ব্যবহার
ক্লাভুলানিক অ্যাসিড একা ব্যবহার হয় না। এটি অ্যামোক্সিসিলিনের (একটি পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক) সাথে মিলিয়ে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় দেওয়া হয়, যেমন:
- কান, সাইনাস, গলা ও টনসিলের সংক্রমণ।
- ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়ার মতো বুকের সংক্রমণ।
- মূত্রনালির সংক্রমণ।
- পশু বা মানুষের কামড়সহ ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ।
- দাঁতের সংক্রমণ ও ফোড়া।
- হাড়, গিঁট ও পেটের ভেতরের সংক্রমণ, সাধারণত হাসপাতালে।
সর্দি-কাশি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
কিছু ব্যাকটেরিয়া বিটা-ল্যাকটামেজ নামের এনজাইম তৈরি করে, যা অ্যামোক্সিসিলিনকে নষ্ট করে দেয়। ক্লাভুলানিক অ্যাসিড এই এনজাইমকে আটকে দেয়, ফলে অ্যামোক্সিসিলিন সুরক্ষিত থাকে এবং ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর নষ্ট করে আরও বেশি ধরনের ব্যাকটেরিয়া মারতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক, ট্যাবলেট: সাধারণত ১টি ৬২৫ mg ট্যাবলেট (৫০০ mg অ্যামোক্সিসিলিন ও ১২৫ mg ক্লাভুলানিক অ্যাসিড) দিনে ৩ বার, অথবা ১টি ১ g ট্যাবলেট (৮৭৫ mg ও ১২৫ mg) দিনে ২ বার, সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিন, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- শিশু: সিরাপের মাত্রা ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের পরামর্শে।
- ইনজেকশন হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স দেন।
- কিডনির রোগ থাকলে ডাক্তার কম মাত্রা দিতে পারেন।
পেটের অস্বস্তি কমাতে ও ভালো শোষণের জন্য খাবারের শুরুতে খান। ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিন ও এ ধরনের রক্ত পাতলা করার ঔষধ: রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে; রক্ত পরীক্ষা লাগতে পারে।
- মেথোট্রেক্সেট: মাত্রা বেড়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে।
- অ্যালোপুরিনল: ত্বকে র্যাশের সম্ভাবনা বাড়ে।
- প্রোবেনেসিড অ্যামোক্সিসিলিনের মাত্রা বাড়ায়।
- মাইকোফেনোলেট: মাত্রা কমে যেতে পারে।
- বমি বা পাতলা পায়খানা হলে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে; এমন হলে অতিরিক্ত সুরক্ষা নিন।
কারা খাবেন না
- পেনিসিলিনে এলার্জি, বা সেফালোস্পোরিন বা অন্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে মারাত্মক এলার্জি হয়ে থাকলে।
- আগে অ্যামোক্সিসিলিন-ক্লাভুলানিক অ্যাসিড খেয়ে জন্ডিস বা লিভারের সমস্যা হয়ে থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: পাতলা পায়খানা, বমি বমি ভাব, বমি, বদহজম, মুখ বা যোনিতে ছত্রাক সংক্রমণ এবং হালকা র্যাশ। লিভারের সমস্যা হতে পারে, কখনও চিকিৎসার সময় বা শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরেও; বয়স্কদের ও দীর্ঘ কোর্সে এর সম্ভাবনা বেশি। মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট, ফোসকা বা ত্বক উঠে যাওয়া ছড়ানো র্যাশ, ত্বক বা চোখ হলুদ, গাঢ় প্রস্রাব বা ফ্যাকাশে পায়খানা, অথবা তীব্র বা রক্তমিশ্রিত পাতলা পায়খানা (ঔষধ শেষের কয়েক সপ্তাহ পরেও হতে পারে) হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহার হয়; প্রসবের কাছাকাছি কিছু অবস্থায় ডাক্তার অন্য অ্যান্টিবায়োটিক বেছে নিতে পারেন। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়। সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানোর সাথে চলে, তবে শিশুর পাতলা পায়খানা, ছত্রাক বা র্যাশ হলে ডাক্তারকে জানান।
সতর্কতা
এলার্জি, লিভার বা কিডনির রোগ, বা গ্ল্যান্ডুলার ফিভার (ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস) থাকলে ডাক্তারকে জানান, কারণ এতে র্যাশের সম্ভাবনা বাড়ে। শুধু প্রেসক্রিপশনে সঠিক মাত্রায় ও পুরো কোর্স খান; এতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ হয়। চিকিৎসার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে মূলত বমি বমি ভাব, বমি ও পাতলা পায়খানা হয়। খুব বেশি মাত্রায়, বিশেষ করে কিডনির সমস্যা থাকলে, ক্ষেত্রবিশেষে প্রস্রাবে ক্রিস্টাল বা খিঁচুনি হতে পারে। চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বিটা-ল্যাকটামেজ ইনহিবিটরসহ পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
ট্যাবলেট: ২৫°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আর্দ্রতা থেকে রক্ষার জন্য মূল প্যাকেটে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সিরাপ বানানোর পাউডার: ২৫°C এর নিচে রাখুন; পানি মেশানোর পর ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন এবং ৭ দিনের মধ্যে শেষ করুন, বা প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।