ব্যবহার
ক্লিন্ডামাইসিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক। এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে ব্যবহার হয়, যেমন:
- ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ, যেমন ফোড়া, পুঁজভরা ফোলা ও সংক্রমিত ক্ষত।
- হাড় ও গাঁটের সংক্রমণ।
- দাঁত ও গলার সংক্রমণ, বিশেষ করে যাদের পেনিসিলিনে অ্যালার্জি আছে।
- বুক, পেট বা তলপেটের সংক্রমণ (প্রায়ই অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে)।
- ব্রণে ত্বকে লাগানোর জেল বা লোশন হিসেবে, এবং ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিসে যোনিতে ব্যবহারের ক্রিম হিসেবে।
কীভাবে কাজ করে
ক্লিন্ডামাইসিন ব্যাকটেরিয়াকে বেড়ে ওঠা ও বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করতে দেয় না। এতে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংক্রমণ দূর করতে পারে। এটি কিছু প্রতিরোধী স্ট্যাফিলোককাসসহ ত্বকের অনেক ব্যাকটেরিয়া এবং অক্সিজেন ছাড়া বাড়ে এমন ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ভালো কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ক্যাপসুল, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ১৫০ থেকে ৩০০ mg ৬ ঘণ্টা পরপর। গুরুতর সংক্রমণে ডাক্তার ৬ ঘণ্টা পরপর ৪৫০ mg পর্যন্ত দিতে পারেন।
- ইনজেকশন: ডাক্তার বা নার্স মাংসপেশি বা শিরায় দেন, মাত্রা তাঁরাই ঠিক করেন।
- ব্রণের জেল বা লোশন: আক্রান্ত জায়গায় দিনে ২ বার পাতলা করে লাগান, নির্দেশমতো।
- যোনিতে ব্যবহারের ক্রিম: ডাক্তারের নির্দেশমতো, সাধারণত নির্দিষ্ট কয়েক রাত ঘুমানোর আগে।
- শিশু: ওজন অনুযায়ী, শুধু ডাক্তারের নির্দেশমতো।
গলায় জ্বালা এড়াতে ক্যাপসুল এক গ্লাস পানি দিয়ে গিলুন, এবং খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়বেন না। ভালো বোধ করলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ইরিথ্রোমাইসিন এর কাজ কমাতে পারে; সাধারণত একসাথে ব্যবহার করা হয় না।
- অপারেশনের সময় ব্যবহৃত মাংসপেশি শিথিলকারক ঔষধ: ক্লিন্ডামাইসিন এদের কাজ বাড়াতে পারে।
- রিফাম্পিসিন এর মাত্রা কমাতে পারে।
- ওয়ারফারিন: এর কার্যকারিতা বাড়তে পারে; রক্ত পরীক্ষা লাগতে পারে।
- যোনিতে ব্যবহারের ক্রিম ব্যবহারের সময় ও কয়েক দিন পর পর্যন্ত ল্যাটেক্স কন্ডম ও ডায়াফ্রাম দুর্বল করতে পারে।
কারা খাবেন না
- ক্লিন্ডামাইসিন বা লিঙ্কোমাইসিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- আগে অ্যান্টিবায়োটিকজনিত অন্ত্রের সংক্রমণ (ক্লোস্ট্রিডিওয়েডস ডিফিসিল কোলাইটিস) হয়ে থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ডায়রিয়া, বমিভাব, পেটব্যথা, মুখে ধাতব স্বাদ ও র্যাশ। ত্বকে লাগানোর পণ্যে শুষ্কতা, চামড়া ওঠা ও জ্বালা হতে পারে।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি পেট কামড়ানি বা জ্বরের সাথে তীব্র, পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া হয়, যা চিকিৎসার সময় বা বন্ধের ২ মাস পর্যন্ত হতে পারে; এ অবস্থায় ডায়রিয়া বন্ধের ঔষধ খাবেন না। গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ (মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট), ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়ার মতো তীব্র র্যাশ, অথবা ত্বক বা চোখ হলুদ হলেও দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি বুকের দুধে যায় এবং কখনো কখনো শিশুর পেটে সমস্যা করতে পারে; শিশুর ডায়রিয়া, থ্রাশ বা র্যাশ হচ্ছে কি না খেয়াল রাখুন। ত্বক ও যোনিতে ব্যবহারের পণ্য সামান্য পরিমাণে রক্তে যায়।
সতর্কতা
- অনেক অ্যান্টিবায়োটিকের চেয়ে এতে অ্যান্টিবায়োটিকজনিত গুরুতর ডায়রিয়ার ঝুঁকি বেশি; আগে অন্ত্রের রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- লিভার বা কিডনি রোগে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- দীর্ঘ কোর্সে রক্ত পরীক্ষা দরকার।
- ত্বকের পণ্য চোখ, মুখ ও কাটা-ছেঁড়া ত্বক থেকে দূরে রাখুন।
- প্রতিরোধ কমাতে শুধু ডাক্তারের নির্দেশমতো অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র পেটের গোলমাল ও ডায়রিয়া হতে পারে। ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন বা দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
লিঙ্কোসামাইড অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। প্যাকেটে না বললে ত্বকের জেল ফ্রিজে রাখবেন না বা জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।