামর্শকৃত মাত্রার বেশি খাবেন না। দীর্ঘদিন ব্যবহারে রক্তে ক্যালসিয়াম পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে বমি বমি ভাব, বমি, পিপাসা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বিভ্রান্তি ও অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হতে পারে। খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসা নিন, বিশেষ করে লক্ষণ তীব্র হলে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খনিজ সাপ্লিমেন্ট (ক্যালসিয়াম লবণ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।