ব্যবহার
সেফালেক্সিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, যেমন:
- গলা, কান ও সাইনাসের সংক্রমণ, এবং ব্রংকাইটিসের মতো বুকের সংক্রমণ
- ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ, যেমন ফোঁড়া, সংক্রমিত ক্ষত ও সেলুলাইটিস
- মূত্রনালির সংক্রমণ
- হাড় ও জোড়ার সংক্রমণ
- দাঁতের সংক্রমণ
সর্দি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত অসুখে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
এটি ব্যাকটেরিয়াকে কোষপ্রাচীর তৈরি করতে বাধা দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া ভেঙে মরে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সংক্রমণ অনুযায়ী সাধারণত প্রতি ৬ ঘণ্টায় ২৫০ থেকে ৫০০ mg, বা প্রতি ১২ ঘণ্টায় ৫০০ mg। গুরুতর সংক্রমণে ডাক্তার বেশি দিতে পারেন, তবে সাধারণত দিনে ৪ g এর বেশি নয়। শিশু: মাত্রা ওজনের ওপর নির্ভর করে, তাই ডাক্তারের দেওয়া মাত্রায় খাওয়াতে হবে।
খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। দিনের মধ্যে সমান বিরতিতে খান এবং ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন। কিডনির সমস্যা থাকলে কম মাত্রা লাগতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- মেটফরমিন: সেফালেক্সিন মেটফরমিনের মাত্রা বাড়াতে পারে; রক্তে শর্করা খেয়াল রাখা দরকার হতে পারে।
- প্রোবেনেসিড: সেফালেক্সিনের মাত্রা বাড়ায়।
- ওয়ারফারিন: রক্ত পাতলা করার প্রভাব বাড়তে পারে।
- মুখে খাওয়ার টাইফয়েড ও কলেরার টিকা: অ্যান্টিবায়োটিক এগুলোর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- প্রস্রাবে শর্করা মাপার কিছু পরীক্ষায় ভুল পজিটিভ ফল আসতে পারে।
কারা খাবেন না
সেফালেক্সিন বা অন্য সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি থাকলে খাবেন না। পেনিসিলিন বা এ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকে কখনও মারাত্মক এলার্জি হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি, বদহজম ও হালকা র্যাশ। কম দেখা যায়: মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও যোনিপথে ছত্রাক সংক্রমণ।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বা সারা শরীরে চুলকানিযুক্ত র্যাশ (মারাত্মক এলার্জি)
- ত্বকে ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়া, বা মুখে ঘা
- চিকিৎসার সময় বা পরে তীব্র বা রক্তমিশ্রিত পানির মতো পায়খানা
- ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, বা গাঢ় রঙের প্রস্রাব
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থায় সেফালেক্সিন প্রায়ই ব্যবহার করা হয়। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত দুধ খাওয়ানোর সময় খাওয়া যায়, তবে শিশুর ডায়রিয়া, র্যাশ বা মুখে ছত্রাক হলে ডাক্তারকে জানান।
সতর্কতা
- কিডনির রোগ, আগে কোলাইটিসের মতো অন্ত্রের সমস্যা বা কোনো এলার্জি থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- দীর্ঘদিন খেলে ছত্রাকের মতো অন্য জীবাণু বাড়তে পারে।
- অ্যান্টিবায়োটিক অন্যকে দেবেন না, পরে খাওয়ার জন্য রেখেও দেবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে। ডাক্তার বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন, বিশেষ করে শিশু বা কিডনির রোগী হলে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিবায়োটিক: প্রথম প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পানি মেশানো সাসপেনশন প্যাকেটের নির্দেশমতো রাখুন (প্রায়ই ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C) এবং নির্দিষ্ট দিনের পর ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।