ব্যবহার
সেফোটেটান একটি ইনজেকশনযোগ্য অ্যান্টিবায়োটিক, যা গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যেমন ফুসফুস, মূত্রনালী, ত্বক ও নরম টিস্যু, হাড় ও গিঁট, পেটের ভেতর এবং নারীদের শ্রোণিঅঙ্গের সংক্রমণ। পেট, অন্ত্র বা স্ত্রীরোগের অস্ত্রোপচার এবং সিজারিয়ানের মতো কিছু অপারেশনের ঠিক আগে সংক্রমণ প্রতিরোধেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
সেফোটেটান সেফামাইসিন গ্রুপের ঔষধ, যা সেফালোস্পোরিনের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। ব্যাকটেরিয়া কোষপ্রাচীর তৈরিতে যে প্রোটিন ব্যবহার করে, এটি সেগুলোর সাথে যুক্ত হয়ে প্রাচীর ঠিকমতো গঠনে বাধা দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া ফেটে মারা যায়। এটি অনেক সাধারণ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর, যার মধ্যে অন্ত্র ও শ্রোণিতে থাকা কিছু অ্যানারোব (অক্সিজেন ছাড়া বাঁচে এমন) ব্যাকটেরিয়াও রয়েছে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সেফোটেটান চিকিৎসক বা নার্স শিরায় (IV) বা গভীর পেশিতে (IM) ইনজেকশন হিসেবে দেন। সংক্রমণের ধরন ও তীব্রতা, ওজন ও কিডনির কার্যক্ষমতা অনুযায়ী মাত্রা, কতবার দেওয়া হবে ও কতদিন চলবে তা চিকিৎসক ঠিক করেন। অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে সাধারণত অপারেশনের কিছুক্ষণ আগে একটি মাত্রা দেওয়া হয়। কিডনি ভালোভাবে কাজ না করলে মাত্রা বদলাতে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যালকোহল: চিকিৎসার সময় ও শেষ মাত্রার অন্তত ৭২ ঘণ্টা পর পর্যন্ত অ্যালকোহল পান করলে মুখ লাল হওয়া, মাথাব্যথা, বমিভাব, বমি ও দ্রুত হৃৎস্পন্দন হতে পারে (ডাইসালফিরামের মতো প্রতিক্রিয়া)।
- ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলাকারক ও রক্ত জমাট বাঁধায় প্রভাব ফেলা অন্য ঔষধ: রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।
- জেন্টামাইসিনের মতো অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিক ও ফুরোসেমাইডের মতো শক্তিশালী মূত্রবর্ধক কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- প্রস্রাবে শর্করা পরীক্ষা ও কুম্বস টেস্টের মতো কিছু ল্যাব পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
কারা খাবেন না
- সেফোটেটান, অন্য সেফালোস্পোরিন বা সেফামাইসিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- আগে কোনো সেফালোস্পোরিনের কারণে হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া (লোহিত কণিকা ভেঙে যাওয়া) হয়ে থাকলে।
- পেনিসিলিনে গুরুতর অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে খুব সাবধানে ব্যবহার করতে হবে বা এড়িয়ে চলতে হবে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে ডায়রিয়া, বমিভাব, র্যাশ, চুলকানি, ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা ফোলা, এবং যকৃতের পরীক্ষা বা রক্তকণিকার পরিবর্তন হতে পারে। এটি ভিটামিন K-নির্ভর রক্ত জমাট বাঁধার উপাদান কমিয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে। কদাচিৎ হলেও গুরুতর একটি প্রভাব হলো ইমিউন হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া, যেখানে লোহিত কণিকা ধ্বংস হয়।
গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ (মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শোঁ শোঁ শব্দ, জ্ঞান হারানো), তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ, গাঢ় প্রস্রাব, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, হঠাৎ ফ্যাকাশে ভাব বা ক্লান্তি, অথবা ফোসকাযুক্ত র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রয়োজনে গর্ভাবস্থায় সেফালোস্পোরিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণত গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়, এবং সিজারিয়ানের সময় সংক্রমণ প্রতিরোধে সেফোটেটান ব্যবহৃত হয়। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে শিশুর ডায়রিয়া, মুখে ছত্রাক বা র্যাশ হলে চিকিৎসককে জানান।
সতর্কতা
- আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি হয়ে থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- বিশেষ করে বয়স্ক, অপুষ্ট বা খুব অসুস্থ রোগীদের কিডনির কার্যক্ষমতা, রক্তকণিকা ও রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা করা হতে পারে।
- রক্তক্ষরণের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিকে ভিটামিন K দেওয়া হতে পারে।
- দীর্ঘদিন ব্যবহারে ঔষধ-প্রতিরোধী জীবাণু বা ছত্রাক বেড়ে উঠতে পারে।
- চিকিৎসার সময় ও পরের ৭২ ঘণ্টা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত সেবন কম হয়। খুব বেশি মাত্রায়, বিশেষ করে কিডনি বিকল থাকলে, খিঁচুনি ও রক্তক্ষরণ হতে পারে। সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং ডায়ালাইসিস ঔষধ সরাতে সাহায্য করতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিবায়োটিক, দ্বিতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন (সেফামাইসিন)।
সংরক্ষণ
প্যাকেটের নির্দেশ অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন, সাধারণত ৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে। তৈরি করা দ্রবণ প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করতে হবে।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।