ব্যবহার
সেফটারোলিন ফসামিল হাসপাতালে শিরায় স্যালাইন (ইনফিউশন) হিসেবে দেওয়া একটি উন্নত সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক। এটি প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের জটিল ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ এবং কমিউনিটি-অ্যাকুইর্ড নিউমোনিয়া (হাসপাতালের বাইরে হওয়া ফুসফুসের সংক্রমণ) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অনেক সেফালোস্পোরিন যেখানে কাজ করে না, সেই MRSA (মেথিসিলিন-প্রতিরোধী স্ট্যাফিলোককাস অরিয়াস) এর বিরুদ্ধে এটি কার্যকর।
কীভাবে কাজ করে
সেফটারোলিন ফসামিল একটি প্রোড্রাগ, যা শরীরে দ্রুত সক্রিয় সেফটারোলিনে পরিণত হয়। এটি MRSA এর পরিবর্তিত PBP2a সহ পেনিসিলিন-বাইন্ডিং প্রোটিনে শক্তভাবে যুক্ত হয়ে ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরি বন্ধ করে, ফলে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। এটি অনেক গ্রাম-পজিটিভ ও কিছু সাধারণ গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ডাক্তার বা নার্স এটি শিরায় ধীরে স্যালাইন হিসেবে দেন, সাধারণত প্রতি ৮ থেকে ১২ ঘণ্টায় প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে। মাত্রা ও চিকিৎসার সময়কাল (প্রায়ই ৫ থেকে ১৪ দিন) সংক্রমণ, বয়স, ওজন ও কিডনির কার্যকারিতার উপর নির্ভর করে এবং ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
বড় ধরনের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের মতো এটি মুখে খাওয়ার জীবন্ত টাইফয়েড ও কলেরা টিকার কার্যকারিতা কমাতে পারে। ওয়ারফারিনসহ অন্য সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান, কারণ অ্যান্টিবায়োটিক রক্ত পাতলা করার প্রভাবে পরিবর্তন আনতে পারে।
কারা খাবেন না
সেফটারোলিন বা অন্য সেফালোস্পোরিনে অ্যালার্জি থাকলে, অথবা পেনিসিলিন বা কার্বাপেনেমের মতো কোনো বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে তীব্র অ্যালার্জি (যেমন অ্যানাফাইল্যাক্সিস) হয়ে থাকলে এটি দেওয়া যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- ডায়রিয়া, বমিভাব, বমি, পেটে ব্যথা।
- মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা।
- ফুসকুড়ি বা চুলকানি।
- স্যালাইনের জায়গায় ব্যথা বা প্রদাহ।
- কুম্বস টেস্ট পজিটিভ হওয়া; কদাচিৎ লোহিত কণিকা ভেঙে রক্তস্বল্পতা।
- দীর্ঘ চিকিৎসায় শ্বেতকণিকা কমে যাওয়া।
মুখ বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট, ফোসকা বা চামড়া ওঠা তীব্র ফুসকুড়ি, চিকিৎসার সময় বা পরে তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, খিঁচুনি বা বিভ্রান্তি, ফ্যাকাশে বা হলুদ ত্বকসহ অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অথবা গলা ব্যথাসহ জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় তথ্য সীমিত; ডাক্তার স্পষ্টভাবে প্রয়োজন মনে করলেই ব্যবহার করা হয়। বুকের দুধে কতটা যায় তা জানা নেই; চিকিৎসার সময় দুধ খাওয়ানো চলবে কিনা তা ডাক্তার ঠিক করবেন।
সতর্কতা
অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি, কিডনির সমস্যা (মাত্রা পরিবর্তন দরকার), খিঁচুনি বা অন্ত্রের রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান। দীর্ঘ কোর্সে রক্তকণিকা পরীক্ষা করা হতে পারে। সব অ্যান্টিবায়োটিকের মতো দীর্ঘদিন ব্যবহারে প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক বাড়তে পারে এবং ক্লস্ট্রিডিওয়েডস ডিফিসিল ডায়রিয়া হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। চিকিৎসা লক্ষণ অনুযায়ী দেওয়া হয়; হিমোডায়ালাইসিসে ঔষধের কিছু অংশ সরানো যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
MRSA-বিরোধী সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক (প্রায়ই পঞ্চম প্রজন্ম বলা হয়)।
সংরক্ষণ
হাসপাতালে ব্যবহৃত ঔষধ: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী ভায়াল ৩০°C এর নিচে, আলো থেকে বাঁচাতে আসল বাক্সে রাখুন। তৈরি করা স্যালাইন প্যাকে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।