ব্যবহার
- জেল ও লোশন: ব্রণ, সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি।
- যোনিপথের ক্রিম: ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস (যোনিপথের একটি সাধারণ সংক্রমণ, যাতে মাছের মতো গন্ধযুক্ত স্রাব হয়)।
- ক্যাপসুল, সাসপেনশন ও ইনজেকশন: ত্বক ও নরম টিস্যু, হাড় ও গিঁট, দাঁত ও মাড়ি, বুক, পেট ও তলপেটের গুরুতর ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ। পেনিসিলিনে এলার্জি থাকলে প্রায়ই এটি বেছে নেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
ক্লিন্ডামাইসিন লিংকোসামাইড গ্রুপের একটি অ্যান্টিবায়োটিক। এটি ব্যাকটেরিয়াকে বেড়ে ওঠার জন্য দরকারি প্রোটিন তৈরি করতে দেয় না। ত্বকের অনেক ব্যাকটেরিয়া এবং অক্সিজেন ছাড়া বাঁচে এমন ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে এটি ভালো কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ব্রণের জেল বা লোশন (১%): ত্বক ধুয়ে শুকিয়ে নিন, তারপর দিনে দুইবার আক্রান্ত জায়গায় পাতলা করে লাগান। উন্নতি পেতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ লাগে।
যোনিপথের ক্রিম (২%): ৩ থেকে ৭ রাত, রাতে শোয়ার সময় এক অ্যাপ্লিকেটর ভর্তি ক্রিম যোনিপথে, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
ক্যাপসুল, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত প্রতি ৬ ঘণ্টা পরপর ১৫০ mg থেকে ৩০০ mg; গুরুতর সংক্রমণে প্রতি ৬ ঘণ্টায় ৪৫০ mg পর্যন্ত, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। সোজা হয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে পূর্ণ এক গ্লাস পানি দিয়ে গিলে ফেলুন।
শিশু: সাসপেনশনের মাত্রা ওজন অনুযায়ী, প্রেসক্রিপশন মেনে। ইনজেকশন: হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স দেন।
ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ইরাইথ্রোমাইসিন: ক্লিন্ডামাইসিনের কাজে বাধা দেয়; একসাথে ব্যবহার হয় না।
- অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত পেশি শিথিলকারী ঔষধ: এগুলোর প্রভাব বাড়তে পারে।
- ওয়ারফারিন: রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা করা লাগতে পারে।
- যোনিপথের ক্রিম: ব্যবহারের সময় ও পরের ৩ দিন ল্যাটেক্স কনডম ও ডায়াফ্রাম দুর্বল করে দিতে পারে।
- ব্রণের অন্য পণ্য: একসাথে ত্বক শুষ্ক করে এমন পণ্য (যেমন বেনজয়েল পারক্সাইড বা ট্রেটিনয়েন) লাগালে জ্বালা বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
- ক্লিন্ডামাইসিন বা লিংকোমাইসিনে এলার্জি থাকলে
- আগে অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে অন্ত্রে প্রদাহ (অ্যান্টিবায়োটিকজনিত কোলাইটিস) হয়ে থাকলে
- আলসারেটিভ কোলাইটিস বা ক্রোনস ডিজিজের মতো অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ (ত্বক ও যোনিপথের ঔষধের ক্ষেত্রেও)
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ক্যাপসুল ও ইনজেকশন: ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা, মুখে ধাতব স্বাদ ও ত্বকে র্যাশ।
জেল ও লোশন: ত্বক শুষ্ক হওয়া বা চামড়া ওঠা, লাল হওয়া, জ্বালা বা চুলকানি। যোনিপথের ক্রিম: যোনিপথে জ্বালা বা ছত্রাক সংক্রমণ।
পেট কামড়ানোর সাথে তীব্র, পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া হলে, এমনকি ঔষধ বন্ধের কয়েক সপ্তাহ পরেও (এটি অন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ হতে পারে); ফোসকা পড়া বা চামড়া ওঠা র্যাশ; ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া; অথবা মুখ ফুলে শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ডায়রিয়া বন্ধের ঔষধ, যেমন লোপেরামাইড, খাবেন না।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
স্পষ্ট প্রয়োজন হলে গর্ভাবস্থায় ক্যাপসুল ও ইনজেকশন ব্যবহার করা যায়। জেল খুব সামান্য শোষিত হয়, তবু গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। যোনিপথের ক্রিম গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন। মুখে খাওয়া ক্লিন্ডামাইসিন বুকের দুধে যায় এবং শিশুর ডায়রিয়া বা ছত্রাক সংক্রমণ করতে পারে; শিশুর দিকে খেয়াল রাখুন ও ডাক্তারকে জানান। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনের আশেপাশে জেল লাগাবেন না।
সতর্কতা
- অ্যান্টিবায়োটিক শুধু ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে ব্যবহার করুন, সর্দি-কাশি বা ফ্লুতে নয়।
- জেল ও লোশন চোখ, মুখ, নাকের ভেতর ও কাটা-ছেঁড়া ত্বক থেকে দূরে রাখুন।
- দীর্ঘদিন মুখে খেলে লিভার ও কিডনির পরীক্ষা লাগতে পারে।
- আগে অন্ত্রের কোনো সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ক্যাপসুল খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। জেল বা লোশন বেশি পরিমাণে গিলে ফেললে তা শরীরে শোষিত হতে পারে। দুই ক্ষেত্রেই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিবায়োটিক (লিংকোসামাইড)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জেল, লোশন বা ক্রিম ফ্রিজে জমাবেন না। সাসপেনশন তৈরির পর প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।