ব্যবহার
সেফপোডক্সিম একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, যেমন:
- গলা ও টনসিলের সংক্রমণ, সাইনুসাইটিস ও মধ্যকর্ণের সংক্রমণ।
- বুকের সংক্রমণ, যেমন ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়া।
- জটিলতাহীন প্রস্রাবের সংক্রমণ।
- ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ।
- জটিলতাহীন গনোরিয়া।
সর্দি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
সেফপোডক্সিম ব্যাকটেরিয়াকে তার কোষপ্রাচীর তৈরি করতে দেয় না, ফলে ব্যাকটেরিয়া ভেঙে মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশু: সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ mg দিনে ২ বার, ৫ থেকে ১৪ দিন। জটিলতাহীন গনোরিয়ায় সাধারণত একবার ২০০ mg, ডাক্তারের নির্দেশমতো।
- ১২ বছরের কম বয়সী শিশু: ওজন অনুযায়ী সাসপেনশন, ডাক্তারের নির্দেশমতো।
- কিডনির সমস্যা থাকলে ডাক্তার মাত্রা কমাতে পারেন।
ট্যাবলেট খাবারের সাথে খাওয়া ভালো। ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যান্টাসিড এবং ওমেপ্রাজল, রেনিটিডিন ও ফ্যামোটিডিনের মতো এসিড কমানোর ঔষধ এর শোষণ কমায়; অ্যান্টাসিড অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা পরে খান। প্রোবেনেসিড সেফপোডক্সিমের মাত্রা বাড়ায়। ফুরোসেমাইডের মতো শক্তিশালী ডাইইউরেটিক ও কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। প্রস্রাবে শর্করা পরীক্ষার কিছু পদ্ধতিতে ভুল পজিটিভ ফল আসতে পারে।
কারা খাবেন না
- সেফপোডক্সিম বা অন্য সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি থাকলে।
- আগে পেনিসিলিন বা অন্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে মারাত্মক অ্যালার্জি হয়ে থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ডায়রিয়া, বমিভাব, পেটব্যথা, মাথাব্যথা ও র্যাশ। যোনিতে বা মুখে ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলে, শ্বাসকষ্ট হয়, ত্বকে ফোসকা পড়ে বা চামড়া উঠে যায়, অথবা তীব্র, পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া হয় (চিকিৎসার সময় বা কয়েক সপ্তাহ পরেও হতে পারে)।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থায় সেফালোস্পোরিন সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে শিশুর ডায়রিয়া বা মুখে ছত্রাক হলে ডাক্তারকে জানান।
সতর্কতা
- আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- কিডনির রোগ ও কোলাইটিসের ইতিহাস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- দীর্ঘদিন ব্যবহারে ঔষধ-প্রতিরোধী জীবাণু বা ছত্রাক বাড়তে পারে।
- ২ থেকে ৩ দিনে উন্নতি না হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বমিভাব, বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে। কিডনি বিকল রোগীদের ক্ষেত্রে খুব বেশি মাত্রায় কদাচিৎ খিঁচুনি হতে পারে। বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
ট্যাবলেট ও শুকনো পাউডার ৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। সাসপেনশন বানানোর পর ফ্রিজে (২ থেকে ৮°C) রাখুন এবং লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে, সাধারণত ১৪ দিনের মধ্যে, শেষ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।