ব্যবহার
সেলিপ্রোলল একটি বিটা ব্লকার ঔষধ। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং অ্যানজাইনা (হৃদপেশিতে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার কারণে বুকে ব্যথা) প্রতিরোধে এটি ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
সেলিপ্রোলল মূলত হৃদপিণ্ডের বিটা-১ রিসেপ্টর আটকে দেয়। এতে হৃদস্পন্দন ধীর হয়, হৃদপিণ্ডের চাপ ও অক্সিজেনের চাহিদা কমে এবং রক্তচাপ কমে আসে। অনেক বিটা ব্লকারের চেয়ে ভিন্নভাবে এটি বিটা-২ রিসেপ্টরকে হালকাভাবে উদ্দীপিত করে, যা রক্তনালিকে শিথিল রাখতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা দিনে একবার ২০০ mg। প্রয়োজনে চিকিৎসক তা দিনে একবার ৪০০ mg পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। খালি পেটে, সকালের নাস্তার প্রায় ৩০ মিনিট আগে পানি দিয়ে খাবেন। কমলার রস বা জাম্বুরার রসের সাথে খাবেন না, কারণ এতে ঔষধের শোষণ অনেক কমে যায়। হঠাৎ ঔষধ বন্ধ করবেন না; চিকিৎসক ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ভেরাপামিল বা ডিলটিয়াজেম: হৃদস্পন্দন অতিরিক্ত ধীর হওয়া ও হার্ট ব্লকের ঝুঁকি।
- অন্যান্য রক্তচাপের ঔষধ: রক্তচাপ বেশি কমে যেতে পারে।
- ক্লোনিডিন: দুটোই বন্ধ করতে হলে আগে সেলিপ্রোলল বন্ধ করতে হয়, নইলে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
- অ্যামিওডারোনের মতো হৃদছন্দের ঔষধ: হৃদছন্দের ওপর প্রভাব বাড়তে পারে।
- ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ঔষধ: রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার লক্ষণ, যেমন বুক ধড়ফড়, চাপা পড়ে যেতে পারে।
- আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক (NSAID): রক্তচাপ কমানোর প্রভাব দুর্বল করতে পারে।
কারা খাবেন না
- সেলিপ্রোললে অ্যালার্জি থাকলে।
- হৃদস্পন্দন খুব ধীর হলে, পেসমেকার ছাড়া দ্বিতীয় বা তৃতীয় মাত্রার হার্ট ব্লক বা সিক সাইনাস সিনড্রোম থাকলে।
- অনিয়ন্ত্রিত হার্ট ফেইলিওর বা কার্ডিওজেনিক শক থাকলে।
- চিকিৎসা না করা ফিওক্রোমোসাইটোমা (অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির টিউমার) থাকলে।
- কিডনির গুরুতর সমস্যা থাকলে।
- তীব্র হাঁপানি বা ফুসফুসের গুরুতর দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, বমিভাব, ঘুমের সমস্যা এবং হাত-পা ঠান্ডা লাগা। কম ক্ষেত্রে নাড়ি ধীর হওয়া, দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যাওয়া, ত্বকে র্যাশ বা হাঁপানি রোগীদের শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ বা শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হৃদস্পন্দন খুব ধীর বা অনিয়মিত হওয়া, শ্বাসকষ্টসহ পা ফুলে যাওয়া, অথবা মুখ বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় চিকিৎসক একান্ত প্রয়োজন মনে করলে তবেই ব্যবহার করা উচিত, কারণ বিটা ব্লকার গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি ও হৃদস্পন্দন কমাতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি সেবন না করাই ভালো।
সতর্কতা
- হাঁপানি, ফুসফুসের রোগ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা, সোরিয়াসিস, রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা বা আগে তীব্র অ্যালার্জি হয়ে থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- হঠাৎ ঔষধ বন্ধ করলে অ্যানজাইনা বাড়তে পারে বা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
- যেকোনো অপারেশনের আগে সার্জন বা অ্যানেসথেটিস্টকে জানান যে আপনি বিটা ব্লকার খাচ্ছেন।
- মাথা ঘোরাতে পারে, তাই গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত সেবনে হৃদস্পন্দন খুব ধীর হওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, হার্ট ফেইলিওর বা খিঁচুনি হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কার্ডিওসিলেক্টিভ বিটা ব্লকার (উচ্চ রক্তচাপ ও অ্যানজাইনার ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।