ব্যবহার
ক্লোরাল হাইড্রেট একটি ঘুমের ঔষধ (সিডেটিভ), যা মূলত শিশুদের ইইজি, সিটি স্ক্যান বা ইকোকার্ডিওগ্রাফির মতো পরীক্ষা বা প্রক্রিয়ার আগে অল্প সময়ের জন্য শান্ত রাখতে বা ঘুম পাড়াতে ব্যবহার করা হয়। আগে বড়দের অনিদ্রায় ব্যবহার করা হতো, তবে এখন আরও নিরাপদ ঔষধ পছন্দ করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
শরীরে ক্লোরাল হাইড্রেট দ্রুত ট্রাইক্লোরোইথানলে পরিণত হয়, যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কাজ ধীর করে দেয়। এতে সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে তন্দ্রা ও ঘুম আসে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা শিশুর ওজন ও ব্যবহারের উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে, তাই কেবল চিকিৎসকের নির্দেশমতো ব্যবহার করুন। সাধারণত প্রক্রিয়ার আগে মুখে একবার দেওয়া হয়, প্রায়ই চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে। পেটের জ্বালা ও তেতো স্বাদ কমাতে সিরাপ সামান্য পানি বা জুসের সাথে মেশানো যায়। সাথে দেওয়া মাপার পাত্র ব্যবহার করুন, রান্নাঘরের চামচ নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আবার দেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যালকোহল, ওপিওয়েড ব্যথানাশক, বেনজোডায়াজেপিন, অ্যান্টিহিস্টামিন ও অন্যান্য ঘুমের ঔষধ তন্দ্রা ও শ্বাসের সমস্যা অনেক বাড়ায়।
- অল্প সময়ের জন্য ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে।
- ক্লোরাল হাইড্রেটের পরে ফুরোসেমাইড ইনজেকশন দিলে মুখ লাল হওয়া, ঘাম ও রক্তচাপের পরিবর্তন হতে পারে।
কারা খাবেন না
- ক্লোরাল হাইড্রেটে অ্যালার্জি থাকলে।
- গুরুতর লিভার বা কিডনি রোগ।
- গুরুতর হৃদরোগ বা হৃদস্পন্দনের গুরুতর সমস্যা।
- পাকস্থলীর আলসার বা পাকস্থলীর প্রদাহ (গ্যাস্ট্রাইটিস)।
- পরফাইরিয়া।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত পেট খারাপ, বমি ভাব, বমি, মুখে খারাপ স্বাদ এবং ঘুম ভাঙার পর ঝিমুনি বা টলমল ভাব হতে পারে। কিছু শিশু ঘুমানোর বদলে উত্তেজিত বা অস্থির হয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টা ধরে ঝিমুনি থাকতে পারে, তাই শিশুকে কাছ থেকে লক্ষ রাখুন।
শিশুকে জাগানো খুব কঠিন হলে, শ্বাস ধীর, অগভীর বা শব্দযুক্ত হলে, ঠোঁট নীল হলে, হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হলে, খিঁচুনি হলে, অথবা মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এটি গর্ভফুল পার হয়ে শিশুর কাছে পৌঁছায়, তাই গর্ভাবস্থায় সুপারিশ করা হয় না। বুকের দুধে যায় এবং শিশুকে ঝিমিয়ে দিতে পারে, তাই চিকিৎসক অন্যভাবে না বললে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
- পুরোপুরি জেগে ওঠা পর্যন্ত একজন প্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে দেখে রাখবেন; ঘুমঘুম থাকলে শ্বাসনালি খোলা রাখতে কাত করে শোয়ান।
- শ্বাসের সমস্যা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া (স্লিপ অ্যাপনিয়া) বা বড় টনসিল থাকলে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
- দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য নয়: সহনশীলতা ও আসক্তি তৈরি হতে পারে।
- জেগে ওঠার পর সেদিন সাইকেল চালানোর মতো ভারসাম্যের কাজ এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবন বিপজ্জনক: গভীর ঘুম বা কোমা, ধীর শ্বাস, নিম্ন রক্তচাপ, শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া, বমি এবং হৃদস্পন্দনের গুরুতর সমস্যা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
সিডেটিভ ও হিপনোটিক (ঘুমের ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। বোতল শক্ত করে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।