ব্যবহার
কোলেক্যালসিফেরল (ভিটামিন ডি৩) ভিটামিন ডি এর ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। যারা কম রোদে থাকেন, বয়স্ক, গাঢ় ত্বকের মানুষ, গর্ভবতী ও বুকের দুধ খাওয়ানো মা এবং কিছু অন্ত্র, লিভার বা কিডনির রোগে এই ঘাটতি বেশি দেখা যায়। শিশুদের রিকেটস ও বড়দের হাড় নরম হওয়া (অস্টিওম্যালেসিয়া) চিকিৎসায় এটি দেওয়া হয়, আর অস্টিওপোরোসিসে হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়ামের সাথে দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
লিভার ও কিডনি ভিটামিন ডি৩ কে সক্রিয় রূপে বদলে দেয়। এটি অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফেট শোষণে সাহায্য করে, যা মজবুত হাড়, সুস্থ মাংসপেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজের জন্য দরকার।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রতিরোধ, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে ৪০০ থেকে ১০০০ IU।
- ঘাটতির চিকিৎসা: বেশি মাত্রা, যেমন নির্দিষ্ট কয়েক সপ্তাহ সপ্তাহে একবার ২০,০০০ বা ৪০,০০০ IU ক্যাপসুল, তারপর কম মাত্রায় চালিয়ে যাওয়া, ডাক্তারের নির্দেশমতো। মাত্রা রক্তে ভিটামিন ডি এর পরিমাণের উপর নির্ভর করে।
- শিশু (ড্রপ বা সিরাপ): ডাক্তারের নির্দেশমতো। শিশুদের প্রতিরোধে সাধারণ মাত্রা দিনে ৪০০ IU।
- ইনজেকশন (মুখে ও মাংসে দেওয়ার অ্যাম্পুল): উচ্চ মাত্রার; ডাক্তার বা নার্স দেন, অথবা ডাক্তার বললে তবেই মুখে খাওয়া হয়।
- ভালো শোষণের জন্য কিছুটা তেল বা চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের মতো থায়াজাইড ডাইউরেটিক ভিটামিন ডি এর সাথে রক্তে ক্যালসিয়াম বাড়াতে পারে।
- ক্যালসিয়াম বেশি হলে ডিগক্সিনের সাথে হৃৎস্পন্দনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
- অরলিস্ট্যাট, কোলেস্টাইরামিন ও লিকুইড প্যারাফিন ভিটামিন ডি শোষণ কমায়।
- ফেনিটোইন, ফেনোবার্বিটাল, কার্বামাজেপিন, রিফামপিসিন ও দীর্ঘদিন স্টেরয়েড খেলে ভিটামিন ডি কমে যেতে পারে, তাই বেশি মাত্রা লাগতে পারে।
কারা খাবেন না
- রক্তে বা প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে।
- শরীরে ভিটামিন ডি অতিরিক্ত থাকলে।
- ক্যালসিয়ামের কিডনি পাথর থাকলে।
- কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ মাত্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিরল। দীর্ঘদিন বেশি খেলে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে ক্ষুধামান্দ্য, বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, পিপাসা ও ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে।
জরুরি চিকিৎসা নিন যদি: বারবার বমি, তীব্র পিপাসা, বিভ্রান্তি, খুব দুর্বলতা, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হয়, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দেয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সাধারণ দৈনিক মাত্রা (সাধারণত ৪০০ IU) গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ এবং প্রায়ই পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসার উচ্চ মাত্রা শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খাবেন, কারণ অতিরিক্ত ভিটামিন ডি শিশুর ক্ষতি করতে পারে।
সতর্কতা
- পরামর্শ ছাড়া একসাথে একাধিক ভিটামিন ডি যুক্ত ঔষধ খাবেন না; ক্যালসিয়ামের কম্বিনেশন ট্যাবলেটেও ভিটামিন ডি থাকে কিনা দেখুন।
- কিডনির রোগ, কিডনি পাথর ও সারকয়ডোসিসে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- দীর্ঘদিন উচ্চ মাত্রায় খেলে ডাক্তার রক্তে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি পরীক্ষা করতে পারেন।
- শিশুদের জন্য ঔষধের সাথে দেওয়া ড্রপার বা মাপার পাত্রই ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে বমি বমি ভাব, বমি, পিপাসা, কোষ্ঠকাঠিন্য, দুর্বলতা, বিভ্রান্তি ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে। খাওয়া বন্ধ করে সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন ডি (চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। তরল ও অ্যাম্পুল ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।