ব্যবহার
সেফপিরোম চতুর্থ প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক, যা হাসপাতালে ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়। নিউমোনিয়া ও অন্যান্য নিম্ন শ্বাসনালীর সংক্রমণ, জটিল মূত্রনালী ও কিডনির সংক্রমণ, ত্বক ও নরম কলার সংক্রমণ, রক্তে সংক্রমণ (সেপ্টিসেমিয়া) এবং শ্বেত রক্তকণিকা কম থাকা রোগীর জ্বরসহ সংক্রমণের মতো গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরিতে যে এনজাইম লাগে, সেফপিরোম তা আটকে দেয়। সঠিক প্রাচীর না থাকায় ব্যাকটেরিয়া ফেটে মারা যায়। পুরোনো সেফালোস্পোরিনে প্রতিরোধী অনেক ব্যাকটেরিয়া, যেমন কিছু সিউডোমোনাস ও এন্টারোব্যাক্টার, সহ বিস্তৃত পরিসরের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে এটি কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সেফপিরোম চিকিৎসক বা নার্স শিরায় ইনজেকশন বা ইনফিউশন হিসেবে দেন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা সংক্রমণের ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী প্রতি ১২ ঘণ্টায় ১ থেকে ২ g। কিডনির সমস্যায় মাত্রা কমানো হয়। চিকিৎসার মেয়াদ সংক্রমণ অনুযায়ী চিকিৎসক ঠিক করেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
জেন্টামাইসিনের মতো অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড বা ফুরোসেমাইডের মতো শক্তিশালী মূত্রবর্ধক ঔষধের সাথে ব্যবহারে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই কিডনির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এটি মুখে খাওয়ার টাইফয়েড টিকার কার্যকারিতা কমাতে পারে এবং প্রস্রাবে শর্করা পরীক্ষার কিছু ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
কারা খাবেন না
সেফপিরোম বা অন্য সেফালোস্পোরিনে অ্যালার্জি থাকলে, অথবা পেনিসিলিন বা অন্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে আগে গুরুতর অ্যালার্জি (অ্যানাফাইল্যাক্সিস) হয়ে থাকলে ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ডায়রিয়া, বমিভাব, বমি, র্যাশ, চুলকানি, ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা ফোলা, মাথাব্যথা, স্বাদের পরিবর্তন এবং রক্ত পরীক্ষায় পরিবর্তন (লিভার এনজাইম, রক্তকণিকা) হতে পারে। মুখে বা যৌনাঙ্গে ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে।
মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে র্যাশের মতো গুরুতর অ্যালার্জি, তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া (চিকিৎসার সময় বা কয়েক সপ্তাহ পরেও হতে পারে), খিঁচুনি, বিভ্রান্তি, অথবা অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে হলে সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের জানান বা দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত; চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলে তবেই দেওয়া হয়। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যেতে পারে; বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাবেন কি না, চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি, কিডনির রোগ, খিঁচুনির ইতিহাস বা অন্ত্রের প্রদাহ (কোলাইটিস) থাকলে চিকিৎসককে জানান। দীর্ঘ বা উচ্চ মাত্রার চিকিৎসায় রক্তকণিকা ও কিডনির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ দরকার। অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারে প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে, তাই উপযুক্ত সংক্রমণেই এটি ব্যবহার হয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
খুব বেশি মাত্রায়, বিশেষ করে কিডনি বিকল রোগীদের, বিভ্রান্তি, পেশি কাঁপা বা খিঁচুনি হতে পারে। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়; ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে ঔষধটি শরীর থেকে বের করা যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিবায়োটিক (চতুর্থ প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন)।
সংরক্ষণ
হাসপাতালে ব্যবহৃত ঔষধ: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।