ব্যবহার
সেফটিবুটেন মুখে খাওয়ার একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা হালকা থেকে মাঝারি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে ব্যবহার হয়, যেমন:
- স্ট্রেপ্টোককাস ব্যাকটেরিয়াজনিত গলা ব্যথা ও টনসিলাইটিস।
- মধ্যকর্ণের সংক্রমণ (ওটাইটিস মিডিয়া)।
- দীর্ঘমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিসে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বেড়ে গেলে।
- অনুমোদিত ক্ষেত্রে মূত্রনালির সংক্রমণ।
সর্দি, ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
সেফটিবুটেন একটি তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন। এটি ব্যাকটেরিয়াকে কোষপ্রাচীর তৈরি করতে দেয় না, ফলে ব্যাকটেরিয়া ভেঙে গিয়ে মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছর বা তার বেশি: সাধারণত দিনে একবার ৪০০ mg, সচরাচর ১০ দিন, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- ১২ বছরের কম বয়সী শিশু: শরীরের ওজন অনুযায়ী দিনে একবার সাসপেনশন, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কের মাত্রার বেশি নয়।
- কিডনির সমস্যায়: ডাক্তার মাত্রা কমাতে পারেন।
খাবারের বিষয়ে প্যাকেটের নির্দেশনা মানুন; সাসপেনশন সাধারণত খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে খেতে হয়। সাসপেনশন ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে মাপার পাত্র দিয়ে মেপে খান। প্রতিদিন একই সময়ে খান এবং ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া কম জানা আছে। যত ঔষধ খাচ্ছেন সবই ডাক্তারকে জানান। অন্য সেফালোস্পোরিনের মতো এটি কিছু ল্যাব পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, যেমন কুম্বস টেস্ট ও প্রস্রাবের কিছু গ্লুকোজ পরীক্ষা; ল্যাবকে জানান যে আপনি এটি খাচ্ছেন।
কারা খাবেন না
- সেফটিবুটেন বা অন্য কোনো সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি থাকলে।
- আগে কখনও পেনিসিলিন বা অন্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে তীব্র এলার্জি হয়ে থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা, মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা। কম ক্ষেত্রে: বমি, বদহজম, চামড়ায় ফুসকুড়ি বা চুলকানি এবং যোনিতে ছত্রাক সংক্রমণ।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি: তীব্র এলার্জির লক্ষণ (মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে আমবাতের মতো ফোলা), ফোসকাসহ ফুসকুড়ি, চামড়া উঠে যাওয়া বা মুখে ঘা, অথবা পেট কামড়ানোর সাথে তীব্র, পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত পাতলা পায়খানা হয়, যা চিকিৎসার সময় বা শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরেও হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় সেফালোস্পোরিনকে সাধারণত তুলনামূলক নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক ধরা হয়, তবে ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলেই সেফটিবুটেন ব্যবহার করা উচিত। বুকের দুধে কতটা যায় জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
আগে কখনও কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি হয়ে থাকলে, কিডনির রোগ বা কোলাইটিসের মতো অন্ত্রের সমস্যার ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান। প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খেলে বা আগেই বন্ধ করলে ঔষধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সাসপেনশনে চিনি থাকে; ডায়াবেটিসে সাবধান থাকুন। কয়েক দিনেও ভালো না লাগলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা ও পাতলা পায়খানা হতে পারে, আর কিডনির সমস্যা থাকলে খিঁচুনিও হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন; গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করে এটি শরীর থেকে বের করা যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক (তৃতীয় প্রজন্ম)।
সংরক্ষণ
ক্যাপসুল ও শুকনো পাউডার: ৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সাসপেনশন তৈরির পর ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন এবং ১৪ দিন পর অবশিষ্ট ঔষধ ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।