ব্যবহার
ক্লোরহেক্সিডিন একটি এন্টিসেপটিক, যা ত্বক ও মুখের নানা ধরনের জীবাণু মেরে ফেলে। পণ্য অনুযায়ী এটি নবজাতকের নাভির যত্নে (৭.১% ক্লোরহেক্সিডিন ডাইগ্লুকোনেট জেল বা দ্রবণ, যা ৪% ক্লোরহেক্সিডিনের সমান, নাভির সংক্রমণ প্রতিরোধে), মাড়ির প্রদাহ, মুখের ঘা ও মুখের পরিচ্ছন্নতায় মাউথওয়াশ বা জেল হিসেবে, অস্ত্রোপচার ও ইনজেকশনের আগে ত্বক পরিষ্কার ও হ্যান্ডওয়াশ হিসেবে, এবং ছোট কাটা, পোড়া ও ত্বকের সংক্রমণে ক্রিম হিসেবে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
ক্লোরহেক্সিডিন ধনাত্মক চার্জযুক্ত, তাই এটি ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের ঋণাত্মক চার্জযুক্ত বাইরের পৃষ্ঠে লেগে যায়। এটি কোষপর্দা নষ্ট করে, ফলে ভেতরের উপাদান বেরিয়ে জীবাণু মারা যায়। এটি ত্বক ও দাঁতে লেগে থাকে, তাই ব্যবহারের পর কয়েক ঘণ্টা কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- নাভির জেল: স্বাস্থ্যকর্মীর নির্দেশ বা লেবেল অনুযায়ী নাভির গোড়া ও চারপাশের ত্বকে লাগান, সাধারণত জন্মের পরপরই; নাভি ঢাকবেন না, পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।
- মাউথওয়াশ (০.২%): দিনে দুবার ১০ ml দিয়ে প্রায় ১ মিনিট কুলি করে ফেলে দিন; গিলবেন না। টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করার অন্তত ৩০ মিনিট পরে ব্যবহার করুন।
- ত্বক পরিষ্কারক, হ্যান্ডওয়াশ ও ক্রিম: লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
টুথপেস্টের উপাদান (যেমন সোডিয়াম লরিল সালফেট) মাউথওয়াশের কার্যকারিতা কমাতে পারে, তাই ব্রাশের পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। সাবান ও কিছু ত্বকের পণ্য এটিকে নিষ্ক্রিয় করে, তাই লাগানোর আগে সাবান ধুয়ে ফেলুন। খাওয়ার ঔষধের সাথে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া জানা নেই।
কারা খাবেন না
- ক্লোরহেক্সিডিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- চোখে, কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন অবস্থায় কানের ভেতরে বা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের টিস্যুতে ব্যবহার করবেন না।
- অকালপ্রসূত শিশু ও ভাঙা ত্বকে অ্যালকোহলযুক্ত দ্রবণ এড়িয়ে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মাউথওয়াশে দাঁত, ফিলিং ও জিহ্বায় বাদামি দাগ পড়তে পারে, কিছুদিন স্বাদ বদলাতে পারে এবং মুখে হালকা জ্বালা হতে পারে; দাগ সাধারণত ডেন্টিস্ট তুলে দিতে পারেন। ত্বকে শুষ্কতা, চুলকানি বা লালভাব হতে পারে। কদাচিৎ গুরুতর অ্যালার্জি হতে পারে।
ব্যবহারের পর মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, সারা শরীরে চাকা, শোঁ শোঁ শব্দ, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান ভাব হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। নবজাতকের নাভির চারপাশের ত্বক লাল, ফোলা বা দুর্গন্ধযুক্ত হলে, অথবা শিশুর জ্বর, কম খাওয়া বা নিস্তেজ ভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ত্বক ও মুখ দিয়ে খুব কম শোষিত হয়, তাই গর্ভাবস্থা ও দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ বলে বিবেচিত। স্তনে লাগালে দুধ খাওয়ানোর আগে ধুয়ে ফেলুন।
সতর্কতা
শুধু বাহ্যিক, কুলি বা নাভির যত্নের জন্য; গিলবেন না। চোখ ও কান থেকে দূরে রাখুন; চোখে গেলে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। অ্যালকোহলযুক্ত দ্রবণ দাহ্য, তাপ বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের আগে পুরোপুরি শুকাতে দিন। জ্বালাপোড়া হলে বন্ধ করে পরামর্শ নিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অল্প মাউথওয়াশ গিলে ফেললে পেটের অস্বস্তি ছাড়া ক্ষতির সম্ভাবনা কম। বেশি পরিমাণ বা শিশু অ্যালকোহলযুক্ত দ্রবণ গিলে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
এন্টিসেপটিক ও জীবাণুনাশক (বাইগুয়ানাইড)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্র বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।