ব্যবহার
সেফডিনির একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে ব্যবহার হয়, যেমন:
- মধ্যকর্ণের সংক্রমণ (ওটাইটিস মিডিয়া), মূলত শিশুদের;
- ব্যাকটেরিয়াজনিত গলাব্যথা ও টনসিলের প্রদাহ;
- সাইনাসের সংক্রমণ;
- বুকের সংক্রমণ, যেমন নিউমোনিয়া ও দীর্ঘমেয়াদি ব্রংকাইটিসের হঠাৎ বেড়ে যাওয়া;
- জটিলতাহীন ত্বকের সংক্রমণ।
সর্দি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
সেফডিনির তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক। এটি ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরিতে বাধা দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া ভেঙে মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৩ বছর বা তার বেশি বয়সী: প্রতি ১২ ঘণ্টা পরপর ৩০০ mg, অথবা দিনে একবার ৬০০ mg, সংক্রমণ অনুযায়ী সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিন। নিউমোনিয়া ও ত্বকের সংক্রমণে প্রতি ১২ ঘণ্টা পরপর ৩০০ mg দেওয়া হয়।
১৩ বছরের কম শিশু: সাসপেনশনের মাত্রা শরীরের ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মতো। সাথে দেওয়া মাপার পাত্র ব্যবহার করুন।
কিডনির সমস্যায় প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী মাত্রা কমানো লাগতে পারে।
খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন, যাতে সংক্রমণ ফিরে না আসে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যালুমিনিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড এবং আয়রন সাপ্লিমেন্ট শোষণ কমায়; এগুলোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা পরে সেফডিনির খান। আয়রনযুক্ত শিশুখাদ্যে এই সমস্যা হয় না।
- প্রোবেনেসিড সেফডিনিরের মাত্রা বাড়ায়।
- আয়রনের সাথে খেলে পায়খানা লালচে হতে পারে; এটি ক্ষতিকর নয়।
কারা খাবেন না
- সেফডিনির বা অন্য সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি থাকলে
- পেনিসিলিন বা অন্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে আগে গুরুতর এলার্জি হয়ে থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, শিশুদের ডায়াপার র্যাশ এবং যোনিপথে ছত্রাক সংক্রমণ। বিশেষ করে আয়রনের সাথে পায়খানা লালচে হতে পারে।
গুরুতর এলার্জি (মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশ বা চাকা), ফোসকা পড়া বা চামড়া ওঠা র্যাশ, অথবা চিকিৎসার সময় বা শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর পর্যন্ত তীব্র, পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সেফালোস্পোরিন সাধারণত গর্ভাবস্থায় নিরাপদ ধরা হয়, তবে শুধু ডাক্তারের পরামর্শে সেফডিনির খান। সাধারণ মাত্রায় বুকের দুধে পরিমাপযোগ্য মাত্রায় পাওয়া যায়নি; ডাক্তারের পরামর্শে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত খাওয়া যায়। শিশুর ডায়রিয়া বা ছত্রাক সংক্রমণ হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন।
সতর্কতা
- আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে, বিশেষ করে পেনিসিলিনে এলার্জি হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- কিডনির রোগে এবং আগে অন্ত্রের প্রদাহ (কোলাইটিস) হয়ে থাকলে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- দীর্ঘদিন খেলে প্রতিরোধী জীবাণু বা ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে।
- সাসপেনশনে চিনি থাকে; ডায়াবেটিসে সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া এবং কম ক্ষেত্রে খিঁচুনি হতে পারে। ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান; লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং ডায়ালাইসিসে ঔষধটি বের করা যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিবায়োটিক (তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেশানোর পর সাসপেনশনের বোতল ভালোভাবে বন্ধ রাখুন, প্রতিবার খাওয়ার আগে ঝাঁকিয়ে নিন এবং ১০ দিন পর অবশিষ্ট অংশ ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।