ব্যবহার
ক্লোরাম্বুসিল মুখে খাওয়ার একটি ক্যান্সারবিরোধী ঔষধ, যা ক্রনিক লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়া (সিএলএল), কিছু ধরনের লিম্ফোমা (নিম্ন গ্রেডের নন-হজকিন লিম্ফোমা ও হজকিন লিম্ফোমাসহ) এবং ওয়ালডেনস্ট্রম ম্যাক্রোগ্লোবুলিনেমিয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কখনো কখনো অন্য রোগেও শুধু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
ক্লোরাম্বুসিল একটি অ্যালকিলেটিং এজেন্ট। এটি কোষের ডিএনএতে রাসায়নিক গ্রুপ যুক্ত করে ডিএনএর সুতাগুলোকে একসাথে জোড়া লাগিয়ে দেয়, ফলে কোষ ডিএনএ কপি করতে বা বিভাজিত হতে পারে না এবং মারা যায়। এটি মূলত ক্যান্সারযুক্ত শ্বেত কণিকার মতো দ্রুত বাড়ন্ত কোষে কাজ করে, তবে সুস্থ অস্থিমজ্জাকেও প্রভাবিত করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
বিশেষজ্ঞের নির্দেশ অনুযায়ী ঠিক মতো খান। মাত্রা রোগ, ওজন ও রক্তের কণিকার উপর নির্ভর করে, এবং এটি কিছুদিন প্রতিদিন অথবা বিরতিসহ ছোট কোর্সে খাওয়া হতে পারে। ট্যাবলেট পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান, সাধারণত খালি পেটে, খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ৩ ঘণ্টা পরে। ট্যাবলেট ভাঙবেন বা গুঁড়া করবেন না, এবং ধরার পর হাত ধুয়ে ফেলুন। পরিচর্যাকারীরা খালি হাতে ট্যাবলেট ধরবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অস্থিমজ্জা দমনকারী অন্য ঔষধ ও রেডিওথেরাপি রক্তকণিকা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
- চিকিৎসার সময় ও পরে কিছুদিন জীবন্ত টিকা দেওয়া যাবে না।
- খিঁচুনির প্রবণতা বাড়ায় এমন ঔষধ খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের।
- ফ্লুডারাবিনের মতো পিউরিন অ্যানালগ এবং ফেনিলবিউটাজোন বিষক্রিয়া বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- ক্লোরাম্বুসিলে অ্যালার্জি থাকলে।
- রোগ ছাড়া অন্য কারণে অস্থিমজ্জা মারাত্মকভাবে দমিত থাকলে।
- গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
- সাম্প্রতিক বা পরিকল্পিত জীবন্ত টিকা থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: শ্বেত কণিকা, প্লেটলেট ও লোহিত কণিকা কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া ও মুখে ঘা। কম দেখা যায় বা বিরল: ত্বকে র্যাশ, যা কদাচিৎ ফোসকা ও চামড়া উঠে যাওয়াসহ গুরুতর হতে পারে; খিঁচুনি, বিশেষ করে কিডনির রোগ (নেফ্রোটিক সিনড্রোম) আছে এমন শিশুদের বা বেশি মাত্রায়; লিভারের সমস্যা; ফুসফুসে দাগ; স্নায়ুর সমস্যা; এবং প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়া। দীর্ঘদিন ব্যবহারে পরে অ্যাকিউট লিউকেমিয়ার মতো রক্তের ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছুটা বাড়ে।
৩৮°C বা তার বেশি জ্বর, কাঁপুনি, গলা ব্যথা, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, ছড়িয়ে পড়া বা ফোসকাযুক্ত র্যাশ, খিঁচুনি, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা নতুন শ্বাসকষ্ট বা কাশি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ক্লোরাম্বুসিল জন্মগত ত্রুটি ঘটাতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়কেই চিকিৎসার সময় ও পরে ডাক্তারের বলা কয়েক মাস কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি ব্যবহার করা যাবে না। এটি স্থায়ী বন্ধ্যাত্ব ঘটাতে পারে; শুরুর আগে প্রজনন ক্ষমতা সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
শুধু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা উচিত। নিয়মিত, বিশেষ করে চিকিৎসার শুরুতে, রক্তের কণিকা পরীক্ষা করা হয়। লিভারের রোগ, খিঁচুনি বা মাথায় আঘাতের ইতিহাস এবং নেফ্রোটিক সিনড্রোমযুক্ত শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সাবধানতা দরকার। সংক্রমিত মানুষ এড়িয়ে চলুন এবং সংক্রমণের যেকোনো লক্ষণ দ্রুত জানান। ট্যাবলেট সাবধানে নাড়াচাড়া করুন এবং অব্যবহৃত ট্যাবলেট ফার্মেসিতে ফেরত দিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে রক্তের কণিকা মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে, এবং খিঁচুনি, অস্থিরতা ও টলমল ভাব হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন; হাসপাতালে রক্তের কণিকা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে সহায়ক চিকিৎসা করা হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সারবিরোধী, অ্যালকিলেটিং এজেন্ট (নাইট্রোজেন মাস্টার্ড)
সংরক্ষণ
আসল পাত্রে ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায়, অথবা প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।