ব্যবহার
সিনকোকেইন হাইড্রোক্লোরাইড (ডিবুকেইন নামেও পরিচিত) একটি স্থানীয় অবশকারী ঔষধ, অর্থাৎ যেখানে লাগানো হয় সেই জায়গা অবশ করে। এটি মূলত পাইলস (অর্শ) ও এনাল ফিশারের (মলদ্বারের কাছে ছোট ফাটল) মলম ও সাপোজিটরিতে ব্যথা, চুলকানি ও জ্বালাপোড়া কমাতে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত এর সাথে হাইড্রোকর্টিসোন বা প্রেডনিসোলনের মতো হালকা স্টেরয়েড থাকে, যা ফোলা কমায়।
কীভাবে কাজ করে
সিনকোকেইন স্নায়ুর প্রান্তে সোডিয়াম চ্যানেল বন্ধ করে দেয়। ফলে স্নায়ু ব্যথা ও চুলকানির সংকেত মস্তিষ্কে পাঠাতে পারে না এবং জায়গাটি কয়েক ঘণ্টা অবশ থাকে। এটি নিজে পাইলস সারায় না; মিশ্র ঔষধে থাকা স্টেরয়েড প্রদাহ কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- মলম: আক্রান্ত স্থানে অল্প পরিমাণে দিনে ২ থেকে ৩ বার এবং প্রতিবার পায়খানার পরে লাগান; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাধারণত ৭ দিনের বেশি নয়।
- সাপোজিটরি: দিনে ১ থেকে ৩ বার, সাধারণত পায়খানার পরে, মলদ্বারে একটি করে দিন, লেবেলের নির্দেশমতো।
ব্যবহারের আগে জায়গাটি আলতো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন এবং পরে হাত ধুয়ে ফেলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ত্বকে ব্যবহারে সাধারণত খুব কম প্রতিক্রিয়া হয়। একই জায়গায় একসাথে অন্য অবশকারী ঔষধ ব্যবহার করবেন না। সালফোনামাইড অ্যান্টিবায়োটিকসহ সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান, কারণ কিছু অবশকারী ঔষধ এদের কার্যকারিতা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
সিনকোকেইন বা লিডোকেইনের মতো অ্যামাইড ধরনের অবশকারী ঔষধে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না। স্টেরয়েডযুক্ত মিশ্র ঔষধ চিকিৎসাহীন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস (যেমন হারপিস) বা ছত্রাক সংক্রমণ অথবা ত্বকের যক্ষ্মা থাকলে ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- প্রথমে লাগানোর সময় হালকা জ্বালা বা চিনচিনে ভাব
- চুলকানি, লালচে ভাব বা ত্বকে অস্বস্তি
- ত্বকের অ্যালার্জি (কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস)
- স্টেরয়েডযুক্ত ঔষধ দীর্ঘদিন ব্যবহারে মলদ্বারের চারপাশের ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া
বেশি বা না থামা রক্তপাত, তীব্র ব্যথা, মুখ বা ঠোঁট ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট অথবা দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অল্প জায়গায় অল্প দিনের ব্যবহার সাধারণত কম ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়, তবে গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে প্রথম ৩ মাসে, এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
শুধু বাহ্যিক বা মলদ্বারে ব্যবহারের জন্য; খাবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ৭ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না। রক্তপাত হলে, উপসর্গ বাড়লে বা পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যান, কারণ এগুলো গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাধারণত শিশুদের জন্য নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ঔষধ গিলে ফেললে বা ক্ষতযুক্ত ত্বকে বেশি পরিমাণে লাগালে মুখ অবশ হওয়া, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি ও হৃৎস্পন্দনের সমস্যা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
স্থানীয় অবশকারী (অ্যামাইড ধরন), পাইলস ও মলদ্বারের ঔষধে ব্যবহৃত।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সাপোজিটরি ২৫°C এর নিচে রাখার প্রয়োজন হতে পারে; প্যাকের নির্দেশ মানুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।