ব্যবহার
কার্বোমার হলো পানি শোষণকারী বড় আকারের পলিমারের (অ্যাক্রিলিক অ্যাসিড থেকে তৈরি লম্বা অণু) একটি দল। ঔষধ ও প্রসাধনীতে এটি মূলত একটি নিষ্ক্রিয় উপাদান, যা তরলকে মসৃণ জেল ও ক্রিমে পরিণত করে। সক্রিয় উপাদান হিসেবে কার্বোমার আই জেল কৃত্রিম চোখের পানি হিসেবে শুষ্ক, খচখচে ও জ্বালাপোড়া করা চোখ (ড্রাই আই) উপশমে ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
কার্বোমার পানির সাথে মিশিয়ে নিরপেক্ষ করলে এটি ফুলে উঠে স্বচ্ছ জেল তৈরি করে। ত্বকের পণ্যে এটি সঠিক ঘনত্ব দেয় এবং সক্রিয় ঔষধকে সমানভাবে ছড়াতে সাহায্য করে। চোখে এই জেল সাধারণ ড্রপের চেয়ে বেশি সময় লেগে থাকে এবং একটি আর্দ্র সুরক্ষা স্তর তৈরি করে, ফলে ঘর্ষণ ও শুষ্কতা কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
উপাদান হিসেবে এর নিজস্ব কোনো মাত্রা নেই; যে পণ্যে আছে তার নির্দেশনা মেনে চলুন। কার্বোমার আই জেলের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত আক্রান্ত চোখে দিনে ৩ থেকে ৪ বার বা প্রয়োজনমতো ১ ফোঁটা দেন, লেবেলের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। আগে হাত ধুয়ে নিন, টিউবের মুখ চোখে লাগাবেন না, এবং কন্টাক্ট লেন্স বা অন্য চোখের ড্রপ দেওয়ার আগে প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মুখে খাওয়ার ঔষধের সাথে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। অন্য চোখের ড্রপ ব্যবহার করলে কার্বোমার জেল সবশেষে দিন এবং দুটি পণ্যের মাঝে প্রায় ৫ মিনিট বিরতি রাখুন।
কারা খাবেন না
- কার্বোমার বা পণ্যের অন্য কোনো উপাদানে, যেমন সেট্রিমাইড বা বেনজালকোনিয়াম ক্লোরাইডের মতো সংরক্ষকে, অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কার্বোমার নিজে সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। আই জেলে অল্প সময়ের জন্য ঝাপসা দেখা, চোখের পাতায় আঠালো ভাব বা হালকা জ্বালা হতে পারে। ত্বকের পণ্যে কদাচিৎ জ্বালা বা র্যাশ হতে পারে, যা সাধারণত অন্য উপাদানের কারণে হয়।
চোখে তীব্র ব্যথা, হঠাৎ দৃষ্টি হারানো, অথবা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
কার্বোমার শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে শোষিত হয় না, তাই গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ বলে ধরা হয়। পণ্যের অন্য উপাদানগুলো দেখে নিন এবং নিশ্চিত না হলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
আই জেল কয়েক মিনিট দৃষ্টি ঝাপসা করতে পারে; পরিষ্কার না দেখা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না। চোখের সমস্যা বাড়লে বা ৭২ ঘণ্টার বেশি থাকলে, অথবা ব্যথা, লালভাব বা পুঁজ থাকলে ডাক্তার দেখান। চোখের পণ্য অন্যের সাথে ভাগ করবেন না, এবং খোলার পর প্যাকে লেখা সময় পার হলে ফেলে দিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। বেশি আই জেল দিলে শুধু ঝাপসা দেখা বাড়তে পারে। কোনো পণ্য গিলে ফেললে কার্বোমার শোষিত হয় না; অন্য উপাদানের ভিত্তিতে পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
জেল তৈরির উপাদান (এক্সিপিয়েন্ট); চোখের লুব্রিকেন্ট (কৃত্রিম চোখের পানি)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।