ব্যবহার
সাইট্রিক অ্যাসিড সাধারণত অন্য উপাদানের সাথে মিলিয়ে ঔষধে ব্যবহার হয়:
- পটাশিয়াম সাইট্রেট বা সোডিয়াম সাইট্রেটের সাথে (খাওয়ার দ্রবণ): প্রস্রাবের অম্লতা কমাতে, যা কিছু কিডনির পাথর (ইউরিক অ্যাসিড ও ক্যালসিয়াম পাথর) প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং হালকা মূত্রনালির সংক্রমণে প্রস্রাবের জ্বালা কমায়। এটি সংক্রমণ সারায় না।
- সোডিয়াম বাইকার্বোনেটের সাথে (ফেনা ওঠা পাউডার বা স্যাশে): অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালা ও বদহজমে দ্রুত আরামের জন্য।
- খাবার স্যালাইনে (ORS): ডায়রিয়ায় হারানো পানি ও লবণ পূরণে।
- ল্যাকটিক অ্যাসিডের সাথে (যোনিপথের জেল): যোনিপথের স্বাভাবিক অম্লতা বজায় রাখতে এবং অস্বস্তিকর গন্ধ বা স্রাব কমাতে, ডাক্তারের পরামর্শে।
কীভাবে কাজ করে
খাওয়ার পর সাইট্রেট শরীরে বাইকার্বোনেট নামের ক্ষারে পরিণত হয়। এতে প্রস্রাবের অম্লতা কমে এবং প্রস্রাবে সাইট্রেট বাড়ে, যা পাথর তৈরির দানা জমতে বাধা দেয়। ফেনা ওঠা পাউডারে পানিতে সাইট্রিক অ্যাসিড ও বাইকার্বোনেট বিক্রিয়া করে গ্যাস ছাড়ে, আর তৈরি হওয়া সাইট্রেট পাকস্থলীর বাড়তি অ্যাসিড প্রশমিত করে। যোনিপথের জেলে এটি জায়গাটিকে হালকা অম্লীয় রাখে, যা স্বাভাবিক উপকারী জীবাণুকে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা পণ্যভেদে আলাদা, তাই প্যাকেটের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
- প্রস্রাবের জন্য খাওয়ার দ্রবণ: মাপা ডোজ এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খাবারের পর খান, সাধারণত দিনে ২ বা ৩ বার। সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- ফেনা ওঠা পাউডার: একটি স্যাশে বা মাপা ডোজ এক গ্লাস পানিতে পুরোপুরি গুলিয়ে ফেনা থামলে পান করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ২ সপ্তাহের বেশি খাবেন না।
- ORS: প্যাকেটে লেখা ঠিক পরিমাণ পরিষ্কার পানিতে গুলিয়ে নিন।
- যোনিপথের জেল: অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে, সাধারণত রাতে ঘুমানোর আগে, নির্দেশিত দিন পর্যন্ত ব্যবহার করুন।
শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- পটাশিয়ামযুক্ত পণ্য: স্পাইরোনোল্যাকটোন, অ্যামিলোরাইড, ACE ইনহিবিটর, ARB ও পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্টের সাথে রক্তে পটাশিয়াম বেশি বেড়ে যেতে পারে।
- অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড: সাইট্রেট অ্যালুমিনিয়াম শোষণ বাড়ায়; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
- প্রস্রাব ক্ষারীয় হলে মিথেনামিন, লিথিয়াম ও অ্যাসপিরিনের মতো কিছু ঔষধ শরীর থেকে বের হওয়ার গতি বদলে যেতে পারে।
কারা খাবেন না
কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে। পটাশিয়ামযুক্ত পণ্য: কিডনির গুরুতর রোগ বা রক্তে পটাশিয়াম বেশি থাকলে। সোডিয়ামযুক্ত পণ্য: যাদের লবণ কঠোরভাবে কমাতে হয়, যেমন হার্ট ফেইলিওরের রোগী। পাথর তৈরি করে এমন জীবাণুর সক্রিয় মূত্রনালির সংক্রমণে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া প্রস্রাব ক্ষারীয় করার ঔষধ ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত হালকা: পেটে অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া ও পেট ফাঁপা। পানিতে না মিশিয়ে ঘন ঘন অম্লীয় পানীয় খেলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে পারে। যোনিপথের জেলে হালকা জ্বালা বা অস্বস্তি হতে পারে।
মাংসপেশি দুর্বলতা, ঝিনঝিন ভাব, ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা বিভ্রান্তি (রক্তে পটাশিয়াম বেশির লক্ষণ), কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, তীব্র পেটব্যথা, অথবা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সাইট্রিক অ্যাসিড খাবারেরই স্বাভাবিক উপাদান, তাই ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলেই ধরা হয়। তবে গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মিশ্রিত ঔষধগুলো শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
কিডনির রোগ, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে, বা কম লবণ বা কম পটাশিয়ামের খাবার খেতে হলে সাবধানে ব্যবহার করুন। খাওয়ার ঔষধ সবসময় পানিতে মিশিয়ে নিন। প্রস্রাবের সমস্যা ২ দিনের বেশি থাকলে, জ্বর বা প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে, বা বদহজম বারবার ফিরে এলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পেটের গোলমাল ও ডায়রিয়া হতে পারে। পটাশিয়াম বা সোডিয়ামযুক্ত পণ্য বেশি খেলে শরীরের লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে হৃৎপিণ্ডে প্রভাব পড়তে পারে। চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রস্রাব ক্ষারীয়কারক; অ্যান্টাসিডের উপাদান; যোনিপথের pH নিয়ন্ত্রক (মিশ্রিত ঔষধে ব্যবহৃত)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। আর্দ্রতা থেকে বাঁচাতে স্যাশে ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।