ব্যবহার
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদপিণ্ডের রক্তনালি সরু হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি বুকে ব্যথা (স্টেবল এনজাইনা) এবং হার্ট ফেইলিউরে অন্য ঔষধের সাথে কার্ভেডিলল ব্যবহার হয়। কিছু রোগীর হার্ট অ্যাটাকের পরও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি একটি বিটা ব্লকার যা আলফা-১ রিসেপ্টরও বন্ধ করে। এটি হৃৎস্পন্দন ও প্রতিটি স্পন্দনের জোর কমায় এবং রক্তনালি প্রশস্ত করে। এতে রক্তচাপ কমে, হৃদপিণ্ডের কাজের চাপ কমে এবং হার্ট ফেইলিউরে সময়ের সাথে হৃদপিণ্ড ভালোভাবে কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- উচ্চ রক্তচাপ, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত প্রথম ২ দিন দিনে একবার ১২.৫ mg, তারপর দিনে একবার ২৫ mg। প্রয়োজনে ডাক্তার ধীরে ধীরে বাড়াতে পারেন।
- এনজাইনা: সাধারণত দিনে দুইবার ১২.৫ mg দিয়ে শুরু, তারপর ডাক্তার মাত্রা ঠিক করেন।
- হার্ট ফেইলিউর: খুব কম মাত্রায় (দিনে দুইবার ৩.১২৫ mg) শুরু করে ধীরে ধীরে, সাধারণত প্রতি ২ সপ্তাহে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়ানো হয়।
মাথা ঘোরা কমাতে খাবারের সাথে খান। হঠাৎ বন্ধ করবেন না; বন্ধ করতে হলে ডাক্তার ১ থেকে ২ সপ্তাহ ধরে ধীরে মাত্রা কমাবেন। ডাক্তার না দিলে শিশুদের জন্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ভেরাপামিল বা ডিলটিয়াজেমের সাথে খেলে হৃৎস্পন্দন খুব কমে যেতে পারে। এটি ডিগক্সিন ও সাইক্লোস্পোরিনের মাত্রা বাড়াতে পারে। কার্ভেডিলল খাওয়ার সময় ক্লোনিডিন বন্ধ করলে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে বাড়তে পারে। ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট খান এমন ব্যক্তির শর্করা কমার লক্ষণ এটি লুকিয়ে ফেলতে পারে। অ্যামিওডারোন ও ফ্লুওক্সেটিন এর প্রভাব বাড়াতে পারে, রিফাম্পিসিন কমাতে পারে, আর আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক রক্তচাপ কমানোর ক্ষমতা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- হাঁপানি বা শোঁ শোঁ শ্বাসের অন্য রোগ থাকলে।
- খুব ধীর হৃৎস্পন্দন বা পেসমেকার ছাড়া কিছু হৃৎছন্দের সমস্যা (দ্বিতীয় বা তৃতীয় ডিগ্রি হার্ট ব্লক, সিক সাইনাস সিনড্রোম)।
- শিরায় ঔষধ লাগে এমন গুরুতর বা অস্থিতিশীল হার্ট ফেইলিউর, বা হার্ট ফেইলিউরজনিত শক।
- গুরুতর লিভারের রোগ।
- কার্ভেডিললে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মাথা ঘোরা বা হালকা লাগা (বিশেষ করে উঠে দাঁড়ালে), ক্লান্তি, নাড়ি ধীর হওয়া, মাথাব্যথা, ওজন বাড়া, পা ফোলা, হাত-পা ঠাণ্ডা লাগা ও পেটের অস্বস্তি। শুরুতে বা মাত্রা বাড়ানোর পর এগুলো বেশি হয়।
অজ্ঞান হয়ে গেলে, নাড়ি খুব ধীর হলে, শোঁ শোঁ শব্দ বা শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, দ্রুত বাড়তে থাকা ফোলা বা শ্বাসকষ্ট, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, বা গুরুতর ত্বকের প্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে ব্যবহার করুন; এটি নবজাতকের হৃৎস্পন্দন ধীর ও শর্করা কমাতে পারে। খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয় না; ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
সতর্কতা
ধীরে উঠে দাঁড়ান। ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা, কিডনির সমস্যা, পায়ে রক্ত চলাচল কম, সোরিয়াসিস বা আগে গুরুতর এলার্জি হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান। অপারেশনের আগে সার্জন বা দাঁতের ডাক্তারকে জানান যে আপনি এটি খান। কন্টাক্ট লেন্স পরলে চোখ শুকনো লাগতে পারে। মাথা ঘুরলে গাড়ি চালাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তচাপ খুব কমে যেতে পারে, হৃৎস্পন্দন খুব ধীর হতে পারে, শ্বাসকষ্ট, জ্বান হারানো ও খিঁচুনি হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আলফা-১ ব্লকিং ক্ষমতাসহ বিটা ব্লকার (উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট ফেইলিউরের ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।