ব্যবহার
সেফডিটোরেন মুখে খাওয়ার একটি সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক। গলার সংক্রমণ (ফ্যারিঞ্জাইটিস ও টনসিলাইটিস), সাইনাসের সংক্রমণ, দীর্ঘমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিসের হঠাৎ বেড়ে যাওয়া, সমাজে হওয়া নিউমোনিয়া এবং জটিলতাহীন ত্বকের সংক্রমণের মতো হালকা থেকে মাঝারি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে এটি ব্যবহৃত হয়। সর্দি বা ফ্লুর মতো ভাইরাস সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
সেফডিটোরেন পেনিসিলিন বাইন্ডিং প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরি বন্ধ করে দেয়। শক্ত প্রাচীর না থাকায় ব্যাকটেরিয়া ফেটে মারা যায়। কিছু ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক নষ্ট করতে যে বিটা ল্যাকটামেজ এনজাইম ব্যবহার করে, তার অনেকগুলোর বিরুদ্ধে এটি টিকে থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- গলা, সাইনাস ও ত্বকের সংক্রমণ: সাধারণত দিনে দুবার ২০০ mg, ১০ দিন।
- দীর্ঘমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিসের বেড়ে যাওয়া: সাধারণত দিনে দুবার ৪০০ mg, ১০ দিন।
- নিউমোনিয়া: সাধারণত দিনে দুবার ৪০০ mg, ১৪ দিন।
খাবারের সাথে খান, এতে শোষণ ভালো হয়। ভালো বোধ করলেও পুরো কোর্স শেষ করুন। কিডনির সমস্যায় কম মাত্রা লাগতে পারে। ১২ বছরের কম বয়সীদের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয় না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যালুমিনিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড এবং ফ্যামোটিডিন বা র্যানিটিডিনের মতো এসিড কমানোর ঔষধ এর শোষণ কমায়; একই সময়ে খাবেন না। প্রোবেনেসিড সেফডিটোরেনের মাত্রা বাড়ায়। অ্যান্টিবায়োটিক কদাচিৎ ওয়ারফারিনের কাজে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই রক্ত পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।
কারা খাবেন না
সেফালোস্পোরিনে অ্যালার্জি থাকলে বা পেনিসিলিনে আগে তীব্র অ্যালার্জি হয়ে থাকলে খাবেন না। কার্নিটিনের ঘাটতি বা তা ঘটায় এমন বংশগত রোগ থাকলে, অথবা দুধের প্রোটিনে (কেসিন) অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না, কারণ ট্যাবলেটে সোডিয়াম কেসিনেট থাকে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- ডায়রিয়া ও বমিভাব
- মাথাব্যথা
- পেট ব্যথা ও বদহজম
- যোনিপথে ছত্রাক সংক্রমণ
তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া (কোর্স শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরেও হতে পারে), ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়া র্যাশ, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, অথবা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এর ব্যবহার নিয়ে তথ্য সীমিত। চিকিৎসক স্পষ্টভাবে প্রয়োজন মনে করলেই ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
দীর্ঘ সময় খেলে শরীরে কার্নিটিনের মাত্রা কমে যেতে পারে; এটি শুধু অল্প সময়ের ব্যবহারের জন্য। কিডনি বা লিভারের রোগ, অথবা কোলাইটিসের মতো অন্ত্রের সমস্যার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান। প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খেলে ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত মাত্রায় বমিভাব, বমি, পেট ব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে, এবং কিডনির সমস্যা থাকলে খিঁচুনিও হতে পারে। চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিবায়োটিক, তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।