ব্যবহার
সেফাক্লর একটি অ্যান্টিবায়োটিক। কানের সংক্রমণ (ওটাইটিস মিডিয়া), গলা ও টনসিল, সাইনাস, বুকের সংক্রমণ (ব্রংকাইটিস ও নিউমোনিয়া), প্রস্রাবের নালি এবং ত্বক ও নরম টিস্যুর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে এটি ব্যবহার হয়। সর্দি-কাশি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
ব্যাকটেরিয়া তার কোষপ্রাচীর তৈরি করতে পারে না, ফলে ব্যাকটেরিয়া ভেঙে মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত প্রতি ৮ ঘণ্টা পরপর ২৫০ mg; বেশি গুরুতর সংক্রমণে ডাক্তার প্রতি ৮ ঘণ্টায় ৫০০ mg দিতে পারেন। ধীরে নিঃসৃত (মডিফাইড-রিলিজ) ট্যাবলেট সাধারণত দিনে দুবার, প্যাকেটের নির্দেশ অনুযায়ী। শিশু: শরীরের ওজন অনুযায়ী, ব্যবস্থাপত্র মতো। ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন। সাসপেনশন খাওয়ার আগে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন এবং সাথে দেওয়া চামচ বা সিরিঞ্জ দিয়ে মেপে খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- প্রোবেনেসিড রক্তে সেফাক্লরের মাত্রা বাড়ায়।
- ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে; আইএনআর (রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা) দেখা লাগতে পারে।
- এক ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টাসিড খেলে মডিফাইড-রিলিজ ট্যাবলেটের শোষণ কমে যেতে পারে।
- কিছু প্রস্রাবে শর্করা পরীক্ষায় ভুল পজিটিভ ফল আসতে পারে।
কারা খাবেন না
সেফাক্লর বা অন্য কোনো সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি থাকলে। পেনিসিলিনে আগে মারাত্মক এলার্জি হয়ে থাকলে ডাক্তার নিরাপদ মনে না করলে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, পেটের গোলমাল, র্যাশ ও চুলকানি, এবং যোনিপথে ছত্রাক সংক্রমণ। র্যাশ, গিঁটে ব্যথা ও জ্বরসহ একটি প্রতিক্রিয়া (সিরাম সিকনেসের মতো) হতে পারে, শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, সাধারণত কোর্স চলাকালে বা শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে।
নিচের যেকোনোটি হলে সাথে সাথে চিকিৎসা নিন:
- মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শাঁ শাঁ শব্দ বা শ্বাসকষ্ট।
- ত্বকে ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়া।
- কোর্স চলাকালে বা শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর পর্যন্ত মারাত্মক বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া।
- র্যাশের সাথে গিঁট ফুলে ব্যথা ও জ্বর।
- ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, বা অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থায় সেফালোস্পোরিন সাধারণত নিরাপদ ধরা হয়। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে শিশুর ডায়রিয়া, র্যাশ বা মুখে ছত্রাক হচ্ছে কি না খেয়াল রাখুন।
সতর্কতা
- আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে, বিশেষ করে পেনিসিলিনে এলার্জি হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- কিডনির গুরুতর রোগ বা আগে কোলাইটিস (অন্ত্রের প্রদাহ) হয়ে থাকলে সতর্কভাবে ব্যবহার করুন।
- লম্বা কোর্সে অন্য জীবাণু বা ছত্রাক বেড়ে যেতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে শিশু হলে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
দ্বিতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
ক্যাপসুল, ট্যাবলেট ও শুকনো পাউডার: ৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পানি মেশানো সাসপেনশন: ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C এ রাখুন এবং ১৪ দিন পর বাকিটা ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।