ব্যবহার
সেফোট্যাক্সিম একটি অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন, যা ব্যাকটেরিয়াজনিত গুরুতর সংক্রমণে ব্যবহার হয়, যেমন:
- নিউমোনিয়া ও বুকের অন্যান্য সংক্রমণ
- মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্কের আবরণের সংক্রমণ)
- রক্তের সংক্রমণ (সেপটিসেমিয়া)
- কিডনি ও প্রস্রাবের নালির সংক্রমণ
- পেটের ভেতরের, ত্বকের, হাড় ও জোড়ার সংক্রমণ
- গনোরিয়া
- কিছু অপারেশনের সময় সংক্রমণ প্রতিরোধে
কীভাবে কাজ করে
সেফোট্যাক্সিম ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরিতে বাধা দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া ভেঙে মারা যায়। এটি অনেক সাধারণ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, তবে সর্দি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ডাক্তার বা নার্স শিরায় বা মাংসপেশিতে ইনজেকশন হিসেবে সেফোট্যাক্সিম দেন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা প্রতি ১২ ঘণ্টায় ১ g। মেনিনজাইটিসের মতো গুরুতর সংক্রমণে ডাক্তার বেশি মাত্রায় ও ঘন ঘন দেন। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী ঠিক করা হয়, ডাক্তারের নির্দেশমতো। কিডনির সমস্যায় মাত্রা কমানো লাগতে পারে। ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করতে হবে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- প্রোবেনেসিড রক্তে সেফোট্যাক্সিমের মাত্রা বাড়ায়।
- জেন্টামাইসিনের মতো অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিক বা ফুরোসেমাইডের মতো শক্তিশালী প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ একসাথে দিলে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- অ্যান্টিবায়োটিক মুখে খাওয়ার টাইফয়েড টিকার কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- কিছু রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষায় ভুল ফল আসতে পারে, তাই ল্যাবকে জানিয়ে রাখুন।
কারা খাবেন না
সেফোট্যাক্সিম বা অন্য কোনো সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিকে যাদের অ্যালার্জি আছে, অথবা পেনিসিলিন বা এ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকে যাদের আগে মারাত্মক অ্যালার্জি (যেমন অ্যানাফাইল্যাক্সিস) হয়েছে, তাদের এটি দেওয়া যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা ফোলা, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, ত্বকে র্যাশ ও চুলকানি। কম ক্ষেত্রে রক্তকণিকা বা লিভার পরীক্ষায় পরিবর্তন এবং মুখে বা যোনিতে ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা গায়ে র্যাশ
- চিকিৎসার সময় বা কয়েক সপ্তাহ পরে তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া
- ত্বকে ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়া
- ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে
- খিঁচুনি বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ডাক্তার একান্ত প্রয়োজন মনে করলে তবেই এটি দেওয়া হয়। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে শিশুর ডায়রিয়া, র্যাশ বা মুখে ছত্রাক দেখা দিলে ডাক্তারকে জানান।
সতর্কতা
- আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- কিডনির রোগে মাত্রা কমানো লাগতে পারে।
- দীর্ঘ কোর্সে রক্তকণিকা দেখার জন্য রক্ত পরীক্ষা লাগতে পারে।
- প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া ঔষধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়। বিশেষ করে কিডনির রোগীদের রক্তে মাত্রা খুব বেশি হলে বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক নড়াচড়া বা খিঁচুনি হতে পারে। উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়, আর ডায়ালাইসিসে ঔষধটি শরীর থেকে বের করা যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
না খোলা ভায়াল ৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। তরলের সাথে মেশানোর পর প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবহার করতে হবে।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।