ব্যবহার
ক্লোবেটাসল প্রোপিওনেট খুব শক্তিশালী একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড), যা অল্প সময়ের জন্য ত্বক ও মাথার ত্বকে লাগানো হয়। কম শক্তির স্টেরয়েডে কাজ না হলে তীব্র প্রদাহজনিত চর্মরোগে এটি ব্যবহার হয়, যেমন:
- তীব্র বা সহজে না সারা একজিমা ও ডার্মাটাইটিস।
- সোরিয়াসিস (সারা শরীরে ছড়ানো প্লাক সোরিয়াসিস ছাড়া)।
- লাইকেন প্ল্যানাস, ডিসকয়েড লুপাস এবং ডাক্তারের পরামর্শে অন্যান্য প্রদাহজনিত চর্মরোগ।
কীভাবে কাজ করে
এটি ত্বকের স্থানীয় রোগ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া শান্ত করে প্রদাহ কমায়, ফলে লালচে ভাব, ফোলা, চুলকানি ও আঁশ ওঠা কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক: আক্রান্ত ত্বকে দিনে ১ বা ২ বার পাতলা করে লাগিয়ে আলতো করে মালিশ করুন। যত কম সময় সম্ভব ব্যবহার করুন, সাধারণত ৪ সপ্তাহের বেশি নয়, এবং সপ্তাহে ৫০ গ্রামের বেশি ক্রিম বা মলম নয়। ত্বক ভালো হলে ডাক্তার ব্যবহার কমাতে বা হালকা স্টেরয়েডে বদলাতে পারেন।
- ডাক্তার না বললে মুখ, কুঁচকি বা বগলে লাগাবেন না।
- শিশু: বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়, আর ১ বছরের কম বয়সী শিশুকে কখনো নয়।
লাগানোর পর হাত ধুয়ে ফেলুন, যদি না হাতেই চিকিৎসা চলে। পরামর্শ ছাড়া ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢাকবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ত্বকে ব্যবহারে প্রতিক্রিয়া কম হয়। রিটোনাভির ও ইট্রাকোনাজোলের মতো যেসব ঔষধ এর ভাঙন ধীর করে, সেগুলো শরীরে শোষিত পরিমাণ ও স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একই জায়গায় একসাথে অন্য স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করবেন না।
কারা খাবেন না
- ক্লোবেটাসল বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- চিকিৎসা না করা ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ভাইরাসজনিত ত্বকের সংক্রমণে (যেমন ঠোঁটের ঘা, জলবসন্ত, দাদ)।
- রোজেশিয়া, ব্রণ এবং মুখের চারপাশের র্যাশে (পেরিওরাল ডার্মাটাইটিস)।
- প্রদাহ ছাড়া মলদ্বার বা যৌনাঙ্গের চারপাশে চুলকানিতে।
- ১ বছরের কম বয়সী শিশু।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
লাগানোর জায়গায় জ্বালা, হুল ফোটার মতো অনুভূতি বা চুলকানি। বেশি দিন ব্যবহারে ত্বক পাতলা হওয়া, স্ট্রেচ মার্ক, ছোট রক্তনালি দেখা যাওয়া, ত্বকের রং বদল, ব্রণ, লোম বাড়া এবং সহজে কালশিটে পড়া হতে পারে। বেশি পরিমাণে বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ঔষধ শরীরে শোষিত হয়ে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি, রক্তের শর্করা ও রক্তচাপের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর হঠাৎ বন্ধ করলে চর্মরোগ বেড়ে যেতে পারে।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি মারাত্মক অ্যালার্জির লক্ষণ (মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট), ত্বকের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, ঝাপসা দেখা বা চোখে ব্যথা হয়, অথবা দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর বন্ধ করে খুব দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা হয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তারের পরামর্শে, অল্প জায়গায় ও অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় প্রয়োজন হলেই ব্যবহার করুন এবং কখনো স্তনে লাগাবেন না।
সতর্কতা
- চোখ থেকে দূরে রাখুন; চোখের পাতায় দীর্ঘদিন ব্যবহারে গ্লুকোমা বা ছানি হতে পারে।
- পরামর্শের চেয়ে বেশি দিন ব্যবহার করবেন না; দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর ডাক্তারের পরামর্শে ধীরে ধীরে বন্ধ করুন।
- সোরিয়াসিসে সাবধান থাকুন, কারণ হঠাৎ বন্ধ করলে কখনো কখনো রোগ তীব্রভাবে বেড়ে যায়।
- ত্বকে বা কাপড়ে বেশি পরিমাণ মলম লেগে থাকলে ধূমপান করবেন না বা আগুনের কাছে যাবেন না, কারণ মলম-ভেজা কাপড় সহজে আগুন ধরে।
- রোগ বাড়লে বা ২ থেকে ৪ সপ্তাহে উন্নতি না হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
দীর্ঘদিন বেশি ব্যবহারে কুশিং সিনড্রোম ও অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির কাজ কমে যাওয়ার মতো হরমোনজনিত সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে ব্যবহার কমাতে হবে। কেউ গিলে ফেললে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারের কর্টিকোস্টেরয়েড (অত্যন্ত শক্তিশালী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।