ব্যবহার
সিসপ্লাটিন একটি ক্যানসারের ঔষধ (কেমোথেরাপি)। প্রায়ই অন্য ক্যানসারের ঔষধ বা রেডিওথেরাপির সাথে এটি ব্যবহার হয়:
- অণ্ডকোষের ক্যানসার
- ডিম্বাশয় ও জরায়ুমুখের ক্যানসার
- মূত্রথলির ক্যানসার
- ফুসফুসের ক্যানসার
- মাথা ও গলার ক্যানসার
- খাদ্যনালি ও পাকস্থলীর ক্যানসারসহ আরও কিছু ক্যানসার
কীভাবে কাজ করে
সিসপ্লাটিনে প্লাটিনাম থাকে। এটি কোষের ভেতরের জিনগত উপাদান (ডিএনএ) এর সাথে লেগে যায় এবং এর অনুলিপি তৈরি আটকে দেয়, ফলে ক্যানসার কোষ বিভাজিত হতে না পেরে মারা যায়। অস্থিমজ্জার মতো দ্রুত বিভাজিত সুস্থ কোষও এতে প্রভাবিত হতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সিসপ্লাটিন শুধু হাসপাতালে, কেমোথেরাপিতে প্রশিক্ষিত ডাক্তার বা নার্স শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে দেন। শরীরের আকার, কিডনির অবস্থা ও চিকিৎসা পরিকল্পনা দেখে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ মাত্রা ঠিক করেন এবং নির্দেশমতো সাধারণত কয়েক সপ্তাহ পর পর চক্রে দেওয়া হয়। কিডনি রক্ষায় প্রতিবার আগে ও পরে প্রচুর তরল দেওয়া হয়, সাথে বমি প্রতিরোধের ঔষধ। চিকিৎসার সময় রক্ত পরীক্ষা ও শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- জেন্টামাইসিনের মতো অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড, ভ্যানকোমাইসিন, অ্যামফোটেরিসিন বি এবং ফুরোসেমাইডের মতো শক্তিশালী প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ কিডনির ক্ষতি বা শ্রবণশক্তি হ্রাস বাড়াতে পারে।
- এটি ফেনিটোইনের মাত্রা কমাতে পারে, তাই খিঁচুনির নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা করা লাগতে পারে।
- চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা (যেমন ইয়েলো ফিভার বা মুখে খাওয়ার পোলিও) দেওয়া যাবে না।
- অন্য ক্যানসারের ঔষধ ও রেডিওথেরাপি রক্তকণিকার ওপর প্রভাব বাড়াতে পারে।
- ভেষজসহ সব ঔষধের কথা ক্যানসার চিকিৎসক দলকে জানান।
কারা খাবেন না
- সিসপ্লাটিন বা কার্বোপ্লাটিনের মতো অন্য প্লাটিনাম ঔষধে অ্যালার্জি
- কিডনির গুরুতর সমস্যা
- আগে থেকেই শ্রবণশক্তি কম
- অস্থিমজ্জার সমস্যায় রক্তকণিকা খুব কম
- পানিশূন্যতা
- বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো তীব্র বমি বমি ভাব ও বমি (কয়েক দিন থাকতে পারে), খাবারে অরুচি, ক্লান্তি, কিডনির ওপর চাপ, রক্তে ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম কমে যাওয়া, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ বা কম শোনা, হাত-পায়ে অবশ ভাব বা ঝিনঝিন, রক্তকণিকা কমে যাওয়া (এতে সংক্রমণ, রক্তপাত ও রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বাড়ে) এবং চুল পাতলা হওয়া।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- ৩৮°C বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি বা সংক্রমণের অন্য লক্ষণ
- এত বমি যে পানিও পেটে থাকে না, অথবা প্রস্রাব খুব কম হওয়া
- অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে
- স্যালাইন চলার সময় বা পরে মুখ ফোলা, শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ বা শ্বাসকষ্ট
- খিঁচুনি, হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন, বুকে ব্যথা বা শরীরের এক পাশ হঠাৎ দুর্বল হওয়া
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সিসপ্লাটিন গর্ভের শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়কে চিকিৎসার সময় এবং পরে ডাক্তার যতদিন বলেন ততদিন নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। গর্ভধারণ হলে সাথে সাথে ডাক্তারকে জানান। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- প্রতিটি চক্রের আগে কিডনির কার্যক্ষমতা, রক্তের লবণ ও রক্তকণিকা পরীক্ষা করা হয়।
- বিশেষ করে শিশু ও যাদের আগে থেকে শোনার সমস্যা আছে, তাদের শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করা হতে পারে।
- হাসপাতালের পরামর্শমতো প্রচুর তরল পান করুন।
- সম্ভব হলে সংক্রমিত মানুষ থেকে দূরে থাকুন এবং জ্বর হলে দ্রুত জানান।
- সিসপ্লাটিন সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমাতে পারে; চিকিৎসা শুরুর আগে এ নিয়ে আলোচনা করা যায়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে তা হাসপাতালের জরুরি অবস্থা। এতে কিডনি বিকল, বধিরতা, তীব্র বমি, স্নায়ুর ক্ষতি ও রক্তকণিকা বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই; হাসপাতালে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যানসারবিরোধী (অ্যান্টিনিওপ্লাস্টিক) ঔষধ, প্লাটিনাম যৌগ।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের ফার্মেসি এটি ২৫°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখে। ফ্রিজে রাখা বা জমানো যাবে না, কারণ এতে ঔষধে দানা তৈরি হতে পারে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।