ব্যবহার
কোলেস্টাইরামিন মুখে খাওয়ার একটি পাউডার, যা ব্যবহৃত হয়:
- খাদ্যাভ্যাসের সাথে রক্তে উচ্চ LDL (খারাপ) কোলেস্টেরল কমাতে, যখন অন্য চিকিৎসা উপযুক্ত নয় বা সহায়তা দরকার
- কিছু লিভারের রোগের মতো পিত্তনালি আংশিক বন্ধ থাকার কারণে চুলকানি কমাতে
- পিত্ত অ্যাসিডজনিত ডায়রিয়ার চিকিৎসায়, যেমন ক্ষুদ্রান্ত্রের অংশ (ইলিয়াম) বা পিত্তথলি অপারেশনের পর
কীভাবে কাজ করে
এটি একটি রেজিন, যা শরীরে শোষিত হয় না। অন্ত্রে এটি পিত্ত অ্যাসিডের সাথে যুক্ত হয়ে মলের সাথে বের করে দেয়। তখন লিভার রক্তের কোলেস্টেরল দিয়ে নতুন পিত্ত অ্যাসিড তৈরি করে, ফলে রক্তে কোলেস্টেরল কমে। পিত্ত অ্যাসিড সরিয়ে দেওয়ায় এর কারণে হওয়া চুলকানি ও ডায়রিয়াও কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রতিটি স্যাশেটে সাধারণত ৪ g কোলেস্টাইরামিন থাকে। উচ্চ কোলেস্টেরলে প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত দিনে ১ বা ২ বার ৪ g দিয়ে শুরু করেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে ধীরে দিনে ১২ থেকে ২৪ g পর্যন্ত ভাগ করে বাড়ান। চুলকানি বা পিত্ত অ্যাসিডজনিত ডায়রিয়ায় প্রায়ই দিনে ৪ থেকে ৮ g যথেষ্ট। পাউডার কখনো শুকনো খাবেন না: প্রতি ডোজ অন্তত ১৫০ ml পানি, ফলের রস বা পাতলা স্যুপে ভালোভাবে মিশিয়ে সঙ্গে সঙ্গে খান, গ্লাস ধুয়ে বাকিটুকুও খান। শিশুদের শুধু চিকিৎসকের নির্দেশে দিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এটি অনেক ঔষধের সাথে যুক্ত হয়ে শোষণ বন্ধ করে দিতে পারে। অন্য ঔষধ কোলেস্টাইরামিনের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পরে খান। ওয়ারফারিন, ডিগক্সিন, লেভোথায়রক্সিন, থায়াজাইড ডাইইউরেটিক, প্রোপ্রানোলল, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, মাইকোফেনোলেট, ভ্যালপ্রোয়েট, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক এবং চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন A, D, E ও K এর ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে জরুরি। শুরু বা বন্ধের সময় চিকিৎসক অন্য ঔষধের মাত্রা বদলাতে পারেন।
কারা খাবেন না
পিত্তনালি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে (অন্ত্রে কোনো পিত্ত না পৌঁছালে) বা এতে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। পণ্যে অ্যাসপারটেম থাকলে ফিনাইলকিটোনুরিয়া রোগীদের জন্য উপযুক্ত নয়; লেবেল দেখুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- কোষ্ঠকাঠিন্য, যা তীব্র হতে পারে
- পেট ফাঁপা, গ্যাস, বুক জ্বালা, বমি বমি ভাব ও পেটে অস্বস্তি
- কারও কারও ডায়রিয়া
দীর্ঘ ব্যবহারে ভিটামিন A, D, E, K ও ফলিক অ্যাসিড কমে যেতে পারে, ফলে সহজে রক্তপাত বা হাড় দুর্বল হতে পারে। এটি রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়াতে পারে। শিশু ও কিডনি রোগীদের রক্ত অতিরিক্ত অম্লীয় হতে পারে।
পায়খানা না হয়ে তীব্র পেটব্যথা বা পেট ফুলে যাওয়া, বমি, কালো বা রক্তযুক্ত পায়খানা, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, অথবা গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এটি শরীরে শোষিত হয় না, তবে শিশুর প্রয়োজনীয় ভিটামিনের শোষণ কমাতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে ব্যবহার করা যেতে পারে, প্রায়ই ভিটামিন সাপ্লিমেন্টসহ।
সতর্কতা
কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে প্রচুর পানি ও আঁশযুক্ত খাবার খান; কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা হলে, বিশেষ করে অর্শ বা হৃদ্রোগ থাকলে, চিকিৎসককে জানান। চিকিৎসক কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড ও ভিটামিনের মাত্রা পরীক্ষা করতে পারেন। কিছু স্বাদযুক্ত পণ্যে চিনি বা মিষ্টিকারক থাকে; ডায়াবেটিস বা ফিনাইলকিটোনুরিয়া থাকলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত মাত্রা শোষিত হয় না, তবে অন্ত্র বন্ধ করে দিতে পারে। বেশি খেয়ে ফেলার পর পেটব্যথা, বমি বা পায়খানা না হলে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
লিপিড কমানোর ঔষধ; পিত্ত অ্যাসিড সিকোয়েস্ট্র্যান্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুষ্ক ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ব্যবহারের আগে পর্যন্ত স্যাশেট খোলা রাখবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।