ব্যবহার
ক্যাস্টর অয়েল (রেড়ির তেল) রেড়ি গাছের বীজ থেকে তৈরি একটি প্রাকৃতিক তেল। মুখে খেলে এটি মাঝে মাঝে কোষ্ঠকাঠিন্যে বা কিছু পরীক্ষার আগে অন্ত্র খালি করতে উদ্দীপক ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে। ত্বক ও চুলে এটি শুষ্ক ত্বক, ঠোঁট ও মাথার ত্বকের ইমোলিয়েন্ট (আর্দ্রতা দায়ক) হিসেবে এবং কিছু মলম ও ক্রিমের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
অন্ত্রে ক্যাস্টর অয়েল ভেঙে রিসিনোলেইক অ্যাসিড তৈরি হয়, যা অন্ত্রের প্রাচীরকে উদ্দীপিত করে নড়াচড়া ও পানি বাড়ায়; সাধারণত ২ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে মলত্যাগ হয়। ত্বকে এটি একটি ঘন তৈলাক্ত স্তর তৈরি করে, যা পানি হারানো কমায় ও শুষ্ক জায়গা নরম করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ল্যাক্সেটিভ হিসেবে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা একবারে ১৫ থেকে ৩০ ml মুখে, সম্ভব হলে খালি পেটে; দ্রুত কাজ করে বলে ঘুমানোর আগে নয়, অথবা লেবেলের নির্দেশ অনুযায়ী। স্বাদ ভালো করতে ফলের রসের সাথে মিশিয়ে নেওয়া যায়। এটি শুধু অল্প সময়ের জন্য। শিশুদের শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে দিন। ত্বকে প্রয়োজনমতো অল্প পরিমাণে লাগান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- একই সময়ে খাওয়া অন্য ঔষধের শোষণ কমাতে পারে; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন।
- ল্যাক্সেটিভজনিত ডায়রিয়ায় পটাসিয়াম কমে গিয়ে ডিগক্সিন, ডায়ুরেটিক বা কর্টিকোস্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- পরামর্শ ছাড়া অন্য ল্যাক্সেটিভের সাথে একসাথে ব্যবহার করবেন না।
কারা খাবেন না
- গর্ভাবস্থায় (এটি জরায়ুর সংকোচন ঘটাতে পারে)।
- অন্ত্রে বাধা, অকারণে পেটব্যথা, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, বমি ভাব বা বমি, এবং ইনফ্লামেটরি বাউয়েল ডিজিজে।
- ক্যাস্টর অয়েলে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মুখে খেলে পেট কামড়ানো, বমি ভাব, ডায়রিয়া এবং বেশি ব্যবহারে পানিশূন্যতা ও লবণ কমে যাওয়া হতে পারে। দীর্ঘদিন নিয়মিত ব্যবহারে অন্ত্র ল্যাক্সেটিভের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। ত্বকে সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়, তবে সংবেদনশীল মানুষের জ্বালা বা র্যাশ হতে পারে।
পেটে তীব্র ব্যথা, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়াসহ তীব্র ডায়রিয়া, পেশি দুর্বলতা বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া ও শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ক্যাস্টর অয়েল মুখে খাবেন না, কারণ এটি জরায়ুর সংকোচন ঘটাতে পারে; চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া প্রসববেদনা আনতে এটি ব্যবহার করবেন না। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মুখে খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো। ত্বকে ব্যবহার সাধারণত গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হয়।
সতর্কতা
- ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কয়েক দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না; কোষ্ঠকাঠিন্য না কমলে বা মলত্যাগের অভ্যাস বদলালে চিকিৎসক দেখান।
- ব্যবহারের সময় প্রচুর পানি ও তরল পান করুন।
- সংবেদনশীল ত্বকে আগে প্যাচ টেস্ট করুন এবং চোখে লাগাবেন না।
- কখনো কাঁচা রেড়ির বীজ খাবেন না, এতে মারাত্মক বিষ থাকে; পরিশোধিত তেলে তা থাকে না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র ডায়রিয়া, পেট কামড়ানো, পানিশূন্যতা ও লবণের ভারসাম্যহীনতা হতে পারে। তরল পান করুন এবং উপসর্গ তীব্র হলে চিকিৎসা সহায়তা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
উদ্দীপক ল্যাক্সেটিভ; ইমোলিয়েন্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, ভালোভাবে বন্ধ বোতলে, আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।