ব্যবহার
সিনামোমাম একটি উদ্ভিদ গণ, যা থেকে দারুচিনি (সিনামোমাম ভেরাম ও সিনামোমাম ক্যাসিয়া) এবং কর্পূর (সিনামোমাম ক্যাম্ফোরা) পাওয়া যায়। এসব উদ্ভিদের নির্যাস, ছালের গুঁড়া ও তেল ভেষজ হজমের ঔষধ, বায়ুনাশক মিশ্রণ এবং ব্যথানাশক বামে উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়। প্রথাগতভাবে মুখে খাওয়া দারুচিনি বদহজম, গ্যাস, পেট ফাঁপা, অরুচি ও হালকা পাতলা পায়খানায় ব্যবহৃত হয়, আর বামে থাকা দারুচিনি বা কর্পূরের তেল মাথাব্যথা, মাংসপেশি ও গাঁটের ব্যথা এবং নাক বন্ধে ত্বকে মালিশ করা হয়। এসব ব্যবহারের প্রমাণ সীমিত।
কীভাবে কাজ করে
দারুচিনিতে সিনামালডিহাইড ও অন্যান্য সুগন্ধি তেল থাকে, যা অন্ত্রকে শিথিল করে গ্যাস বের হতে সাহায্য করে এবং হালকা জীবাণুরোধী প্রভাব রাখতে পারে। ত্বকে লাগানো কর্পূর ও দারুচিনির তেল গরম বা ঠান্ডা অনুভূতি তৈরি করে ব্যথা থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয় এবং এর বাষ্প নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া সহজ মনে করায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
খাওয়ার পণ্য: লেবেলের নির্দেশনা বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খান। বাম: আক্রান্ত স্থানে বা কপালে অল্প পরিমাণ দিনে ২ থেকে ৩ বার আলতো করে মালিশ করুন এবং পরে হাত ধুয়ে নিন। বাম বা তেল গিলবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- বেশি পরিমাণে ক্যাসিয়া দারুচিনি খেলে ডায়াবেটিসের ঔষধের প্রভাব বাড়তে পারে এবং বেশি মাত্রার প্যারাসিটামলের মতো লিভারের ক্ষতি করতে পারে এমন ঔষধের সাথে লিভারে প্রভাব ফেলতে পারে।
- বেশি পরিমাণে খেলে ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধের প্রভাব বাড়তে পারে।
- স্বাভাবিকভাবে বাম ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া আশা করা হয় না।
কারা খাবেন না
- দারুচিনি বা কর্পূরে অ্যালার্জি থাকলে।
- বাম: কাটা ত্বক, ক্ষত, চোখ বা শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে লাগাবেন না, এবং শিশু ও ছোট বাচ্চাদের ব্যবহার করবেন না (কর্পূর তাদের জন্য বিষাক্ত হতে পারে)।
- লিভারের রোগ থাকলে বেশি পরিমাণে ক্যাসিয়া দারুচিনি খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
স্বাভাবিক পরিমাণে খেলে সাধারণত সমস্যা হয় না, তবে বুক জ্বালা বা মুখে জ্বালাভাব হতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে ক্যাসিয়া দারুচিনি খেলে এতে থাকা কুমারিনের কারণে লিভারে প্রভাব পড়তে পারে। বামে ত্বক লাল হওয়া, জ্বালা বা অ্যালার্জিজনিত ফুসকুড়ি হতে পারে।
শিশু বাম বা তেল গিলে ফেললে, অথবা খিঁচুনি, ঝিমুনি, বমি, মুখ ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা ত্বকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খাবারে ব্যবহৃত পরিমাণে দারুচিনি নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঔষধের মাত্রায় দারুচিনি এবং কর্পূরযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলুন। স্তন্যদানকালে স্তনের আশেপাশে বাম লাগাবেন না।
সতর্কতা
- কর্পূরযুক্ত বাম শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন: অল্প পরিমাণ গিলে ফেললেও খিঁচুনি হতে পারে।
- লেবেলে বলা না থাকলে বাম গরম করবেন না বা ভাপ নেওয়ার কাজে ব্যবহার করবেন না।
- ত্বকে জ্বালা হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
- দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা হজমের সমস্যায় চিকিৎসকের কাছে যান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
কর্পূরযুক্ত পণ্য গিলে ফেললে মুখে জ্বালা, বমি, বিভ্রান্তি ও খিঁচুনি হতে পারে, যা জরুরি অবস্থা। বেশি পরিমাণে দারুচিনি খেলে মুখে জ্বালা, পেটের সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভারের সমস্যা হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভেষজ উপাদান: বায়ুনাশক (মুখে সেবন) ও কাউন্টার ইরিট্যান্ট (ত্বকে ব্যবহার)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।