ব্যবহার
সেফোপেরাজোন তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক, যা ইনজেকশনের মাধ্যমে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে দেওয়া হয়, যেমন ফুসফুস ও শ্বাসনালী, মূত্রনালী, পেট, পিত্তনালী, ত্বক ও নরম টিস্যু, হাড় ও গিঁট, নারীদের পেলভিসের অঙ্গ এবং রক্তের সংক্রমণ (সেপ্টিসেমিয়া)। প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকারিতা বাড়াতে এটি প্রায়ই সালব্যাকটামের সাথে দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
সেফোপেরাজোন ব্যাকটেরিয়াকে কোষপ্রাচীর তৈরি করতে বাধা দেয়। মজবুত প্রাচীর ছাড়া ব্যাকটেরিয়া ফেটে মারা যায়। এটি সূডোমোনাস এরুজিনোসাসহ অনেক গ্রাম-নেগেটিভ এবং কিছু গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর। সর্দি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সেফোপেরাজোন চিকিৎসক বা নার্স শিরায় (ধীরে বা ড্রিপে) বা বড় পেশিতে ইনজেকশন হিসেবে দেন। মাত্রা ও চিকিৎসার সময়কাল সংক্রমণ ও রোগীর উপর নির্ভর করে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী; প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত দিনে ২ g থেকে ৪ g দুই ভাগে পান, গুরুতর সংক্রমণে আরও বেশি। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী চিকিৎসক ঠিক করেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যালকোহল: চিকিৎসার সময় ও পরের অন্তত ৩ দিন অ্যালকোহল খেলে মুখ লাল হওয়া, ঘাম, মাথাব্যথা, বমি ও দ্রুত হৃৎস্পন্দন (ডাইসালফিরামের মতো প্রতিক্রিয়া) হতে পারে। অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলযুক্ত ঔষধ এড়িয়ে চলুন।
- ওয়ারফারিন ও অন্য রক্ত পাতলাকারকের সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড (যেমন জেন্টামাইসিন, অ্যামিকাসিন) একই সিরিঞ্জ বা লাইনে মেশানো যাবে না; একসাথে দিলে কিডনির উপর প্রভাব বাড়তে পারে।
- ফিউরোসেমাইডের মতো শক্তিশালী মূত্রবর্ধক কিডনির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- সেফোপেরাজোন বা অন্য সেফালোস্পোরিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- পেনিসিলিন বা অন্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে গুরুতর অ্যালার্জি (অ্যানাফিলাক্সিস) এর ইতিহাস।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ডায়রিয়া, বমিভাব, র্যাশ, চুলকানি, ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা ফোলা এবং লিভার পরীক্ষার পরিবর্তন সাধারণ। এটি ভিটামিন K কমিয়ে রক্তপাতের সমস্যা করতে পারে, বিশেষ করে অপুষ্ট বা বয়স্ক রোগীদের; ভিটামিন K দেওয়া হতে পারে।
মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশ বা ত্বক উঠে যাওয়া, তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া (চিকিৎসার কয়েক সপ্তাহ পরেও হতে পারে), অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ, অথবা ত্বক হলুদ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসাকর্মীদের জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রয়োজনে গর্ভাবস্থায় সেফালোস্পোরিন সাধারণত নিরাপদ মনে করা হয়, এবং চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে সেফোপেরাজোন দেওয়া হয়। অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়; সাধারণত দুধ খাওয়ানো যায়, তবে শিশুর ডায়রিয়া বা মুখে ছত্রাক সংক্রমণের দিকে নজর রাখুন।
সতর্কতা
যেকোনো অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি, লিভার বা পিত্তনালীর রোগ, কিডনির রোগ, অপুষ্টি বা রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান। দীর্ঘ কোর্সে রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা করা হতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে প্রতিরোধী জীবাণু বা ছত্রাকের অতিরিক্ত বৃদ্ধি হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত সেবন বিরল, তবে উচ্চ মাত্রায়, বিশেষ করে কিডনি বিকল হলে, খিঁচুনি হতে পারে। চিকিৎসক দল সহায়ক চিকিৎসা দেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিবায়োটিক, তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন।
সংরক্ষণ
প্যাকেটের নির্দেশ অনুযায়ী, সাধারণত ৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেশানোর পর হাসপাতালের ফার্মেসির নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।