ব্যবহার
সেফুরক্সিম অ্যাক্সেটিল মুখে খাওয়ার একটি অ্যান্টিবায়োটিক। গলা ও টনসিল, কান, সাইনাস ও বুকের (যেমন ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়া) ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, মূত্রনালির সংক্রমণ, ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ, জটিলতাহীন গনোরিয়া এবং লাইম রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ব্যবহার হয়। সর্দি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
এটি সেফালোস্পোরিন গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক। ব্যাকটেরিয়ার বেঁচে থাকার জন্য দরকারি কোষপ্রাচীর নষ্ট করে, ফলে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে দুবার ২৫০ mg; বুকের তুলনামূলক গুরুতর সংক্রমণে দিনে দুবার ৫০০ mg; মূত্রনালির সংক্রমণে দিনে দুবার ১২৫ থেকে ২৫০ mg। চিকিৎসা সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিন, ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী। শিশু: ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের নির্দেশমতো। খাবারের পরে খান, এতে শরীর ভালোভাবে শোষণ করে, এবং নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে খান। ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যান্টাসিড এবং ফ্যামোটিডিন ও ওমিপ্রাজলের মতো অ্যাসিড কমানোর ঔষধ শোষণ কমাতে পারে।
- প্রোবেনেসিড সেফুরক্সিমের মাত্রা বাড়ায়।
- ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে।
- মুখে খাওয়ার টাইফয়েড টিকার কার্যকারিতা কমাতে পারে, এবং কদাচিৎ, বিশেষ করে বমি বা ডায়রিয়া হলে, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির কার্যকারিতা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
সেফুরক্সিম বা যেকোনো সেফালোস্পোরিনে এলার্জি থাকলে, এবং পেনিসিলিন বা অন্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে আগে গুরুতর এলার্জি (যেমন অ্যানাফাইল্যাক্সিস) হয়ে থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং ছত্রাক সংক্রমণ।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে ফুসকুড়ির মতো গুরুতর এলার্জি, তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, ফোসকা পড়া বা চামড়া ওঠা ফুসকুড়ি, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দেখা দিলে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সেফালোস্পোরিন গর্ভাবস্থায় বহুল ব্যবহৃত এবং শিশুর ক্ষতির প্রমাণ নেই; শুধু ডাক্তার দিলে খান। অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়; সাধারণত দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে শিশুর ডায়রিয়া, মুখে ছত্রাক বা ফুসকুড়ি হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন।
সতর্কতা
- পেনিসিলিন বা অন্য অ্যান্টিবায়োটিকে আগে এলার্জি হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- গুরুতর কিডনি রোগে মাত্রা কমাতে হতে পারে।
- দীর্ঘদিন বা বারবার ব্যবহারে ঔষধ-প্রতিরোধী সংক্রমণ বা ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। খুব বেশি মাত্রায় খিঁচুনি হতে পারে, বিশেষ করে কিডনি রোগীদের। চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
দ্বিতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
ট্যাবলেট ৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সাসপেনশন তৈরির পর ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন এবং প্যাকে লেখা সময়ের মধ্যে (সাধারণত ১০ দিন) শেষ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।