ব্যবহার
সিপ্রোফাইব্রেট প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তে চর্বি বেশি থাকলে কম চর্বিযুক্ত খাবার ও জীবনযাপনের পরিবর্তনের পাশাপাশি ব্যবহৃত হয়। মূলত ট্রাইগ্লিসারাইড (রক্তের এক ধরনের চর্বি) বেশি থাকলে এবং কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড দুটোই বেশি থাকলে, যখন স্ট্যাটিন উপযুক্ত নয় বা যথেষ্ট নয়, তখন এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
সিপ্রোফাইব্রেট ফাইব্রেট শ্রেণির ঔষধ। এটি লিভারের পিপিএআর আলফা নামের একটি রিসেপ্টরকে সক্রিয় করে, ফলে চর্বি ভাঙা বেড়ে যায়। এতে ট্রাইগ্লিসারাইড অনেকটা কমে, এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরল কিছুটা কমে এবং এইচডিএল (ভালো) কোলেস্টেরল বাড়ে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা দিনে একবার ১০০ mg মুখে। দিনে ১০০ mg এর বেশি খাবেন না, কারণ বেশি মাত্রায় পেশির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। মাঝারি কিডনি সমস্যায় ডাক্তার একদিন পর পর ১০০ mg দিতে পারেন। খাদ্য নিয়ন্ত্রণ চালিয়ে যান। কয়েক সপ্তাহ পর ডাক্তার রক্তের চর্বি পরীক্ষা করবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- একই সময়ে অন্য কোনো ফাইব্রেট খাওয়া যাবে না।
- স্ট্যাটিনের সাথে খেলে পেশির গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে; শুধু ঘনিষ্ঠ চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে একসাথে ব্যবহার করুন।
- ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধের প্রভাব বাড়ায়; মাত্রা কমানো ও আইএনআর পরীক্ষা দরকার হতে পারে।
- ডায়াবেটিসের ট্যাবলেটের সাথে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ বদলাতে পারে।
- ইস্ট্রোজেনযুক্ত ঔষধ রক্তের চর্বি বাড়িয়ে এর উপকার কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- সিপ্রোফাইব্রেট বা অন্য ফাইব্রেটে অ্যালার্জি থাকলে।
- গুরুতর লিভার বা কিডনি রোগ থাকলে।
- পিত্তথলির রোগ বা পিত্তপাথর থাকলে।
- গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা।
- অন্য কোনো ফাইব্রেট চলাকালে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি, ডায়রিয়া, ক্লান্তি ও চামড়ায় র্যাশ। পেশিতে ব্যথা বা দুর্বলতা হতে পারে, যা কদাচিৎ পেশি ভেঙে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। কম ক্ষেত্রে পিত্তপাথর, লিভার পরীক্ষায় পরিবর্তন, চুল পড়া ও যৌন দুর্বলতার খবর পাওয়া গেছে।
অকারণে পেশিতে ব্যথা, টনটনে ভাব বা দুর্বলতা, বিশেষ করে জ্বর বা গাঢ় রঙের প্রস্রাবসহ, পেটে তীব্র ব্যথা, চামড়া বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সিপ্রোফাইব্রেট ব্যবহার করা উচিত নয়। ঔষধ চলাকালে গর্ভধারণ হলে বন্ধ করে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
সতর্কতা
- চিকিৎসার আগে ও চলাকালে ডাক্তার লিভার পরীক্ষা এবং পেশির এনজাইম (সিকে) পরীক্ষা করাতে পারেন।
- কিডনির সমস্যা, থাইরয়েড কম কাজ করা, বেশি মদ্যপান বা নিজের বা পরিবারে পেশির রোগের ইতিহাস থাকলে সাবধান থাকুন।
- ৩ থেকে ৬ মাসে রক্তের চর্বি না কমলে ডাক্তার চিকিৎসা বদলাতে পারেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনের তথ্য কম। বেশি খেয়ে ফেললে ডাক্তার বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। পেশির ক্ষতি পরীক্ষা করে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
রক্তের চর্বি কমানোর ঔষধ; ফাইব্রেট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।