ব্যবহার
উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট ফেইলিউরের চিকিৎসায়, হার্ট অ্যাটাকের পর হৃৎপিণ্ড সুরক্ষায় এবং ডায়াবেটিস রোগীদের কিডনির ক্ষতি (ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি) ধীর করতে ক্যাপটোপ্রিল ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
ক্যাপটোপ্রিল একটি ACE ইনহিবিটর। এটি অ্যানজিওটেনসিন II তৈরিকারী একটি এনজাইম আটকে দেয়; অ্যানজিওটেনসিন II রক্তনালি সরু করে এবং শরীরে লবণ ও পানি ধরে রাখে। ফলে রক্তনালি শিথিল হয়, রক্তচাপ কমে এবং হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশমতো খান। উচ্চ রক্তচাপে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত ১২.৫ থেকে ২৫ mg দিনে ২ বার দিয়ে শুরু করা হয় এবং ধীরে ধীরে ৫০ mg দিনে ২ থেকে ৩ বার পর্যন্ত বাড়ানো যায়। হার্ট ফেইলিউর, বয়স্ক, কিডনি রোগী ও যারা ডাইইউরেটিক খান তাদের কম মাত্রা দিয়ে শুরু করা হয়। খাবারের প্রায় ১ ঘণ্টা আগে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া ভালো।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাশিয়ামযুক্ত লবণের বিকল্প এবং স্পাইরোনোল্যাকটোনের মতো পটাশিয়াম-ধারণকারী ডাইইউরেটিক রক্তে পটাশিয়াম বেশি বাড়াতে পারে। ডাইইউরেটিকের সাথে শুরুতে রক্তচাপ অনেক কমে যেতে পারে। আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক এর কার্যকারিতা কমায় ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। এটি লিথিয়ামের মাত্রা বাড়াতে পারে। স্যাকুবিট্রিলের সাথে, এবং ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগীদের অ্যালিস্কিরেনের সাথে খাবেন না।
কারা খাবেন না
ক্যাপটোপ্রিল বা অন্য ACE ইনহিবিটরে অ্যালার্জি থাকলে; কখনো অ্যানজিওইডিমা (মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফোলা) হয়ে থাকলে; গর্ভাবস্থায়; অথবা ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগ থাকা অবস্থায় অ্যালিস্কিরেন খেলে এটি খাবেন না। স্যাকুবিট্রিল ও ভালসারটান খাওয়ার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
শুকনো খুসখুসে কাশি, বিশেষ করে প্রথম ডোজের পর মাথা ঘোরা, স্বাদের পরিবর্তন বা স্বাদ না পাওয়া, র্যাশ, চুলকানি, ক্লান্তি ও পেটের অস্বস্তি সাধারণ। এটি রক্তে পটাশিয়াম বাড়াতে ও কিডনির কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে বা গিলতে কষ্ট হলে, অজ্ঞান হয়ে গেলে, গলাব্যথা বা মুখে ঘাসহ জ্বর হলে (শ্বেতকণিকা কমার লক্ষণ হতে পারে), ত্বক বা চোখ হলুদ হলে, অথবা প্রস্রাব অনেক কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ক্যাপটোপ্রিল খাবেন না, কারণ এটি বিশেষ করে প্রথম ৩ মাসের পর গর্ভের শিশুর গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভধারণ করলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে ঔষধ বদলে নিন। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; বিশেষ করে নবজাতক বা অপরিণত শিশুকে দুধ খাওয়ালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
চিকিৎসক কিডনির কার্যক্ষমতা, রক্তে পটাশিয়াম এবং কখনো কখনো রক্তকণিকা পরীক্ষা করবেন। প্রথম কয়েকটি ডোজের পর বা বমি ও ডায়রিয়ায় পানিশূন্যতা থাকলে দাঁড়ানোর সময় সাবধান থাকুন। কিডনির ধমনি সরু হওয়া, হৃৎপিণ্ডের ভালভ সরু হওয়া, লুপাসের মতো অটোইমিউন রোগ থাকলে, অথবা অপারেশন বা অ্যানেস্থেশিয়ার আগে সাবধানে ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তচাপ খুব কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া ও হৃৎস্পন্দন ধীর হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন; রোগীকে পা উঁচু করে শুইয়ে রাখুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
উচ্চ রক্তচাপরোধী, অ্যানজিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম (ACE) ইনহিবিটর।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।